সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘আমার চোখের সামনে বাবাকে ওঁরা মেরে ফেলল!’ কথাটা বলতে বলতে চোখে জল চলে আসছিল শিফানির। চোদ্দ বছরের কিশোরীর বাবা গত ১৯ ডিসেম্বর ম্যাঙ্গালুরুতে পুলিশের গুলিতে মারা যান। ছাপোষা দিনমজুর ৪২ বছরের জলিল আহমেদের প্রাণ গিয়েছিল বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে। দুই সন্তান শিফানি ও সাবিলকে (১০) স্কুল থেকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পরেই ঘটে যা মর্মান্তিক ঘটনা। ছেলে-মেয়ের চোখের সামনেই পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়েন জলিল। বাঁ চোখে লাগে গুলি। হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে সব শেষ। বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য তাড়া করে বেড়াচ্ছে জলিলের পরিবারকে।
সেদিন আচমকা নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ম্যাঙ্গালুরুতে। সেইসময় স্কুল থেকে ফিরছিল শিফানি ও সাবিল। রাস্তায় গন্ডগোলের মধ্যে আটকে পড়ে স্কুলের গাড়ি। গাড়ির চালক পড়ুয়াদের ফেলে পালিয়ে যায়। তখন খবর পেয়ে বাচ্চাদের নিরাপদে বাড়ি নিয়ে আসেন জলিল। কিন্তু ঠিক বাড়ির সামনেই পুলিশের গুলি লাগে তাঁর। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সেদিনের দৃশ্য বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের দুই সন্তান। বাবার মৃত্যুর জন্য পুলিশের দিকেই আঙুল তুলেছে ওরা।
[আরও পড়ুন: শান্তিপূর্ণ জমায়েতে পুলিশের লাঠিচার্জ, পালানোর সময়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল বালকের]
সেদিনের অশান্তিতে পুলিশের দাবি ছিল, ৫ থেকে ৭ হাজার বিক্ষোভকারী গন্ডগোল পাকিয়েছিল। কিন্তু জলিলের পরিবারের দাবি, পুলিশের দাবি ভুল, সেদিন মাত্র ৫০ থেকে ১০০ জনের জমায়েত ছিল। অল্পসংখ্যক মানুষকে সামলাতে না পারার জন্য পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলেছে নিহতের পরিবার। সেদিনের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয় এবং ৫০ জনের মতো গুরুতর জখম হন। নিহতদের মধ্যে একজন জলিল। কিন্তু তাঁর পরিবার জানিয়েছে, বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কই ছিল না জলিলের। কিন্তু পুলিশ তাঁকেও ছাড়েনি। বিক্ষোভের আগুন যখন ছড়ায় তখন তাঁর আঁচ থেকে কেউই রক্ষা পায় না। এ ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে স্বস্তির জয় মেসিহীন আর্জেন্টিনার, জিতলেও চোট চিন্তায় ব্রাজিল
-
বনগাঁ কাণ্ডে বারবার সমনেও গরহাজির! ‘ভুয়ো খবর’-এ আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মিমির
-
মধ্যরাতে মদন মিত্রের গাড়িতে হামলা, ছোঁড়া হল ডিম! বললেন, ‘মৃত্যুকে অনেক কাছ থেকে দেখলাম’
-
তালশাঁস তো ঢের খেয়েছেন, কিন্তু লস্যি থেকে পায়েস, সেরা ৩ সুস্বাদু রেসিপি জানেন?
-
‘বেকার বলে স্ত্রী, সন্তানের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না স্বামী’, বলল দিল্লি হাই কোর্ট