BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

উড়ালপুল কাণ্ড: নির্মীয়মাণ সংস্থার ১০ কর্তার জামিন মঞ্জুর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 8, 2016 10:23 am|    Updated: June 8, 2016 11:16 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: মামলার রায় নিয়ে বিচারপতিদের মতপার্থক্য নতুন নয়৷ সেই মতপার্থক্যের জেরে তীব্র বাদানুবাদ নজিরবিহীন ঘটনা৷ মঙ্গলবার এমনই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী রইল কলকাতা হাই কোর্ট৷ রাতে হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে খবর, বিবাদে জড়িয়ে পড়া অন্যতম বিচারপতি সিএস কারনানকে ডিভিশন বেঞ্চ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর৷
পোস্তা উড়ালপুল কাণ্ডে নির্মীয়মাণ সংস্থার কর্তা-সহ ১০ জনের জামিন মামলাকে কেন্দ্র করে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি অসীমকুমার রায় ও বিচারপতি সিএস কারনান৷ দুই বিচারপতির মধ্যেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে এদিন দিনভর সরগরম ছিল কলকাতা হাই কোর্ট৷ পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে পড়ার পর নির্মীয়মাণ সংস্থা আইভিআরসিএল-এর এক কর্তা নিলয় রায়-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ এর কিছুদিন পর তাঁরা কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানায়৷ সেই জামিনের আবেদনের শুনানি হয় বিচারপতি অসীমকুমার রায় ও বিচারপতি সিএস কারনানের ডিভিশন বেঞ্চে৷ গত ২০ মে মামলার শুনানিতে একযোগে ওই ১০ জনের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি রায় ও বিচারপতি কারনান৷
হঠাৎই সোমবার নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন বিচারপতি কারনান৷ মত বদলে নিজের চেম্বারে ১০ আইভিআরসিএল কর্তার জামিনের পক্ষে মত দেন বিচারপতি৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বাদানুবাদের শুরু৷ আইন অনুযায়ী কোনও মামলার নির্দেশ বা রায়ের ক্ষেত্রে ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতিদের মতপার্থক্য হলে তা খোলা এজলাসে জানাতে হয় বিচারপতিদের৷ একাধিক মামলার ক্ষেত্রে আগেও বিচারপতিদের মতপার্থক্য হয়েছে৷ সেক্ষেত্রে খোলা এজলাসে বিচারপতিরা তাদের মত শুনিয়েছেন৷ এরকমটা হলে প্রধান বিচারপতি তৃতীয় কোনও বিচারপতিকে সংশ্লিষ্ট মামলায় নিয়োগ করে থাকেন৷
এক্ষেত্রেবিচারপতি কারনান যেহেতু খোলা এজলাসে নিজের মত জানাননি তাই বিচারপতি অসীম রায় এদিন সকালে মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের এজলাসে ডেকে পাঠান৷ ডাকা হয় অ্যাডভোকেট জেনারেলকেও৷ বেআইনি ও অপমানজনক এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন বিচারপতি অসীম রায়৷ যদিও বিচারপতি কারনান জানান, খোলা এজলাসে তিনি নিজের মত না জানালেও মামলার সমস্ত নথি দেখার পর তিনি তাঁর মত বদলেছেন৷ কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বিধিসম্মত নয় বলে দাবি করেন বিচারপতি অসীমকুমার রায়৷ এর পরই কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন দুই বিচারপতি৷ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর এজলাস ছেড়ে চলে যান তাঁরা৷ সিনিয়র আইনজীবীরা দুই বিচারপতির চেম্বারে গিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন৷ এর আগে রেড রোডে বায়ুসেনার অফিসারকে গাড়ি চাপা দিয়েমেরে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত সাম্বিয়া সোহরাবের জামিন সংক্রান্ত মামলাতেও দুই বিচারপতির মধ্যে মতপার্থক্য হয়৷ এছাড়াও বিভিন্ন কারণে একাধিকবার বিচারপতি রায়ের সঙ্গে ছোটখাটো বিবাদে জড়িয়ে পড়ছিলেন বিচারপতি কারনান৷ এদিনের ঘটনার পর বৈঠকে বসে আইনজীবীদের সংগঠন বার অ্যাসোসিয়েশন৷ বার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বিচারপতি কারনানকে ওই ডিভিশন বেঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক৷ সংগঠনের সম্পাদক সুরঞ্জন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, বারের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে বিচারপতি কারনানের এজলাসে কোনও মামলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ বারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরকেও৷ প্রধান বিচারপতি বারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন বলে সূত্রের খবর৷ কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মাদ্রাজ হাই কোর্ট থেকে কলকাতা হাই কোর্টে বদলি হয়ে আসেন বিচারপতি কারনান৷ সে সময়ও সুপ্রিম কোর্টের নিজের বদলির নির্দেশের উপর নিজেই স্থগিতাদেশ দিয়ে বিতর্কে জড়ান বিচারপতি কারনান৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement