অযোধ্যা রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ‘সিট গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এর মধ্যেই নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে সিবিআই তদন্তের দাবিতে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার জানা গেল, রাম মন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত ওই তিন মামলার শুনানি হবে আগামী ১৩ জুলাই। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি হবে সংবেদনশীল তথা বিতর্কিত মামলাগুলির।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে তিন হাজার কোটি টাকার চুরিতে প্রশ্নের মুখে খোদ শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্যরা। ঘটনায় মুখ পুড়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকারেরও। যদিও তড়িঘড়ি সিট গঠন করে বিতর্ক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে যোগী প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তের পর আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এমনকী শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পদত্যাগী প্রধান চম্পত রাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারীরা। এই অবস্থায় রাম মন্দিরে চুরির মামলা সুপ্রিম কোর্টে ওঠায় অস্বস্তি বাড়ল গেরুয়া শিবিরের। জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের তিনটি আবেদনে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেনের সিএজি অডিট, সিবিআই তদন্ত, ফরেন্সিক অডিট এবং ব্যাঙ্ক, ইউপিআই ও ডিজিটাল নথি সংরক্ষণের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী বাদল অধিবেশনে বিরোধী শিবিরের অন্যতম ইস্যু হতে চলেছে রাম মন্দিরে অনুদান চুরি।
এদিকে চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। যদিও সঙ্ঘের বক্তব্য, ঘটনাটিকে এমন ভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যাতে হিন্দু সমাজ এবং ভগবান রামের লক্ষ লক্ষ ভক্তের অনুভূতি ও বিশ্বাস গভীরভাবে আহত হচ্ছে। দেশবিরোধী শক্তিগুলো হিন্দুধর্মকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে বলেন, “হিন্দু-বিরোধী ও দেশবিরোধী শক্তিগুলো” “এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা”-কে কাজে লাগিয়ে হিন্দু ধর্মকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। এই কঠিন সময় মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ কতে হবে। যোগ করেন আশা করি, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের গঠন করা তদন্ত কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরকে তোপ দাগছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলি। এই অবস্থায় পালটা ওয়াকফ জমি দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে দুই বিরোধী দলকে আক্রমণ শানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। প্রতাপগড়ে একটি জনসভায় যোগী বলেন, একটিমাত্র ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী দলগুলি হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে লক্ষ্যবস্তু করছে, অযোধ্যার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে খর্ব করার চেষ্টা করছে। নিজের ভাষণে যোগী বলেন, “আজ অযোধ্যা সবাইকে আকৃষ্ট করছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষ অযোধ্যায় আসছেন, এটাই বিরোধীদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছে।” দুই প্রধান বিরোধী দলকে তীব্র আক্রমণ করে আদিত্যনাথ মন্তব্য করেন, সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের ঘন ঘন রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন, ভোলবদলে গিরগিটিও লজ্জা পাবে।
সর্বশেষ খবর
-
মরক্কোর হারে চোখে জল নোরার, ‘প্রেমিক’ হাকিমির জন্য কী লিখলেন?
-
‘ভারত যেদিন খেলবে, রাত জাগব’, বিশ্বকাপে এবার ‘ছোট’ দলকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে চান তথাগত
-
জ্যোতিষী থেকে কোটিপতি, তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানকে ‘ডিমথেরাপি’, কাদা-গোবর মাখাল জনতা!
-
আসানসোলে ‘সরাসরি দিদিভাই’, পুরমন্ত্রীর নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জি টি রোডে বুলডোজার অ্যাকশন!
-
ধর্মান্তরণে চাপ, মাথায় ল্যাপটপ দিয়ে মার সহপাঠীর! মুসলিম দেশে বেঘোরে মৃত্যু কেরলের তরুণীর