নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: দেশের সবথেকে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে যে সকলেরই চোখ রয়েছে সেকথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এবারেও এ রাজ্যের সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির ‘মহাজোটে’র ফলাফল কি হতে চলেছে সেদিকে নজর রয়েছে সারা দেশেরই। স্বাভাবিকভাবেই বুথ ফেরত সমীক্ষায় উত্তরপ্রদেশ নিয়ে কি তথ্য সামনে আসে সেদিকেও সকলেই তাকিয়ে রয়েছেন। কিন্তু রবিবার বুথ ফেরত সমীক্ষায় উত্তরপ্রদেশ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তরফ থেকে যেভাবে আলাদা আলাদা তথ্য দেওয়া হয়েছে তাতে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে বই কমেনি।
[ক্ষমতায় ফিরছে মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ, ইঙ্গিত অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায়]
রাজনৈতিক মহলে চলতি প্রবাদ, উত্তরপ্রদেশ যার দিল্লি তার। কেন্দ্রে ক্ষমতা দখলের চাবিকাঠি সবসময় উত্তরপ্রদেশেরই হাতেই থাকে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটকে ‘মিনি লোকসভা ভোট’ বলেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। গতবারের লোকসভা ভোটেও উত্তরপ্রদেশ থেকেই অসাধারণ ভাল ফল করে বিজেপি ‘ম্যাজিক ফিগার’ টপকে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছিল। তবে, এবারে বুথ ফেরত সমীক্ষায় যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে কেন্দ্র সরকার গঠনের নির্ণায়কের যে চাবিকাঠি এতদিন পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের হাতে ছিল তা আর থাকছে কি না সেই প্রশ্নই উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও বুথ ফেরত সমীক্ষায় সামনে এসেছে, বিজেপির আসন সংখ্যা এবারে উত্তরপ্রদেশে কমতে চলেছে।
অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের আসন সংখ্যার উপরে এবারের কেন্দ্র ক্ষমতা দখলের সমীকরণ নির্ভর করছে না একথাই জানান দিচ্ছে বুথ ফেরত সমীক্ষা। বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষাতে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির পনেরো থেকে কুড়িটি আসন লোকসানের কথা বলা হয়েছে, আবার কেউ কেউ আবার সেই লোকসান পঞ্চাশটি আসন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে। এককথায় বুখ ফেরত সমীক্ষা থেকে উত্তরপ্রদেশে যে কি হতে চলেছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এই ধোঁয়াশা একমাত্র ২৩ মে ফল প্রকাশের মধ্যে দিয়েই কাটবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তবে উত্তরপ্রদেশে গতবারের চেয়ে বিজেপির আসন অনেকটাই কমবে এবং কেন্দ্রে সরকারের গড়ার ক্ষেত্রে তা বিজেপির পক্ষে বাধা হবে না বলেই বেশিরভাগ সমীক্ষায় পূর্বাভাস মিলেছে। অর্থাৎ কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ এবার আর চালকের আসনে বা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকছে না।
বিজেপির আসন সংখ্যা যেমন কমতে চলেছে বলেই অধিকাংশ বুথ ফেরত সমীক্ষায় উঠে এসেছে, তেমনিই সেখানে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি ও রাষ্ট্রীয় লোকদলের ‘মহাজোট’ বেশ ভাল ফল করবে বলেই ইঙ্গিত রয়েছে।
তবে, সেখানেই সেই ফল কতটা ভাল হবে তা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষার মধ্যে রীতিমত তফাত রয়েছে। কোনও সংস্থার সমীক্ষা মহাজোটের অসাধারণ ভাল ফলের কথা বলেছে আবার কোনও সংস্থা খুব একটা ভাল কিছু হবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে, সব সংস্থার সমীক্ষাতেই সপা-বসপা, আরএলডি-র মহাজোট অন্ততপক্ষে কুড়িটি আসন পেতে চলেছে বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপির আসন সংখ্যা কমলেও কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশ থেকে বিশেষ ভাল কিছু করতে পারবে না বলেই ইঙ্গিত রয়েছে। প্রায় সব সমীক্ষাতেই কংগ্রেসকে উত্তরপ্রদেশ থেকে কংগ্রেস দুটি থেকে তিনটি আসন পেতে চলেছে বলা হয়েছে। ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর কেন্দ্র রায়বরেলি এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর কেন্দ্র আমেঠির সঙ্গে কংগ্রেস খুব বেশি হলে মাত্র একটি আসন পেতে পারে বলেই বুথ ফেরত সমীক্ষার হিসেব বলছে।
উত্তরপ্রদেশে লোকসভা এই প্রথমবার সপা-বসপা মহাজোট হয়েছে। দীর্ঘদিনের যুযুধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হাত মেলানোর পর থেকেই উত্তরপ্রদেশ এবারের কেন্দ্র সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়কের ভূমিকা নিতে পারে বলেই অনেকেই মনে করেছিলেন। কিন্তু বুথ ফেরত সমীক্ষা সেই সম্ভাবনাতে একাপ্রকার জল ঢেলে দিয়েছে বললে ভুল বলা হবে না। যদিও বুথ ফেরত সমীক্ষা কখনওই একশো শতাংশ নিশ্চিত নয় এবং অতীতে বহুবারই বুথ ফেরত সমীক্ষা মুখ থুবড়ে পড়েছে এমন নজির ভুরি ভুরি রয়েছে। এখন দেখার বুথ ফেরত সমীক্ষাকে ‘নকআউট’ করে দিয়ে উত্তরপ্রদেশ আবার আগের মতই কেন্দ্রে ক্ষমতা দখলের নির্ণায়কের ভূমিকায় উঠে আসতে পারে কি না। উত্তর মিলবে ২৩ মে, বৃহস্পতিবার।
[সৎ-কর্মঠ প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন, ভোট দিয়ে আবেদন স্বাধীন ভারতের প্রথম ভোটারের]
সর্বশেষ খবর
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার
-
টিটাগড়-বারাকপুর পুর-দুর্নীতিতে স্পেশাল অডিটের দাবি, মেট্রো নিয়েও তৎপর কৌস্তভ
-
‘পিঠে বানাতে’ বিধায়ক কার্যালয়ে মহিলাদের ডাক! গ্রেপ্তার বর্ধমানের ‘শাহজাহান’ খোকন