২ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কালো টাকা উদ্ধারে মোদিকে আশ্বাস সুইস প্রেসিডেন্টের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 7, 2016 12:59 pm|    Updated: June 7, 2016 12:59 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের পাশে দাঁড়াল সুইজারল্যান্ড৷ কালো টাকা থেকে পরমাণু সরবরাহ গোষ্ঠীতে যোগ– নয়াদিল্লিকে সমর্থনের আশ্বাস জেনিভার৷
পাঁচ দেশের সফরের মাঝে রবিবার সুইজারল্যান্ড পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ দেখা করেন সুইস প্রেসিডেন্ট ইওহান স্নেইডার আম্মানের সঙ্গে৷ সেখানেই এই সফরের অন্যতম প্রধান সাফল্য পেলেন মোদি৷ সুইজারল্যান্ড জানিয়ে দিল, পরমাণু বিদ্যুতের জন্য জ্বালানি সরবরাহকারী গোষ্ঠীতে ভারতের অন্তর্ভুক্তিতে সায় রয়েছে তাদের৷ একই সঙ্গে সুইস ব্যাঙ্কগুলিতে ভারতীয়দের জমা থাকা কর বহির্ভূত কালো টাকা উদ্ধারের বিষয়েও নয়াদিল্লির সঙ্গে সবরকমে সহযোগিতা করবে জেনিভা৷ ইওহান স্নেইডার আম্মানের সঙ্গে সোমবার দীর্ঘ বৈঠক করেন মোদি৷ দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ দীর্ঘ বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন তাঁরা৷ সাংবাদিকদের সামনে সুইস প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন, ভারতকে সবরকমের সাহায্য করবে তাঁর দেশ৷ সুইস প্রশাসনের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট মোদি ধন্যবাদ জানিয়েছেন আম্মানকে৷
পরমাণু সরবরাহকারী গোষ্ঠী বা এনএসজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সুইজারল্যান্ড৷ তাই গোষ্ঠীতে অন্যতম সদস্য হিসাবে ভারতের অন্তর্ভূক্তি বিষয়ে তাদের সম্মতি নিশ্চিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ৷ আমেরিকা-সহ বেশ কিছু দেশই ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ কিন্তু বেজিং শুরু থেকেই এ ব্যাপারে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে আসছে৷ চিনের দাবি, ভারত যেহেতু পরমাণু অস্ত্র প্রসার চুক্তি বা এনটিপি (নিউক্লিয়ার প্রোলিফারেশন ট্রিটি) স্বাক্ষর করেনি, তাই এই গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া উচিত হবে না৷ কিন্তু সুইজারল্যান্ড এ ব্যাপারে ভারতের পাশে দাঁড়ানোয় ভারতের জন্য এই এলিট ক্লাবের সদস্যপদ পাওয়া অনেকটা সহজ হয়ে দাঁড়াল৷
পাশাপাশি কালো টাকা প্রসঙ্গেও নরেন্দ্র মোদিকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড৷ ইওহান আম্মানের দেশ জানিয়েছে তাদের দেশে যে সমস্ত ভারতীয়ের অ্যাকাউন্ট রয়েছে সে সম্পর্কে তথ্য দিয়ে নয়াদিল্লিকে সাহায্য করবে তারা৷ ক্ষমতায় আসার আগে থেকে করবহির্ভূত কালো টাকা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল বিজেপির কাছে৷ কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেও বিষয়টিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে মোদি প্রশাসন৷ ইতিমধ্যে বিদেশি ব্যাঙ্কে কর বহির্ভূত টাকা জমা রাখা ব্যক্তিদের নামের তালিকাও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের হাতে এসে পৌঁছেছে৷ আয় বহির্ভূত রোজগার ঘোষণা করার জন্য দু’দফায় সময়সীমাও বেঁধে দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী৷ কিন্তু এখনও সমস্ত নাম প্রকাশিত হয়নি৷ সেই বিষয়ে ভারতকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে জেনিভা৷ কালো টাকার খোঁজে যৌথ উদ্যোগের প্রতিশ্রূতিও তারা দিয়েছে৷ কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য নিরাপদ ডেরা হিসাবে পরিচিত সুইজারল্যান্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হবে৷ ভারত ছাড়া অন্য অনেক দেশের তরফ থেকেই সুইজারল্যান্ডের উপর তাদের ব্যাঙ্কগুলিতে টাকা জমা রাখা তথ্য প্রকাশ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়৷ সুইজারল্যান্ডের তরফ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের আর্থিক নীতিও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ৷ কর ক্ষেত্রে প্রতারণা ও কর ফাঁকি রুখতে আমরা বদ্ধপরিকর৷ এ ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে যে সমস্ত তথ্য আদানপ্রদান করা প্রয়োজন আমরা তা করব৷”
মাসখানেক আগে বহুজাতিক এইচএসবিসি ব্যাঙ্কের জেনিভা শাখার ভারতীয় গ্রাহকদের সম্পর্কে তথ্য ফাঁস হয়ে যায় এবং সেই তালিকায় থাকা ভারতীয়দের নামও প্রকাশ পায়৷ ইতিমধ্যেই তাদের সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছে নয়াদিল্লি৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও জানিয়েছিলেন, ভারত ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে এ বিষয়ে
চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার ফলে ওই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ভারতের হাতে এসেছে৷ এইচএসবিসির জেনিভা শাখায় ভারতীয়দের অ্যাকাউণ্টে ছ’হাজার কোটি টাকার কর বহির্ভূত অর্থ রয়েছে বলে দাবি৷ তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের তদন্ত এখনও বাকি৷
গুরুগম্ভীর বিষয়ে বৈঠকের মাঝে মোদি অবশ্য কিছু হালকা মেজাজেও ছিলেন এদিন৷ দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রের নানা অংশের শুটিং যে সুইজারল্যান্ডের বহু অঞ্চলে হয়ে থাকে সে কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের মাঝের বন্ধন বহু দিন ধরেই মজবুত৷ জেনিভায় সফল বৈঠক সেরে এদিনই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে উড়ে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী৷ বুধবার সেখানে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অভিবেশনে বক্তব্য রাখবেন তিনি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement