১৮ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

খুলি ফেটে রক্তক্ষরণে মৃত্যু, তবরেজ হত্যা মামলায় নয়া মোড়

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: September 13, 2019 11:58 am|    Updated: September 13, 2019 3:25 pm

Tabrez Ansari lynching: Report says cardiac arrest was due to skull fracture

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তবরেজ আনসারি হত্যা মামলায় নয়া মোড়। এর আগে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে মৃত্যর কারণ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ছিল বলে হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের উপর থেকে খুনের অভিযোগ প্রত্যাহার করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। চার্জশিটে খুনের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। এবার নয়া মেডিক্যাল রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। নয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, একাধিক আঘাতের ফলেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তবরেজের। মূলত, মারের চোটে খুলি ফেটে যাওয়া, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রক্তশূন্য হয়ে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠে রক্ত জমে যাওয়ার কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তবরেজ। জামশেদপুরের এমজিএম মেডিক্যাল কলেজের পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত রিপোর্টে এই মামলায় নয়া মোড় এনে দিল।

[আরও পড়ুন: তবরেজ কাণ্ডে চার্জশিটে ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ প্রত্যাহার পুলিশের]

তবরেজের মৃত্যুর পর গত জুন মাসের ১৭ তারিখ পাঁচ সদস্যের এই মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। ৬ আগস্টের নয়া মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ, তবরেজের মাথার খুলি ফেট যায় ভারী ও ভোঁতা বস্তুর আঘাতে। তার ফলে ব্রেন ও ব্রেনের উপরের স্তরের তন্তুগুলিতে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে রক্ত জমাট বেঁধে যায় খুলিতে। সূত্রের খবর, তবরেজকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ তখনও তাঁর খুলির চোটের চিকিৎসা হয়নি। খুলি ফেটে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসে ময়নাতদন্তের সময়। তার আগে হাসপাতালে শুধুমাত্র তাঁর পায়ের চোটের চিকিৎসা হয়। কিন্তু পুলিশ চার্জশিটে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা জানিয়ে খুনের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট তবরেজের মৃত্যুর কারণ নয়।

প্রসঙ্গত সরাইকেলা-খারসওয়ানের পুলিশ সুপার এর আগে জানান, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে প্রথমত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের উল্লেখ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, পরিকল্পিত খুনের উদ্দেশ্য গ্রামবাসীদের ছিল না। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও মাথায় রক্তক্ষরণের উল্লেখ রয়েছে। যদিও পুলিশের গাফিলতি এবং চিকিৎসকদের উদাসীনতাতেই মৃত্যু হয়েছে তবরেজ আনসারির, প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এমনই দাবি ছিল তদন্তকারীদের৷ মারধরের পর প্রায় চারদিন জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল তবরেজকে৷ গণপিটুনির পরই তবরেজকে তড়িঘড়ি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ওই যুবক বেঁচে যেতে পারত বলেও দাবি করেছিলেন আধিকারিকরা৷ নয়া মেডিক্যাল রিপোর্ট পুলিশের দাবি খারিজ করে দেবে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

উল্লেখ্য, ২২ বছরের যুবক তবরেজ আনসারি পুণেতে দিনমজুরের কাজ করতেন৷ ইদের ছুটি কাটাতে গ্রামে এসেছিলেন৷ পরিজনেরা তাঁর বিয়েরও বন্দোবস্ত করেছিল। গত ১৮ জুন দুজনের সঙ্গে জামশেদপুরে যাচ্ছিলেন তবরেজ৷ অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডের খারসাওয়ান দিয়ে যাওয়ার সময় চোর সন্দেহে বেশ কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে৷ সুযোগ বুঝে দুই সঙ্গী পালিয়ে যায়৷ উন্মত্ত জনতার রোষের শিকার হন তবরেজ৷ স্থানীয়রা কেউ লাঠি আবার কেউ বা হাত দিয়ে তবরেজ ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করতে থাকে৷ আক্রমণকারীদের কাছে কাকুতি মিনতি করলেও কোনও লাভ হয়নি৷ একটানা প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে এভাবেই তবরেজের উপর চলে অকথ্য অত্যাচার৷ মারধরের পাশাপাশি তবরেজকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে