৩০ কার্তিক  ১৪২৬  রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

৩০ কার্তিক  ১৪২৬  রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

নন্দিতা রায়, অযোধ‌্যা: কিছুদিন আগে পর্যন্ত অযোধ্যায় যেখানে বাবরি মসজিদ ছিল সেখানে মসজিদই হোক বলে দাবি করতেন। তিনি ভগবান রামের বিরুদ্ধে নন এমনকী, অযোধ্যায় একটি কেন হাজার হাজার রামমন্দির তৈরি হতে পারে কারণ তার সঙ্গে হিন্দুদের ভাবাবেগ জড়িত রয়েছে। একইভাবে বাবরি মসজিদের সঙ্গে যে মুসলিমদের ভাবাবেগ জড়িত রয়েছে সেটা বুঝতে হবে বলে টিভির পর্দা থেকে সর্বত্র গলাও ফাটাতেন। কিন্তু হঠাৎই যেন কোনও এক জাদুবলে অযোধ্যা মামলার বাবরি মসজিদের পক্ষের দাবিদার ইকবাল আনসারির গলার সুর পালটে গিয়েছে।

অযোধ্যা মামলার শুনানি শেষ হয়েছে গত বুধবার। সেদিন সন্ধেবেলাতেই বহুজাতীয় সংবাদমাধ্যমে আনসারির ছবির নীচে ‘বড়ি খবর’ লেখার সঙ্গে ভিডিওতে আনসারির বক্তব্য, ‘‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত অযোধ্যা মামলায় যে রায় দেবে তাকে স্বাগত জানাব।’’ বিতর্কিত তো নয়ই, বরং অত্যন্ত দায়িত্বশীল নাগরিকের মতই মন্তব্য। কিন্তু এই মন্তব্যই অনেককে অবাক করে দিয়েছে। একইভাবে অবাক করে দিয়েছে এই অধম সাংবাদিককেও। অযোধ্যা থেকে ফৈজাবাদ যাওয়ার রাস্তার বাঁদিকে সাদার উপরে সবুজ বর্ডার দেওয়া দেড় তলা গোছের বাড়ির সামনে পুলিশের অস্থায়ী তাঁবুতে বসে যখন সব প্রশ্নের উত্তরেই একই বুলি কপচে যাচ্ছিলেন, তখন খানিকটা অবাকই লেগেছে। আদালতের রায়ে কী আশা করছেন থেকে শুরু করে কী রায় হতে পারে সব প্রশ্নে “সুপ্রিম কোর্ট যা রায় দেবে মেনে নেব, তাকে স্বাগত জানাব”, বলেই উত্তর দিয়ে গেলেন। প্রশ্নের ধারা একটু পালটে আদালতের রায়ের উপরেই যখন এত ভরসা তাহলে ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায় কেন মেনে নিলেন না, প্রশ্ন করতেই প্রচণ্ড খেপে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনায় মুখর হলেন। “আপনারাই সব আজেবাজে প্রশ্ন করেন” বলতেও ছাড়লেন না। সুপ্রিম কোর্টের মধ্যস্থতাকারী উদ্যোগে সাড়া দিলেন না কেন, বলতেই পুরো দায় বাকিদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বললেন, “আমি চাইলে কী হবে! মামলায় অনেক পক্ষ রয়েছে। অনেকেই এতে রাজি হয়নি। আউট অফ কোর্ট সেটলমেন্টের জন্য আমার বাবাও তো চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে কিছুই কাজ হয়নি।” অযোধ্যা নিয়ে বাইরের লোকেরাই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, যোগী-মোদির জমানায় অযোধ্যার লোকেরা ভাল আছে থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ এই ধারাতে পুরো দেশ চললে দেশের উন্নতি হবে বলে নানা বিষয়ে কথা বললেও এতদিন ধরে যে বাবরি মসজিদের জায়গাতে মসজিদই হোক বলে আসছিলেন, সে প্রসঙ্গে টুঁ শব্দটি করলেন না আনসারি।

[আরও পড়ুন: আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় জামিন, তবে এখনই মুক্ত নন চিদম্বরম]

২০১৬ সালে বাবা হাসিম আনসারি মারা যাওয়ার পরে তাঁর জায়গাতেই বাবরি মসজিদ মামলায় বাদি হয়েছেন ইকবাল। হাসিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি শুরুর দিন থেকে বাবরি মসজিদের পক্ষে দাবি করে আসছেন। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিতর্কিত জমিতে রামলালার মূর্তি প্রকট হওয়ার পরে ফৈজাবাদ কাছারিতে বাবরি মসজিদের পক্ষ থেকে হাসিমই প্রথম মামলা দায়ের করেছিলেন। বাবরি পক্ষের দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও অযোধ্যার হিন্দু-মুসলিম সবার কাছেই ‘চাচা’ নামে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। আদালতে অযোধ্যা মামলা চলতে থাকলেও তার প্রভাব যাতে অযোধ্যায় না পড়ে তার জন্য হিন্দু-মুসলিম সব পক্ষের কাছে সবসময়ই আবেদন করতেন হাসিম। তাঁর মৃত্যুর পরে অযোধ্যা মামলায় তাঁর বিপক্ষে থাকা নির্মোহী আখাড়া থেকে শুরু করে হনুমানগড়ির মহন্তরা অবধি শোকপ্রকাশ করেছিলেন। ইকবাল মুখে দাবি করেন বটে তিনি বাবার লড়াইকেই এগিয়ে নিয়ে চলছেন, তবে স্থানীয় লোকজনের ইকবালকে নিয়ে আগ্রহ তো দূর অস্ত, অনেকের ভ্রুকুঞ্চনও চোখ এড়ায়নি। তবে, বাবার থেকে ঠাটবাটে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। বাড়ির সামনে পুলিশের ক্যাম্প, গলির বাঁকে পুলিশ পোস্টিং, সঙ্গে সবসময় রাজ্য পুলিশের দু’জন, যে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছে আগে পুলিশের খাতায় নাম-ঠিকানা লেখার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা- সবই রয়েছে।

আগে মোটর মেকানিকের কাজ করতেন। নিজের গাড়ি নিজেই চালিয়ে ভাড়া খাটতেন একসময়। এখন কী করেন, সেকথার উত্তর অবশ্য পরিষ্কার করে দিতে চাননি ইকবাল। তিন ছেলে বড় হয়ে গিয়েছে। ব্যবসা করে, কাজ করে বললেও কী কাজ করে, সে বিষয়েও খোলসা করতে চাননি। তাঁকে এত নিরাপত্তা কেন দেওয়া হয়েছে, জীবন সংশয় রয়েছে কি না জানতে চাইলে পালটা “বিনয় কাটিয়ারের তো ১১১ জন নিরাপত্তা রক্ষী রয়েছে, তা নিয়ে তো আপনারা কিছু বলেন না”, বলে রাগও দেখিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করলেও তাদের সঙ্গ অত্যন্ত পছন্দের তা বুঝতে অসুবিধা হল না। প্রায় আধঘণ্টা ধরে বহু কথা বললেন, তবে ওই যে প্রথমেই বলেছিলাম জাদুবল না কি কোনও এক অদৃশ্য মন্ত্রবল, বাবরি মসজিদের দাবির কথা একবারও মুখে উচ্চারণ করলেন না। দায়িত্বশীল নাগরিক তো আদালতের রায়ই মাথা পেতে নেবেন! সত্যিই আমরাই খালি সবকিছুতেই অন্য কিছু দেখি! নাকি বাকিরাও দেখতে পায় কে জানে! 

দেখুন ভিডিও:

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং