সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশে প্রথমবার তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে একত্রিত করে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক গঠন করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিজয়া ব্যাংক ও দেনা ব্যাংক ‘ব্যাংক অফ বরোদা’র সঙ্গে সংযুক্তির প্রস্তাবে বুধবার অনুমোদন দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
বিশ্ববাজারে ব্যাংক অফ বরোদাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এদিন এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই তিন ব্যাংকের সংযুক্তি কার্যকর হবে। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং আইসিআইসিআই ব্যাংকের পর এই তিন ব্যাংক একত্রিত হয়ে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক হিসাবে পরিচয় পাবে। এই সংযুক্তিকরণের পর বিজয়া ব্যাংক ও দেনা ব্যাংক ‘ট্রান্সফারর’ ব্যাংক হিসাবে এবং ব্যাংক অফ বরোদা ‘ট্রান্সফারি’ ব্যাংক হিসাবে কাজ করবে। তবে সংযুক্তিকরণের ফলে দুই ব্যাংকের কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, “সংযুক্তিকরণের কোনও প্রভাব কর্মচারীদের উপর পড়বে না এবং কাউকে ছাঁটাই করা হবে না।” এদিন প্রসাদ বলেন, “ব্যাংক অফ বরোদাকে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিমূলক ঋণদাতা হিসেবে তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।”
পাশাপাশি, এদিন অসমের বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। অসম চুক্তির ৬ ধারা ঠিকভাবে কার্যকর করতে একটি উচ্চস্তরের কমিটি গঠনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, অসম চুক্তির ৬ ধারা অনুযায়ী অসমের মানুষদের সবরকম নিরাপত্তা, সেখানকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক সুরক্ষা দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়ম ঠিক মতো মানা হয়নি বলেই মনে করছে কেন্দ্র সরকার। এদিন বৈঠকের পর সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আর সেই জন্যই অসমের বাসিন্দাদের যথাযথ সাংবিধানিক অধিকার দিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটি অসম সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে কাজ করবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জন-আরোগ্য যোজনার অন্তর্গত জাতীয় স্বাস্থ্য এজেন্সিকে আরও সুগঠিত এবং পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে জাতীয় স্বাস্থ্য এজেন্সির নাম পরিবর্তন করে করা হবে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য অথরিটি’।
[সবরীমালায় বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, কেরলজুড়ে বনধের ডাক দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলির]