৬ শ্রাবণ  ১৪২৬  সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পুলিশের দাপট কাকে বলে, উত্তরপ্রদেশ আগেই দেখিয়ে দিয়েছে৷ যোগীর রাজ্যের আইনরক্ষকদের আরও এক নৃশংসতা সামনে এল৷ সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, হেলমেটহীন এক যুবককে নিয়মের পাঠ দিতে গিয়ে একেবারে বন্দুক নিয়ে তাক করেছেন কর্তব্যরত পুলিশ৷ আচরণ এমন, যেন কোনও দুঁদে গুন্ডাকে পাকড়াও করেছেন৷ ওই মুহূর্তেই তাকে গুলিতে খতম করে ফেলবেন৷

[আরও পড়ুন : ‘জয় শ্রীরাম’ উচ্চারণে চাপ দেওয়া কি মুসলমান-বিদ্বেষ? প্রশ্ন তুললেন তসলিমা]

ঘটনা উত্তরপ্রদেশের বাদাউন জেলার ওয়াজিরগঞ্জের৷ এই ফাঁড়ির কাছের রাস্তা দিয়ে মোটরবাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন এক আরোহী৷ তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল না৷ ফলে তাঁর বাইকটি দাঁড় করায় আউটপোস্টের ওসি রাহুল কুমরা শিশোদিয়া৷ কিন্তু তারপর যে আচরণ করা হল, তা দেখে তাজ্জব বনে যেতে হয়৷ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, হাতে বন্দুক নিয়ে ওই যুবকের দিকে তাক করে রয়েছেন ওসি৷ বলছেন, ‘হ্যান্ডস আপ’৷ এখানেই থেমে নেই তাঁর আস্ফালন৷ ওসি রাহুল শিশোদিয়া আরও বলছে, ‘যদি হাত নিচে নামাও, তাহলে আমি গুলি চালাব৷ তখন যেন কেউ না বলে, পুলিশ গুলি চালিয়েছে৷ হেলমেটটা পরো, নাহলেই আমি গুলি চালিয়ে দেব৷’ এমন হুঁশিয়ারি শুনে স্বভাবতই কেঁপে গিয়েছেন ওই যুবক৷

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ওয়াজিরগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে রোজ রুটিন তল্লাশির নামে এভাবেই পথচলতি সাধারণ মানুষজনকে হেনস্তা করা হয়, ভয় দেখানো হয়৷ ওসি যে ধরনের আচরণ করছেন, তা সাধারণত কোনও কুখ্যাত দুষ্কৃতী, বড় অপরাধীদের সঙ্গে করা হয়৷ নিরীহ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করাই যায় না৷ এই আচরণ নিয়ে বিরক্ত এলাকাবাসীও৷ ব্যবসায়ী রাহুল কুমার আগরওয়াল বলছেন, ‘ধরুন, আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন৷ দেখলেন, বন্দুক হাতে পুলিশ এসে আপনাকে থামাচ্ছে৷ এবং তারপর একেবারে জঘন্য ব্যবহার করছে৷ মহিলাদেরও ছাড়ছে না৷ আমাদের খুব অপমানিত হতে হচ্ছে৷’

[আরও পড়ুন : ‘মোদি বাবা পার করেগা-ই মন্ত্র বিজেপি সাংসদদের’, লোকসভায় তীব্র আক্রমণ অধীরের]

পুলিশ অবশ্য বলছে অন্য কথা৷ নিজেদের কৃতকর্মের পক্ষে তাঁদের সাফাই, ‘বাদাউন অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ এলাকা৷তাই আমরা এভাবেই তল্লাশি করি৷’ বাদাউনের এসএসপি অশোক কুমার ত্রিপাঠির কথায়, এটা ‘ট্যাকটিকাল টেকনিক৷’ অপরাধীদের একেবারে নরমেগরমে শায়েস্তা করার কৌশল মাত্র৷ যাতে কোনওভাবেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে না পারে৷ অনেক পুলিশকর্মীর আবারও এও অভিযোগ, একসময়ে পথচলতি মানুষ নাকি তাঁদের দেখলে তেড়ে যেতেন, হামলাও করতেন৷ সেসব থেকে বাঁচতেই এখন পালটা এমন ভীতি প্রদর্শনের পথ নিয়েছে পুলিশ৷ কিন্তু সমাজকর্মীরা বলছেন, আইনরক্ষকদের তো প্রাথমিক কর্তব্য, সহনাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদান৷ তাঁদের ভয় দেখানো বা অন্যায়ভাবে হেনস্তা করা তো অপরাধ৷ আইনরক্ষকদের এই অপরাধের বিচার করবে কে?

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং