সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বেড়াতে যেতে কে না ভালবাসে। আর আম আদমির সেই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময়ই প্রতারণা করে বহু ভুয়ো ভ্রমণ সংস্থা। এবার সেরকমই একটি প্রতারণা চক্রের খপ্পরে পড়লেন উত্তরপ্রদেশ বিদ্যুৎবন্টন দপ্তরের চেয়ারম্যান। অভিযোগ, চেয়ারম্যানকে শিক্ষামূলক ভ্রমণে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বিদ্যুৎবন্টন দপ্তর থেকে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি ভুয়ো ভ্রমণ সংস্থা। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, সেটি নাকি দিল্লি সরকারের অধীনস্থ। তাই এই ঘটনার দিল্লি পুলিশের কাছেই অভিযোগ দায়ের করেছেন উত্তরপ্রদেশ ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের সেক্রেটারি সঞ্জয় শ্রীবাস্তব। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
[ভরসা ঈশ্বরেই, রোগী বাঁচাতে ‘মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’ জপ চিকিৎসকদের]
সঞ্জয় শ্রীবাস্তবের দাবি, গত বছরের ডিসেম্বরে একটি শিক্ষামূলক ভ্রমণে বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ বিদ্যুৎবন্টন দপ্তরের চেয়ারম্যান দীপক ভার্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে NCTSR নামে একটি সংস্থা। সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, এটি দিল্লির সরকারের অধীনস্থ একটি সংস্থা। সিঙ্গাপুর ও তাইল্যান্ডে বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত একটি শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করছে তারা। সংস্থাটির সঙ্গে ওই শিক্ষামূলক ভ্রমণে যেতে রাজি হন উত্তরপ্রদেশের বিদ্যুৎবন্টন দপ্তরের চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানের নাম নথিভুক্ত করার জন্য ওই সংস্থাটিকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা দেয় উত্তরপ্রদেশের বিদ্যুৎ দপ্তর।এছাড়া স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওই সংস্থাটি ব্যক্তিগতভাবে আরও ১ লক্ষ ৭৩ হাজার দেন বিদ্যুৎবন্টন দপ্তরের চেয়ারম্যান দীপক ভার্মা। এবছরের মার্চে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণে তাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অভিযোগ, তিন মাস কেটে গেলেও ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার জন্য ওই শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করে উঠতে পারেনি সংস্থাটি। উলটে এখন নানা অজুহাতে টাকাও ফেরত দিতে চাইছে না তারা।
[জানেন, দেশের কতগুলি থানায় গাড়িই নেই?]
বস্তুত, টাকা ফেরত দিতে না পারার কারণ জানিয়ে উত্তরপ্রদেশ বিদ্যুৎবন্টন সংস্থাকে বেশ কয়েকটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, চিঠিগুলিতে বিভিন্ন ঠিকানার উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগা। উত্তরপ্রদেশ ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের সেক্রেটারি সঞ্জয় শ্রীবাস্তব জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে NCTSR নামে ওই সংস্থাটির চিঠিতে ঠিকানা ছিল ময়ুর বিহার। কিন্তু এপ্রিল মাসে যে চিঠি পাঠানো হয়, তাতে আবার গাজিয়াবাদের এক ঠিকানা দেওয়া হয়। ডিসেম্বরে প্রথম যে চিঠিটি এসেছিল, তাতে সংস্থাটি অফিসের ঠিকানা ছিল ত্রিবেণী অ্যাপার্টমেন্ট, ঝিলমিল কলোনি, পূর্ব দিল্লি। NCTSR নামে ওই সংস্থাটি ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, সংস্থাটি নাকি দিল্লি সরকারের শ্রম দপ্তরের অধীনস্থ। সবমিলিয়ে এখন রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন উত্তরপ্রদেশের বিদ্যুৎবন্টন দপ্তরের আধিকারিকরা।
[OMG! আচমকাই গায়েব হল দেশের ২৪টি সৌধ!]
এই পরিস্থিতিতে গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের সঞ্জয় শ্রীবাস্তব। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘটনায় একটি সংগঠিত প্রতারণা চক্র জড়িত। দিল্লিতে বসেই এই প্রতারণা চক্রটি পরিচালনা করছে এক দম্পতি। বস্তুত, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের অন্য দপ্তরগুলিতে একই কায়দায় প্রতারণা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা। এদিকে দিল্লির সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সংস্থাটির সঙ্গে দিল্লি সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
দলে আর জায়গা নেই, জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড! রবিবারই শেষ ওয়ানডে খেলবেন রোহিত?
-
দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে পুলিশের জালে বিজেপি নেতা
-
ঋত-তৃণমূলে এবার ব্রাত্যও? ঘাসফুল শিবিরে ভাঙনের মরশুমে তুঙ্গে জল্পনা
-
ফুলবাগানের মন্দির তহবিল থেকে ‘চুরি’ ৪৪ লক্ষ, অভিযোগ দায়ের কমিটির
-
আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস করতে গিয়ে মৃত্যু! বাংলাদেশে মর্মান্তিক পরিণতি তরুণের