BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

লোভের জালে বিপদে পড়ছেন শহরের সুন্দরী ক্রুনাররা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 2, 2016 1:22 pm|    Updated: June 2, 2016 1:22 pm

An Images

অর্ণব আইচ: অল্প উঁচু স্টেজের উপর নাচছে সুন্দরীরা৷ পিছনে চলছে হিন্দি গান৷ সুন্দরীদের মধ্যে একজনের চেহারা নজর কাড়ার মতো৷ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানশালার মদ্যপায়ীদের নেশা চড়ছে৷ উড়ছে টাকা৷ সেই টাকা কুড়িয়ে নিচ্ছে পানশালার ব্যান্ড মাস্টারের লোকেরা৷ এই ব্যান্ড মাস্টাররাই সুন্দরীদের নাচ ও গানের আয়োজক৷ ব্যান্ড মাস্টারের এক লোককে ডেকে তার হাতে কড়কড়ে কিছু নোট ও টিস্যু পেপারের উপর লেখা একটি মোবাইল নম্বর তুলে দিল ‘কাস্টমার’৷ তার ইশারায় টাকার সঙ্গে সেই কাগজ পৌঁছে গেল সেই নজরকাড়া সুন্দরীর হাতে৷

‘কাস্টমার’ যুবকের কাছে সেই সুন্দরীর ফোন এল পরদিন দুপুরে৷ যুবক মেয়েটিকে চাইল তার ডিস্কোথেকের সঙ্গিনী হিসাবে৷ পানশালার ‘ডিউটি’র শেষে কারও সঙ্গিনী হলে যে মোটা টিপসও জুটবে, তা-ও জানে তরুণীটি৷ সে রাজি৷ রাতে যখন ব্যান্ড মাস্টারের লোক সুন্দরী ‘ত্রুনার’দের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে দিচ্ছে, তখন ওই মেয়েটি বলল, তার অন্য জায়গায় যাওয়ার আছে৷ দূরে দাঁড়িয়ে বিলাসবহুল গাড়িতে উঠে পড়ল সুন্দরী তরুণী৷ তার পর শুরু লেট নাইট পার্টি৷ পর পর কয়েকদিন ডিস্কোথেকে যাওয়ার পর তরুণীটি তার নতুন ‘বন্ধু’র সঙ্গে যেতে রাজি তার ফ্ল্যাটে৷ তার পর সারারাত একসঙ্গে ফ্ল্যাটে রাত কাটানো ও তার সঙ্গে অতিরিক্ত রোজগার৷

dance-bar-2-kolkata_web

সম্প্রতি সল্টলেকে এক পানশালার ত্রুনারকে গাড়িতে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে শহর ও তার আশপাশে পানশালার গায়িকারা কতটা নিরাপদ৷ কারণ, পানশালার ‘ডিউটি’ শেষ করে প্রায় গভীর রাতেই বের হতে হয় সুন্দরী ত্রুনারদের৷ কিন্তু এই ঘটনার পর পানশালার কিছু ত্রুনারের উপরই দায় চাপাচ্ছেন শহরের ‘ব্যান্ড মাস্টার’রা৷ তাঁদের অভিযোগ, পানশালার অনেক গায়িকা বা নর্তকী নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে তোয়াক্কা করেন না৷ যার ফলে তাঁদেরই বিপদ বাড়ে৷ অভিযোগ উঠেছে, আগেই কলকাতার আশপাশের পানশালাগুলিতে শুরু হয়েছিল সুন্দরীদের নাচ৷ এখন নাচ চালু হয়েছে কলকাতার পানশালাগুলিতেও৷ শুধু গানে নাকি মন ভরছে না মদ্যপায়ীদের৷ তাই এই নাচের ব্যবস্থা৷ কোথাও আবার স্বল্পবাসে৷ আর সুন্দরীদের নাচ দেখতে পানশালাগুলিতে ভিড় বাড়ছে বিভিন্ন্ স্তর থেকে আসা মানুষের৷ উড়ছে প্রচুর টাকা৷ এর মধ্যেই বেশ কিছু যুবক অতিরিক্ত আনন্দের জন্য পানশালা থেকেই বেছে নিচ্ছে মনপসন্দ সুন্দরীদের৷

মধ্য কলকাতার এক পানশালার ব্যান্ড মাস্টার জানান, অনেক সময়ই গায়িকা ও নর্তকী ত্রুনারদের একসঙ্গে শহরের কোনও ফ্ল্যাটে রাখা হয়৷ সেই ক্ষেত্রে ব্যান্ড মাস্টারদের নির্দিষ্ট গাড়ি থাকে, যাতে করে সুন্দরীরা পানশালায় যান, আবার ওই গাড়ি করেই রাতে পানশালা থেকে ফ্ল্যাটে ফিরে যান৷ আবার বহু গায়িকা বা ত্রুনার রাতে নিজের গাড়িতে বা ট্যাক্সি করে বাড়িতে ফেরেন৷ নিয়ম অনুযায়ী, ত্রুনারদের সঙ্গে তাঁর বাড়ির কাউকে থাকতে হয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা থাকে না৷ আগেই কোনও সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ করে রাখেন ত্রুনাররা৷ তাই ব্যান্ড মাস্টারের লোকেরা ট্যাক্সি ধরিয়ে দিলেও ওই ট্যাক্সি করে সঙ্গীর কাছে তাঁরা চলে যান৷ আবার পানশালার অদূরেই অপেক্ষা করে সঙ্গীর গাড়ি বা বাইক৷ নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ফ্ল্যাটে না ফিরে ত্রুনাররা বেরিয়ে যান সঙ্গীর সঙ্গে৷ কিন্তু গভীর রাতে বেপরোয়া জীবন বাড়ায় ঝুঁকি৷ কখনও সঙ্গীই তার রূপ পাল্টায়৷ আবার পানশালায় টাকা ওড়াতে আসে বহু সমাজবিরোধীও৷ কোনও সুন্দরী একা পানশালা থেকে বের হলে তিনি ‘টার্গেট’ হয়ে ওঠেন ওই সমাজবিরোধীদেরও৷ তখনও ঘটে বিপদ৷ তবু মোটা টাকা উপার্জনের আশায় সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলকাতায় ছুটে আসেন সুন্দরীরা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement