সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: দিল্লির হিংসা নিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ মু্খ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল(Arvind Kejriwal)। মঙ্গলবার আপ সুপ্রিমো নিজের দলের দুই সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে সংসদ ভবনে যান। বেশ কিছুক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় তাঁর। বৈঠকে শেষে কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দিল্লির হিংসার পাশাপাশি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ নিয়েও মোদির সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁরা।
দিল্লিতে সাম্প্রতিক হিংসায় এখনও পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই হিংসার দায় কার? তা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও কম হয়নি। এ প্রসঙ্গে এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেজরিওয়াল। অমিতের কাছে দ্রুত হিংসা থামানোর আরজি জানিয়েছিলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সেসময় তাঁকে সবরকমভাবে আশ্বস্তও করেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই ইস্যুতে দেখা করেন কেজরিওয়াল। এবারে তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর হিংসার সঙ্গে জড়িত সবাইকে যাতে দলমত নির্বিশেষে শাস্তি দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা। হিংসা চলাকালীন দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রবিবার যখন গুজব ছড়ানো হচ্ছিল, তখন ভাল কাজ করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার এবং মঙ্গলবারও যদি একইভাবে কাজ করত, তাহলে অনেক প্রাণ বাঁচানো যেত।”
[আরও পড়ুন: ‘দলের থেকেও বড় দেশ’, দিল্লির হিংসা নিয়ে বিজেপি সাংসদদেরই তোপ মোদির]
নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ওঁকে বলেছি, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কোনও দাঙ্গা না হয়, আমাদের সেই চেষ্টাই করা উচিত। আর যারা এই হিংসার জন্য দায়ী, সে যে দলেরই হোক, তারা যাতে কোনওভাবেই ছাড় না পায়, আমি প্রধানমন্ত্রীকে তা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেছি।” দিল্লির বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে উসকানিমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উসকানিমূলক ভাষণ নিয়ে কোনওরকম আলোচনা তাঁর হয়নি। একই সঙ্গে কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দিল্লির হিংসার পাশাপাশি করোনা ভাইরাস নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তাঁর।
[আরও পড়ুন: কেন সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ছেন মোদি? আশা-আশঙ্কার দোলাচলে নেটদুনিয়া]
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে সাম্প্রতিক হিংসার জন্য বিজেপি নেতাদের উসকানিমূলক মন্তব্য এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাপটকে দায়ী করেছে বিরোধী শিবির। মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন তিনি সময়মতো নিজের দলের নেতাদের হিংসা রুখতে সক্রিয় করলেন না, সে প্রশ্নের জবাব এখনও মেলেনি। তবে, হিংসা থামার পর দোষীদের শাস্তি দিতে তিনি যে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছেন, তা মঙ্গলবারই বুঝিয়ে দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।
সর্বশেষ খবর
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, স্টুডিও পাড়ায় তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত অরূপের ভাই
-
টিটাগড়-বারাকপুর পুর-দুর্নীতিতে স্পেশাল অডিটের দাবি, মেট্রো নিয়েও তৎপর কৌস্তভ
-
‘পিঠে বানাতে’ বিধায়ক কার্যালয়ে মহিলাদের ডাক! গ্রেপ্তার বর্ধমানের ‘শাহজাহান’ খোকন
-
৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বার ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক কসরত! ভিডিও দেখে হতবাক নেটপাড়া, উঠল সমালোচনার ঝড়