Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Abhishek Banerjee

‘দিদিকে বলব, শরীর খারাপ করবেন না’, মমতাকে ধরনা তোলার অনুরোধ অভিষেকের

অভিষেক বলেন, 'তৃণমূলের ছাত্র যুব আছে। তারা লড়াই বুঝে নেবে।' এরপরই দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের তরফে মঙ্গলবার ধরনামঞ্চে যোগদানের ঘোষণা করা হয়।

Advertisement
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মার্চ ৯, ২০২৬, ২০:২৮

link
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মার্চ ৯, ২০২৬, ২০:২৮

options
link
‘দিদিকে বলব, শরীর খারাপ করবেন না’, মমতাকে ধরনা তোলার অনুরোধ অভিষেকের zoom
ফাইল ছবি।

এসআইআরে বিচারাধীন ভোটারদের প্রত্যেকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যতক্ষণ তা না হচ্ছে, ততক্ষণ পথে লড়াই চালিয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। ধর্মতলায় গত তিনদিন ধরে চলা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনামঞ্চ থেকে একাধিকবার একথা শোনা গিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। সোমবারও ফের সেকথাই মনে করালেন। বললেন, ”আমাদের লড়াই ততক্ষণ চলবে যতদিন না আপনারা (নির্বাচন কমিশনার) এই ৬০ লক্ষ মানুষকে তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছেন।” কিন্তু একইসঙ্গে দলনেত্রীর কাছে তাঁর অনুরোধ, ”আপনি রাস্তায় থাকতে চান। কিন্তু রাজ্যের মানুষের স্বার্থে তাদের জন্য লড়াইয়ের কথা ভেবে আপনার শরীর খারাপ করবেন না। তৃণমূলের ছাত্র যুব আছে। তারা লড়াই বুঝে নেবে।” অভিষেকের এই কথা থেকেই স্পষ্ট, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধরনা তুলে নেওয়ার কথা বলছেন।

দলনেত্রীর কাছে অভিষেকের অনুরোধ, ”আপনি রাস্তায় থাকতে চান। কিন্তু রাজ্যের মানুষের স্বার্থে তাদের জন্য লড়াইয়ের কথা ভেবে আপনার শরীর খারাপ করবেন না। তৃণমূলের ছাত্র যুব আছে। তারা লড়াই বুঝে নেবে।” অভিষেকের এই কথা থেকেই স্পষ্ট, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধরনা তুলে নেওয়ার কথা বলছেন।

আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে অভিষেক একথা বলার পরপরই দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, ‘আগামিকাল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দিদির ধরনা মঞ্চে জমায়েতের দায়িত্ব তৃণমূল যুব কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে। তাই তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সকল কর্মী ও সমর্থকরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সকাল ১০টার মধ্যে উপস্থিত থাকবেন।’ সেখানে রোজ দলের ছাত্র-যুব নেতৃত্ব ধরনার মধ্যে দিয়ে লড়াই জারি রাখবে।

Advertisement

আসলে এসআইআরে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনা তো শুধুই অধিকার রক্ষার লড়াই নয়। এ এক বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। কেন্দ্রে দ্বিতীয় এনডিএ সরকারের আমলে যেভাবে নানা ক্ষেত্রে শাসকদলের বিরুদ্ধে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে, তা রুখতে সর্বক্ষেত্রে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে। বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করে কেন্দ্রবিরোধী লড়াইয়ের অস্ত্রে শান দিয়েছেন। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইউএসপি। এখানেই তিনি ‘জননেত্রী’। জনতার স্বার্থে যে কোনও সময় যে কোনও পদক্ষেপ করতে এক সেকেন্ডও ভাবেন না। বিরোধী নেত্রী তো বটেই, মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি জনতার মাঝে থাকেন, জনতার জন্য পথে নামেন। আর তাই সব ক্ষেত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি প্রতীকী নয়, প্রকৃত লড়াইয়ের বার্তা দেয়।

কিন্তু এখন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যবাসীর সর্বময় অভিভাবিকা। তাই সেই কাজ করতে গিয়ে তাঁকে যেন কোনওভাবে বিন্দুমাত্র সমস্যা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার দায়িত্ব শাসকদলের বাকিদের। সেই দায়িত্ব থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনার চতুর্থ দিন তাঁর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে কার্যত অনুরোধ করলেন মানুষের জন্য হলেও ধরনামঞ্চে এভাবে টানা তিনি যেন না থাকেন। তাতে শরীর খারাপ হতে পারে। ছাত্র-যুবরা এই লড়াই করবে। এখন দেখার, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অনুরোধের পর কী পদক্ষেপ নেন দলনেত্রী।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.