Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Alipore

মারধর, মানসিক নির্যাতন! গার্হস্থ্য হিংসা চালাতেন খোদ স্ত্রী-ই, স্বামীকে জামিন আলিপুর কোর্টের

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা! গর্ভস্থ ভ্রূণ নষ্ট করে দেওয়া। এবং গার্হস্থ্য হিংসা-সহ গুরুতর একাধিক গুরুতর অভিযোগে শ্রীঘরে যেতে হয়েছিল স্বামীকে। স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা সেই সব  অভিযোগ খারিজ হয়ে গেল আদালতে। প্রমাণ হল স্বামী দোষী নন।

গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: মে ৩, ২০২৬, ০৯:৫৮

link
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: মে ৩, ২০২৬, ০৯:৫৮

options
link
মারধর, মানসিক নির্যাতন! গার্হস্থ্য হিংসা চালাতেন খোদ স্ত্রী-ই, স্বামীকে জামিন আলিপুর কোর্টের zoom
প্রতীকী ছবি।
Advertisement

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা! গর্ভস্থ ভ্রূণ নষ্ট করে দেওয়া। এবং গার্হস্থ্য হিংসা-সহ গুরুতর একাধিক গুরুতর অভিযোগে শ্রীঘরে যেতে হয়েছিল স্বামীকে। স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা সেই সব  অভিযোগ খারিজ হয়ে গেল আদালতে। প্রমাণ হল স্বামী দোষী নন। অভিযোগ তুলেছিলেন যে স্ত্রী, আসল দোষী তিনি নিজেই। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কেস ডায়েরির ভিত্তিতে আলিপুর দায়রা আদালতের বিচারক বিশ্বরূপ বন্দোপাধ্যায় ৫ হাজার টাকার দুই জামিনদার শর্তে ধৃত স্বামীকে জামিন দিয়েছেন।

নিজের স্ত্রীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে কাঠগড়ায় উঠতে হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক শহর গোয়ালিয়রের বাসিন্দা শুভম শর্মাকে। শুধু খুনের চেষ্টাই নয়, ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে তাঁর নিজের হবু সন্তানকে মারার অভিযোগও উঠেছিল শুভমের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে, তিনি দীর্ঘদিন ‘গার্হস্থ্য হিংসা’ চালাতেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন স্ত্রী। যার জেরে নেতাজিনগর থানায় স্ত্রী প্রগতি গঙ্গোপাধ্যায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে নেতাজিনগর থানার পুলিশ। পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী শুভমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Advertisement

বিবাহ সম্পর্কিত একটি একটি সাইটে ৭ বছরের পরিচয়, প্রেম ও তারপর পরিণয়, অর্থাৎ গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে হয় গোয়ালিয়রের শুভমের সঙ্গে কলকাতার নেতাজিনগরের প্রগতির। বিয়ের পর থেকে শুভম বেঙ্গালুরুতে কর্মরত থাকায় দু’জনেই একসঙ্গে সেখানে থাকতেন। পরে ওই বছরের নভেম্বরে নেতাজিনগরে বাপের বাড়িতে ফিরে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন প্রগতি।

এ দিকে বিচারাধীন বন্দি থাকা অবস্থায় জামিন চেয়ে আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন শুভম। মামলার শুনানিতেই প্রকাশ্যে আসে আসল ঘটনা। শুভম-ই তাঁর স্ত্রীর হাতে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার! দিনের পর দিন শুধু মানসিক হেনস্তা করেই থেমে থাকেননি স্ত্রী। সেই সঙ্গে চলত, শারীরিক অত্যাচারও। কোমরে পরার বেল্ট দিয়েও শুভমকে মারা হত বলে আদালতে তথ্য-প্রমাণ পেশ করেন তাঁর আইনজীবী রাজেশ ক্ষেত্রী।

ভিডিও ফুটেজ-সহ নথি পেশ করে আদালতে রাজেশ ক্ষেত্রীর দাবি, “তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। তিনি যে ভ্রূণ নষ্ট করেছেন তার প্রমাণ দিতে পারেননি অভিযোগকারিণী।” আইজীবীর দাবি, “শুধুমাত্র ডিউটি আওয়ারের পরে স্বামী বাড়িতে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করায় বিপাকে পড়তে হয় তাঁকে। সেই থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। যা এক সময় বড় আকার নেয়।” যদিও আদালতে অভিযোগকারিণী স্ত্রী প্রগতির আইনজীবীরা দাবি করেন, শুভম-ই জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করিয়েছেন। এর জন্য তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। একই সঙ্গে, তাঁকে অত্যাচার করে নেতাজিনগর আসতে বাধ্য করা হয় বলেও আদালতে দাবি করেন প্রগতির আইনজীবী। আদালতে উপস্থিত সরকারি কৌঁসুলি এই মামলার যাবতীয় নথি পেশ করেন। তার প্রেক্ষিতে এবং সব পক্ষের বক্তব্য শুনে শুভমকে জামিন দেয় আদালত।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.