Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Lathmar Holi 2026

লাঠির ঘায়ে প্রেমের ধারা, যোগী সরকারের উদ্যোগে এবারের রঙ্গোৎসবে অন্য রূপ ব্রজভূমির

ফাগুনের আগুনরঙে নয়, বরং প্রেমের লাঠির ঘায়েই এবার বসন্ত এল ব্রজভূমিতে। বুধবার বিকেলে মথুরার বরসানায় পালিত হল বিশ্বখ্যাত ‘লাঠমার হোলি’। নন্দগাঁও থেকে আসা হুরিয়ার বা পুরুষদের ওপর সস্নেহে লাঠি বর্ষণ করলেন বরসানার মহিলারা। যোগী সরকারের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এই ‘রঙ্গোৎসব’ এক অপার্থিব ও ঐশ্বরিক রূপ ধারণ করেছে।

Advertisement
হেমন্ত মৈথিল
হেমন্ত মৈথিল

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৫:১০

link
হেমন্ত মৈথিল
হেমন্ত মৈথিল

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৫:১০

options
link
লাঠির ঘায়ে প্রেমের ধারা, যোগী সরকারের উদ্যোগে এবারের রঙ্গোৎসবে অন্য রূপ ব্রজভূমির zoom
বুধবার রঙ্গোৎসবে মাতল রাধারানি-কানাইয়ের ব্রজভূমি।

ফাগুনের আগুনরঙে নয়, বরং প্রেমের লাঠির ঘায়েই এবার বসন্ত এল ব্রজভূমিতে। বুধবার বিকেলে মথুরার বরসানায় পালিত হল বিশ্বখ্যাত ‘লাঠমার হোলি’ (Lathmar Holi 2026)। নন্দগাঁও থেকে আসা হুরিয়ার বা পুরুষদের ওপর সস্নেহে লাঠি বর্ষণ করলেন বরসানার মহিলারা। যোগী সরকারের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এই ‘রঙ্গোৎসব’ এক অপার্থিব ও ঐশ্বরিক রূপ ধারণ করেছে। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী থাকতে ভিড় জমিয়েছিলেন রাধারানির আঙিনায়।

এদিন সকাল থেকেই বরসানার অলিগলি আবির ও গুলালে রেঙে ওঠে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ শুরু হয় মূল উৎসব। প্রথা মেনে নন্দগাঁওয়ের পুরুষরা যখন বরসানায় পৌঁছান, ‘প্রিয়া কুণ্ড’-এ তাঁদের রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। ব্রজবাসীরা কৃষ্ণের সখাদের জামাইআদরে আপ্যায়ন করেন। এরপর তাঁরা লাডলি কিশোরী মন্দিরে গিয়ে রাধারানির অনুমতি নিয়ে ‘রঙ্গিলি গলি’তে উপস্থিত হন। ঠিক সেই মুহূর্তেই আকাশ থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। চারদিকে তখন শুধু রাধা-কৃষ্ণের জয়ধ্বনি।

Advertisement

কথিত আছে, দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখাদের নিয়ে বরসানায় রাধিকা ও তাঁর সখীদের সঙ্গে হোলি খেলতে আসতেন। সখীরা তখন লাঠি নিয়ে তাঁদের তাড়া করতেন। সেই ধারা মেনেই আজও হুরিয়াররা ঢাল হাতে নিজেদের রক্ষা করেন আর মহিলারা প্রেমের টানে লাঠি চালান। ভক্তদের মতে, এই লাঠির ঘায়ে ব্যথা নেই, আছে শুধু ভক্তি আর আনন্দ। বসন্ত পঞ্চমী থেকে শুরু হওয়া ব্রজের ৪৫ দিনের দোল উৎসবের সবথেকে বড় আকর্ষণ এই লাঠমার হোলি।

উৎসবের ভিড় সামলাতে মথুরা প্রশাসন ছিল অতন্দ্র প্রহরী। যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার পুলিশকর্মী ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। প্রশাসনের এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা আর সাজানো গোছানো ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পর্যটকরা। এক বিদেশি ভক্তের কথায়, “মনে হচ্ছে স্বয়ং কানহাইয়া এখানে হোলি খেলছেন।” আধ্যাত্মিকতা আর ঐতিহ্যের মিশেলে ২০২৬-এর রঙ্গোৎসব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.