সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। কিন্তু পথের ধারে যখন সে বসে থাকে বা ইতিউতি খাবারের সন্ধানে ঢুঁ মারে, তখন বড় মায়া লাগে। অনেকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু একটু খাবার আর আদর পেলে আর কিচ্ছুটি চাই না তাদের। মানুষের এই পরম বন্ধু সারমেয়ও যে প্রয়োজন পড়লে অনেক বাহাদুরি দেখাতে পারে তারই প্রমাণ মিলল সাম্বালে। রাস্তার সারমেয়ই কি না সেনাঘাঁটিতে জঙ্গিদের হামলার ছক বানচাল করে দিল।
[অনুপ্রবেশের ছক বানচাল করে দুই জঙ্গিকে নিকেশ করল সেনা, শহিদ এক জওয়ান]
তখনও ভোরের আলো ফোটেনি৷ নিস্তব্ধ সিআরপিএফ ক্যাম্প৷ অধিকাংশ জওয়ানরাই তখন ঘুমিয়ে পড়েছেন৷ রাত জাগা শুধু রাইফেল হাতে রক্ষীরা৷ তখনই অন্ধকারে গুটিগুটি পায়ে সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে চার ফিঁদায়ে জঙ্গি৷ উদ্দেশ্য, অতর্কিতে হামলা চালিয়ে জওয়ানদের হত্যা করা ও সেনাঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া৷ তবে তাদের পরিকল্পনায় বাধ সাধে একটি সারমেয়৷ কুকুরটিকে জওয়ানরাই দয়াপরবশ রাস্তা থেকে তুলে এনেছিলেন৷ জঙ্গিরা সেনাঘাঁটিতে প্রবেশ করার চেষ্টা করতেই বিপদের গন্ধ পেয়ে প্রবল ভাবে ডেকে ওঠে প্রভুভক্ত সারমেয়টি৷ তার ডাকেই সতর্ক হয়ে যায় প্রহরায় থাকা রক্ষীরা৷ হামলার রাতে প্রহরায় ছিলেন কনস্টেবল কে দীনেশ রাজা৷ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, যে হটাৎ করে কুকুরটি ডেকে উঠায় সতর্ক হয়ে যান তাঁরা৷ আর ঠিক তক্ষুনি ছুটে আসে এক ঝাঁক গুলি৷ কুকুরের ডাকে ভয় পেয়ে জঙ্গিরা গুলি চালিয়ে বসে আর তাতেই নজরে পড়ে যায় তারা৷ জঙ্গিদের দেখতে পেয়ে রাজা ও ওয়াচটাওয়ারে থাকা প্রফুল্ল কুমার নামের জওয়ান হামলা চালান৷ প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে চলা গুলির লড়াইয়ের পর নিকেশ হয় চার জঙ্গি৷ সিআরপিএফ কমান্ডেন্ট ইকবাল আহমেদ জানিয়েছেন, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলা চালাতে এসেছিল জঙ্গিরা৷ তবে জওয়ানদের সতর্কতার জন্য তাদের পরিকল্পনা বিফল হয়ে যায়৷
[মহিলাদের যৌন চাহিদা কমাতে আজব বিধান ইমামের, ভাইরাল ভিডিও]
উল্লেখ্য, সোমবার সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা চালাতে এসে সেনার গুলিতে নিকেশ হয় চার সশস্ত্র জঙ্গি৷ জম্মু ও কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলার সাম্বালে সেনা-জঙ্গিদের মধ্যে ভারী গুলির লড়াই চলে৷ ভোর ৩.৪৫ নাগাদ বান্দিপোরার সাম্বালে ৪৫ ব্যাটেলিয়ন সিআরপিএফ ক্যাম্পে অতর্কিতে হামলা চালায় ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ওই ৪ পাক জঙ্গি৷ ক্যাম্পের নিরাপত্তা ভবন লক্ষ্য করে তীব্র গুলিবর্ষণ করতে থাকে জঙ্গিরা৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীও সজাগ ছিল৷ তাঁরাও পাল্টা গুলি ছুড়তে শুরু করে৷ সেনার এক মুখপাত্র জানান, জঙ্গিরা আত্মঘাতী হামলা চালাতে এসেছিল৷ বিস্ফোরক ঠাসা জ্যাকেট পরে সেনা ক্যাম্পে ঢুকে নিজেদের উড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য ছিল জঙ্গিদের৷ কিন্তু সেনার উপস্থিত বুদ্ধি ক্যাম্পের মূল প্রবেশপথের বাইরেই জঙ্গিদের আটকে রাখে৷ তাদের লক্ষ্য করে তীব্র গুলিবর্ষণ করতে থাকে সশস্ত্র বাহিনী৷ গুলিতে মারা পড়ে চার জঙ্গিই৷ জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় চারটি এ কে ৪৭ রাইফেল, বেশ কয়েকটি গ্রেনেড-সহ অন্যান্য বিস্ফোরক৷
সর্বশেষ খবর
-
ধর্মতলায় সমাবেশের অনুমতি মেলেনি, ‘কলকাতা চলো’ পোস্টারেই সান্ত্বনা খুঁজছে কালীঘাট তৃণমূল!
-
ঋতব্রতর দলই ‘আসল’ তৃণমূল! দলীয় কর্মীদের মামলার রায়ে জানিয়ে দিল আলিপুর আদালত
-
তাজ হোটেলে বোমা রেখেছে দাউদের লোক! পুলিশকে ফোন, মুম্বইয়ে ব্যাপক আতঙ্ক
-
তিন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার নজির, চেনেন এই ‘চ্যাম্পিয়ন’ ফুটবলারকে?
-
‘কম্বলের নিচে আমার যৌনাঙ্গে…’, কৈশোরে যৌন হেনস্তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভাগ রাম কাপুরের