Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬

সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে নর্দমার নোংরা জল পান করলেন এই মা

মাদার্স ডে-তে রইল এক মায়ের হৃদয় বিদারক অভিজ্ঞতার ঘটনা৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৪, ২০১৭, ১৫:৩৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৪, ২০১৭, ১৫:৩৮

options
link
সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে নর্দমার নোংরা জল পান করলেন এই মা zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসে মর্মান্তিক এক ঘটনার সাক্ষী থাকল আগ্রা৷ সন্তানের জন্য পয়সা বাঁচাতে নর্দমার নোংরা জল পান করলেন মা৷

ডিমাপুরের বাসিন্দা বছর ২২-এর রীতা কর্মসংস্থানের জন্য দিন পাঁচেক আগে আগ্রায় এসেছিলেন৷ তাঁর কোলে দুই ছোট্ট সন্তান৷ কিন্তু কোনও ঠিকা কাজের সন্ধান না পেয়ে পথের ধারেই দিন গুজরান করতে হয় তাঁকে৷ তাঁর এক সন্তান নাগাল্যান্ডের এক অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে গচ্ছিত রাখা আছে৷ সেই সন্তানকে উদ্ধার করে আনতে দরকার মোটা অঙ্কের টাকা৷ তাই কাজের সন্ধানে ভিটেমাটি ছেড়ে রীতা এসেছেন আগ্রায়৷ কিন্তু কাজের সন্ধান না পেয়ে খিদে, জলতেষ্টায় কাতর, অসহায় মা’কে নর্দমার নোংরা জল পান করতে হল৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শনিবার রাতে তাঁকে শাহ মার্কেট এলাকায় নর্দমা থেকে থেকে জলপান করতে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা৷ একা মা নন, তাঁর কোলের মাত্র দেড় বছরের সন্তান অরুণ ও তিন বছরের মে নন্দিনীকেও সেই জলই পান করতে দেন রীতা৷ হৃদয় বিদারক এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় এক দোকানি রীতার দিকে জলের পাউচ এগিয়ে দেন৷ ওই দোকানি জানতে পারেন, রীতার কাছে একটিও পয়সা নেই৷ গত পাঁচদিন ধরে কোনও ঠিকা কাজেরও সন্ধান পাননি তিনি৷ শেষ পর্যন্ত ওই দোকানি ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মানবাধিকার কর্মী নরেশ পরাশরকে খবর দেন৷ নরেশ বলছেন, “গত চারদিন ধরে রীতা ও তাঁর সন্তানরা ফুটপাতে, ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খেয়ে রয়েছে৷ ভাষার সমস্যার জন্য কেউ তাঁর কথাও বুঝতে পারছিল না৷ পুলিশও এগিয়ে আসেনি৷”

নরেশই ‘আশা জ্যোতি কেন্দ্র লখনউ’ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ তখন এক কাউন্সিলরকে পাঠানো হয় ওই মহিলার ভাষা বোঝার জন্য৷ নরেশ আরও জানিয়েছেন, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য নাগাল্যান্ডে স্থানীয় মহাজনের কাছে নিজের সাত বছরের সন্তানকে বন্ধক রেখেছিলেন রীতা৷ কিন্তু তাঁর স্বামী শেষ পর্যন্ত মারা যান৷ নিজের সন্তানকে ওই মহাজনের কাছ থেকে ফেরত আনতে ব্যর্থ হন রীতা৷ এক ভাইয়ের সঙ্গে আগ্রাতে কাজের খোঁজে এসেছিলেন তিনি৷ কিন্তু সেই ব্যক্তিও তাঁকে ফেলে চম্পট দেয়৷ নাগাল্যান্ডে চা-বাগানে কাজ করে দৈনিক ৪০ টাকা রোজগার করেন রীতা৷ তাঁর কাছ থেকে গোটা ঘটনা শুনে নরেশ পরাশর নাগাল্যান্ড পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ তাঁরাই নিশ্চিত করেন, রীতা ডিমাপুরের বাসিন্দা৷ ডিমাপুরের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার আকুম লাম জানিয়েছেন, রীতাকে ব্রহ্মপুত্র মেল-এ চাপিয়ে সন্তান-সহ ডিমাপুরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, রীতার বন্ধক রাখা সন্তানকেও দ্রুতই ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.