অবশেষে ‘ককরোচ’দের মূল দাবি মানল কেন্দ্র! ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan Resignation)। ককরোচ জনতা পার্টির প্রায় সব দাবিই মেনে নিয়েছিল কেন্দ্র। তবে তাঁদের মূল দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। কেন্দ্র সেই দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছিল বিক্ষোভকারীদের কাছে। এরই মধ্যে শনিবার নিজের ইস্তফাপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে পদ ছাড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর শনিবার সকালে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর ইস্তফাপত্রটি গৃহীত হয়নি বলেই খবর। এদিন সোশাল মিডিয়ায় প্রধান লেখেন, “দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকে নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি, কোনওসময় মুখ লুকোয়নি।” তাঁর দাবি, “ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশবিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা। আমার এই পদত্যাগপত্র দেশের জন্য।”
আরও পড়ুন:
— Dharmendra Pradhan (@dpradhanbjp) July 25, 2026
মাসখানেক আগে যখন দিল্লির যন্তরমন্তরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ধরনা শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। অন্য একাধিক দাবি থাকলেও প্রধানের ইস্তফাই তাঁদের মূল দাবি ছিল। ‘ককরোচ’দের এই বিক্ষোভকে শুরুতে সেভাবে পাত্তাই দেয়নি কেন্দ্র। কিন্তু যত দিন গিয়েছে ততই যেন গতি পেয়েছে আন্দোলন। একে একে মূল সারির বিরোধী দলগুলিও আন্দোলনে যোগ দেয়। ধীরে ধীরে নাগরিক সমাজ, সেলেবরাও যোগ দেন আন্দোলনে। ককরোচদের আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। শেষমেশ প্রবল চাপে ইস্তফা দিলেন প্রধান।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর এই ইস্তফার সিদ্ধান্তকে পড়ুয়াদের আন্দোলনের জয় হিসাবে বর্ণনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলছেন, “নিটের প্রশ্নফাঁসের জেরে যে ২০ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছে, এই জয় তাঁদের।” বিক্ষোভস্থলে আবেগী অভিজিৎ দীপকে বলে গেলেন, “গত একমাস ধরে বহু অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। সবাই বলত, এই সরকার কারও কথা শোনে না। ঝুঁকবে না। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি আন্দোলনের শক্তির কাছে সবাইকে ঝুঁকতে হয়।” তবে একই সঙ্গে দীপকে জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভ এখনই শেষ হচ্ছে না। যতক্ষণ না সিজেপির আরও দুই দাবি, অর্থাৎ প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, না মানা হবে ততক্ষণ আন্দোলন প্রত্যাহার হবে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সিপিএম-আরএসপি দ্বন্দ্ব চরমে! চূড়ান্ত হলো না দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী
-
‘নিখোঁজ’ বিডিও কীভাবে পাচ্ছেন বেতন? প্রশান্ত বর্মনের মামলায় সিআইডিকে ‘ভর্ৎসনা’ হাই কোর্টের
-
তসলিমার বক্তৃতা নিয়ে প্রশ্ন স্কুলের পরীক্ষায়! ‘লেখাকে অত সহজে নির্বাসিত করা যায় না’, খোঁচা লেখিকার
-
মণ্ডপের বদলে এবার গঙ্গাতেই প্রতিমা নিরঞ্জন, বিতর্ক কাটিয়ে এবার থিমে কোন চমক দেবে টালা প্রত্যয়?
-
শেফালির ঝড়, দীপ্তির দুরন্ত ঘূর্ণি! বাংলাদেশকে উড়িয়ে ১০ এশিয়া কাপের ১০ আসরেই ফাইনালে ভারত