BREAKING NEWS

২৩ শ্রাবণ  ১৪২৭  রবিবার ৯ আগস্ট ২০২০ 

Advertisement

আপেলে লেখা জেহাদি বুরহানের নাম, এবার সুস্বাদু ফলই হাতিয়ার কাশ্মীরি জঙ্গিদের

Published by: Monishankar Choudhury |    Posted: October 18, 2019 9:41 am|    Updated: October 18, 2019 9:41 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  জম্মু ও কাশ্মীরের আপেল বিক্রেতারা কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলার আপেল চাষি ও আপেলের পাইকারি ব‌্যবসায়ীদের কাছ থেকে আপেল কেনেন। সেই আপেল তাঁরা কেজি দরে বিক্রি করেন জম্মু, পাঞ্জাব, দিল্লি, হরিয়ানায়। সেই আপেলগুলি সবচেয়ে বেশি কেনেন কাশ্মীর ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা। এবার সেই অপেলকেই হাতিয়ার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

গত তিন-চার দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, আপেলের বাক্স বা পেটি খুললেই তাতে নীল বা কালো রংয়ের পেন দিয়ে লেখা রয়েছে, ‘আজাদি চাই’, ‘আমি বুরহান ওয়ানিকে ভালবাসি’, ‘জাকির মুসা কাম ব্যাক’, ‘হিন্দুস্থান মুর্দাবাদ’, ‘ভারতীয় সেনা দূর হটো’-র মতো নানা কথা। কাশ্মীর ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা তা কিনতে অস্বীকার করছেন। জম্মু ও সমতলের হিন্দু, শিখ ব‌্যবসায়ীরা এই সব আপেল কিনতে অস্বীকার করছেন। কোন পেটিতে বা কোন বাক্সে এসব লেখা আছে তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। এই কথাগুলি কোথাও খোদাই করা রয়েছে। কোথাও স্টিকার হিসাবে সেলোটেপ দিয়ে এঁটে দেওয়া হয়েছে। বিপদে পড়েছেন আপেলের পাইকারি বিক্রেতারা। মুসলিম বিক্রেতারাও বুঝতে পারছেন না কী করবেন। ফলে দাম দিয়ে কেনা আপেল বিক্রি হচ্ছে না। কাঠুয়া, অমৃতসর, পাঠানকোট, জম্মুর ফল বিক্রেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এ সব লেখা থাকার জন্য যাঁরা আপেল কিনতে চাইছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কোনও পদক্ষেপ না করলে কাশ্মীরি আপেল তাঁরা বয়কট করবেন। কারা এসব দেশবিরোধী কথা লিখছে পুলিশ ও প্রশাসন খুঁজে বের করুক।

কাঠুয়ার পাইকারি বাজারের সভাপতি রোহিত গুপ্তার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান ও জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। রোহিত গুপ্তা জানিয়েছেন, যে সব বাক্সের আপেলে ওই সব লেখা ছিল, সেগুলি কাশ্মীর থেকে এসেছে। কথাগুলি লেখা ছিল ইংরেজি ও উর্দুতে। দেশবিরোধী এই সব স্লোগান বরদাস্ত করবেন না জম্মু ও কাশ্মীরের হিন্দু এবং শিখ ব‌্যবসায়ীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রত্যেক ফলবিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হিজবুল মুজাহিদিনের অন্যতম কমান্ডার জাকির মুসা ভারতে আল কায়দার শাখা প্রতিষ্ঠা করেছিল। বুরহান ওয়ানি ছিল কাশ্মীরি জঙ্গি, সেও হিজবুল মুজাহিদিনের সক্রিয় সদস্য ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। দুই জঙ্গি নেতাকেই খতম করেছে ভারতীয় সেনা। ভারতের সংবিধান থেকে অস্থায়ী ৩৭০ ধারা ও ৩৫এ ধারা কেন্দ্রীয় সরকার বিলোপ করার পরে কাশ্মীরের টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না টানা ৭২ দিন। তারপর পোস্টপেড লাইন নামেই চালু হয়েছে, টাওয়ারের সমস‌্যা রয়েছে। ইন্টারনেটও নেই বললেই চলে। সাধারণ মানুষের জমায়েতও নিষিদ্ধ। তবে এই অবস্থার মধ্যেও যে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় রয়েছে ও নানাভাবে বার্তা পাঠানোর অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট বুধবারের ঘটনাতেই।

ব‌্যবসায়ীদের একটি মহল, পুলিশের একাংশ জানিয়েছে, আপেল কাণ্ডের পর টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা আবার আগের মতো পুরোপুরি স্বাভাবিক করার কথা কেন্দ্রীয় সরকারকে ভাবতে হতে পারে। কারণ আপেলের মধে্য‌ উসকানিমূলক বার্তা লিখে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীরা যদি বার্তা দিতে পারে তাহলে তারা ফলের পেটিতে বিস্ফোরক বোঝাই করে নাশকতাও চালাতে পারে। মনে করা হচ্ছে, স্থানীয় ব‌্যবসায়ীদের একাংশকে হাত করে হিজবুল মুজাহিদিন এইভাবে বার্তা ছড়াচ্ছে।

[আরও পড়ুন: অসমে ভয়াবহ নৌকাডুবি, নিখোঁজ প্রায় ৮০ জন]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement