বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: আগামী বুধবার রাজ্যের ৬ কেন্দ্রে বিধানসভা উপনির্বাচন। তার আগে এই কেন্দ্রগুলিতে কেন্দ্রীয়বাহিনী মোতায়েনে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল শাসকদল তৃণমূল। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপিকে নির্বাচনে সুবিধা করে দিতে এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। পাশাপাশি, অশোক স্তম্ভ নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে শাসকদলের তরফে।
এই ইস্যুতে শনিবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লেখার পাশাপাশি দিল্লিতে কমিশনের অফিসে যান তৃণমূলের ৫ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধি দল। যেখানে ছিলেন, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কীর্তি আজাদ, সুস্মিতা দেব ও সাকেত গোখলে। কমিশনকে লেখা চিঠিতে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী, কোনও নির্বাচনী কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হলে, সেই ইউনিটের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ সেই জায়গা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় বাহিনী অবগত নয়, পাশাপাশি ভাষাগত একটি সমস্যা থাকে। তবে রাজ্যপুলিশকে পাশ কাটিয়ে বিজেপির নির্দেশমতো বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভয় দেখানো হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যাতে নির্বাচনে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া যায়। তৃণমূলের দাবি, নিয়মমতো কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে রাজ্যপুলিশকে মোতায়েন করা হোক। যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
এর পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। সম্প্রতি রাজ্য পুলিশকে আক্রমন শানাতে গিয়ে সুকান্ত বলেন, “পুলিশের উর্দি পরে তৃণমূলের দালালি করবেন না। তা যদি করেন, তবে যে টুপি ও ঘাড়ে অশোক স্তম্ভটা পরেন তা খুলে রাখুন এবং একটা হাওয়াই চটির সিম্বল লাগিয়ে নিন।” তৃণমূলের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য শুধু রাজ্য পুলিশকে অপমান নয়, অশোক স্তম্ভের অপমান। শুধু তাই নয়, এমন মন্তব্যে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যা আইন-শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক। অশোক স্তম্ভকে অপমান করার জন্য সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি তাঁকে মন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর দাবিও তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
এদিন নির্বাচন কমিশনের অফিসে দাঁড়িয়ে এই ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানায় নিয়ে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একদিকে হাওয়াই চটির সঙ্গে অশোক স্তম্ভকে মিলিয়ে একটা বক্তৃতা করে সস্তার হাততালি কুড়নো, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ৬টা উপনির্বাচনের ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, এর তীব্র বিরোধিতা করছে তৃণমূল। এই সমস্ত ঘটনা রুখতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠ সমাধানের দাবিতে আজ আমরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছি।”
সর্বশেষ খবর
-
আচমকা ‘প্রসন্ন’ শরিকরা, বাড়তি দুই রাজ্যসভা আসন প্রাপ্তি কংগ্রেসের! প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপিও
-
লোকসভাতেও ‘আসল তৃণমূল’, দলনেতা হচ্ছেন কাকলি! জল্পনার মাঝে বিস্ফোরক পোস্ট সাংসদের
-
‘সিএবি কর্তা হয়েও সংস্থার গঠনতন্ত্র জানেন না’, কোষাধ্যক্ষকে পাল্টা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার
-
এনআইএর জালে আরও এক তৃণমূল নেতা, এবার গ্রেপ্তার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ
-
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে মেরে মন্দিরে ক্ষমাপ্রার্থনা, থানায় গিয়ে তরুণী বললেন ‘ওকে খুন করেছি’