Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
TMC vs ED

তল্লাশি শুরু সাড়ে ৬টায়, পুলিশকে ইমেল ১১:৩০ মিনিটে! সুপ্রিম দরবারে ইডির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে চলছে এই শুনানি।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১৭:২৯

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১৭:২৯

options
link
তল্লাশি শুরু সাড়ে ৬টায়, পুলিশকে ইমেল ১১:৩০ মিনিটে! সুপ্রিম দরবারে ইডির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের zoom

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি শুরু করে ইডি (ED Raid I-PAC Offcie), কিন্তু পুলিশকে ইমেল করা হয় সাড়ে ১১ টায়। আইপ্যাক মামলায় ইডির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রাজীব কুমারদের (Rajeev Kumar) আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির। কার্যত একই প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আইনজীবী কপিল সিব্বলও। সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি চলছে। সেই শুনানিতেই অভিষেক মনু সিংভি আরও বলেন, ”নিজেদের বাঁচাতেই দায়সারাভাবে এই ইমেল করা হয়েছিল। এমনকী অনেক দেরিতে ইডি (ED) আধিকারিকদের নিজের পরিচয় দেন।” পাশাপাশি তল্লাশি চলাকালীন কেন সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন তাও ব্যাখ্যা করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে চলছে ‘হাই প্রোফাইল’ এই মামলার শুনানি। এদিন ইডির তরফে সওয়াল করেন অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার মেহতা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু। ডিভিশন বেঞ্চে তাঁদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিসিপি সাউথ, সিপিকে সঙ্গে নিয়ে জোর করে বাড়িতে ঢোকেন। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তাঁরা। এমনকী ইডি আধিকারিকদের কাছ থেকে নথি নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ জানান আইনজীবীরা। পাশাপাশি ই-মেল করে স্থানীয় পুলিশকে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির কথা আগেই জানানো হয়েছিল বলেও আদালতকে জানান ইডির আইনজীবীরা।

Advertisement

যদিও এক্ষেত্রে রাজীব কুমারদের আইনজীবী, অভিষেক মনু সিংভির সওয়াল, “আপনারা বলছেন মমতা নথিপত্র নিয়ে গিয়েছেন। আবার পঞ্চনামায় বলছেন তল্লাশি অভিযান শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তাহলে স্পষ্ট করে বলুন, কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা। আপনারা তল্লাশি শুরু করেছেন সকাল সাড়ে ৬টায়। পুলিশকে ই-মেল পাঠিয়েছেন বেলা সাড়ে ১১টায়। শুধুমাত্র কাগুজে প্রমাণ জোগাড় করার জন্য এটা করা হয়েছে।” যদিও এহেন সওয়ালের তীব্র বিরোধিতা জানান ইডির আইনজীবী। সলিসিটর জেনারেল এহেন বক্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করেন। এক্ষেত্রে আইনজীবীর যুক্তি, “ইমেল কখনও ‘ক্যাজ়্যুয়াল’ বা গুরুত্বহীন হতে পারে না। ইমেল করা হয়েছে মানেই তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে।”

অন্যদিকে নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী কপিল সিব্বলও। সওয়ালে তিনি বলেন, “আপনারা জানতেন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তৃণমূলের নানা তথ্য সম্বলিত কাগজপত্র আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেগুলি ছিনিয়ে নিতেই গিয়েছিলেন। নিজেরাই দাবি করেছিলেন সিজার লিস্ট কিছু নেই। শান্তিপূর্ণভাবে তল্লাশি হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন।” পাশাপাশি কেন সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন তাও ব্যাখ্যা করেন।

কপিল সিব্বলের সওয়াল, “আইপ্যাক তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা। আর তৃণমূল নেত্রী হিসাবে সেখানে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে তাঁর। কেন ইডি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসের সেই অংশে ঢুকল? নির্বাচনের সময় কেন এত তৎপরতা?” এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, “এবার ভোট কি আইপ্যাক করাবে?”। কপিল সিব্বলের সওয়াল, “২০২১ সালে আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূল চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। সেই সময় থেকে ভোটকৌশল স্থির করে তারা। তা ইডি জানে।”

মামলার শুনানি নিয়ে মন্তব্য না করলেও ইডি অভিযান নিয়ে এদিন ফের প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ”সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে ইডি বিজেপির নির্দেশে যে কাজটা করেছে, আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যা তুলে ধরা হচ্ছে তা এক নয়।” কুণাল ঘোষের কথায়, ”২০২০-২১ সালের আগের মামলা। এতটাই যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে পাঁচ ছয় বছর পর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কেন আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি?”

শুধু তাই নয়, এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ”মামলার সময় আইপ্যাকের কর্তা ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁকে কিছু করা হল না। এখন প্রতীক জৈনের কাছে সংস্থা। এই সংস্থা ভোটের আগে দলকে প্রচারে সহযোগিতা করছে। ঘুরপথে ইডিকে অপব্যবহার করে তথ্য ভাণ্ডার তুলে নিতে চেয়েছিল বিজেপি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা রক্ষা করতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।” কিন্তু আইনি জটিলতা বাড়াতে আদালতে অন্য ন্যারেটিভ ইডি তুলে ধরছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.