সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনার হামলায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে গোটা বিশ্ব। মার্কিন সরকারের দাবি, লাতিন আমেরিকার এই দেশে স্বৈরাচারী শাসকের পতন ঘটিয়েছে তাঁরা। বিষয়টি শুধুমাত্র শাসন ব্যবস্থায় আটকে নেই, গোটা ঘটনায় উদ্বিগ্ন তৈল বিশ্ব। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মার্কিন ‘দাদাগিরি’র বিরাট প্রভাব পড়তে চলেছে বিশ্বজুড়ে খনিজ তেলের সাপ্লাই চেনে। জেনে নেওয়া যাক, বিশ্বের বাকি দেশের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বোমার আঁচ কতটা পড়বে ভারতে?
রিপোর্ট বলছে, বিপুল তেলের ভাণ্ডার হলেও ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিক নয়, তার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে সীমিত কিছু দেশেই তেল রপ্তানি করতে পারত তারা। গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহের মাত্র এক শতাংশ ভেনেজুয়েলা থেকে রপ্তানি হয়। এবং উৎপাদিত তেলের ৭৬ শতাংশই পাঠানো হয় চিনে। আমেরিকা এই দেশের দখল নেওয়ার পর চিনের কাছে পাঠানো এই বিপুল তেলের সাপ্লাই বাধাপ্রাপ্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে এর বিশেষ প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রবিবার এক রিপোর্টে Global Trade Research Initiative বা জিটিআরআই জানিয়েছে, একটা সময় ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ভারতের তৈল বাণিজ্য বিরাট পরিসরে চললেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর কমে আসে। ২০১৯ সালের পর ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়া হয় বাণিজ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতের আমদানি ছিল মাত্র ৩৬.৪৫ কোটি ডলার। যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ছিল ২৫.৫৩ কোটি ডলারের। ভেনেজুয়েলায় ভারতের রপ্তানিও অনেক কম। ওই একই অর্থবর্ষে সেখানে ভারতের রপ্তানি মাত্র ৯.৫৩ কোটি ডলারের। জিটিআরআই-এর মতে কম বাণিজ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও দুই দেশের ভৌগলিক দূরত্বের কারণে ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় কোনও ঝুঁকি তৈরি করবে না।
#WATCH | Kerala: On US attack on Venezuela’s capital, Former Indian Ambassador to Venezuela, R. Viswanathan says, “It was not a surprise… this is not the first time he had threatened. When he was President for the first time, at that time also he had threatened Venezuela…… pic.twitter.com/KsjoeRApz2
— ANI (@ANI) January 3, 2026
উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার হল ভেনিজুয়েলা। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার পরেও এর উৎপাদন চমকে দেওয়া মতো। এখানে তেলের মজুত রয়েছে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল যা সৌদি আরবের চেয়েও বেশি। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার লোভাতুর নজর ছিল এই দেশের উপর। মাদুরোর পতনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার দেশের বৃহত্তম তৈলসংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলায় আসবে এবং কোটি কোটি ডলার ব্যয় করবে। সেখানকার ভেঙে পড়া জ্বালানি ব্যবস্থার সংস্কার করবে। যার অর্থ বকলমে ভেনেজুয়েলার তেলের খনির দখল নেবে আমেরিকা।
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ