BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

গার্ডেনরিচে দাঁড়িয়ে তথ্য পাচারের কথা কবুল পাক চরের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 4, 2016 12:24 pm|    Updated: June 4, 2016 12:24 pm

An Images

অর্ণব আইচ: “এখানকার তথ্য পাচার করেছিলাম পাকিস্তানে৷” গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সের সামনে দাঁড়িয়ে কলকাতার গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করল পাক চর মহম্মদ কালাম ওরফে ইজাজ৷

কলকাতা ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ জায়গায় নতুনভাবে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে যে পাক চর সংস্থা আইএসআই ইজাজের উপরই নির্ভরশীল ছিল, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা৷ কলকাতায় তার নেটওয়ার্কের মূল তিনজনই গত নভেম্বর মাসে ধরা পড়ে গোয়েন্দাদের জালে৷ সম্প্রতি ইজাজকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এসটিএফ৷ তাকে জেরা করে কলকাতায় আইএসআই-এর নেটওয়ার্কের বিষয়ে উঠে এসেছে একের পর এক তথ্য৷ কলকাতায় এখনও তার নেটওয়ার্কে থাকা অন্য কোনও আইএসআই এজেন্ট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা৷ কারণ, কলকাতা থেকে আইএসআই-এর দু’টি চক্র ধরা পড়ার পর গোয়েন্দাদের কাছে উঠে এসেছিল আরও কয়েকটি নাম৷ ইজাজ জেরার মুখে পাকিস্তানের কয়েকজন হ্যান্ডলারের নাম জানিয়েছে৷ এ ছাড়াও তাকে বসিরহাটের সীমান্ত কে বা কারা পার হতে সাহায্য করল, ইজাজকে জেরা করেই তাদের সন্ধান চলছে৷ এই বিষয়ে বিএসএফ গোয়েন্দাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন কলকাতার গোয়েন্দারা৷ বাংলাদেশের বাসিন্দা কয়েকজন পাক চরের বিস্তারিত তথ্যও উঠে এসেছে তাকে জেরা করে৷ ঢাকায় পাক দূতাবাসের এক মহিলা আধিকারিকের সঙ্গে যে ইজাজ যোগাযোগ রাখত, জেরার মুখে তা-ও সে স্বীকার করেছে৷

গত নভেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের মিরাট থেকে ওই রাজ্যের গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়েছিল ইজাজ৷ তাকে জেরা করেই জানা যায় যে, কলকাতার গার্ডেনরিচে বসে আইএসআই-এর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে সে৷ গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স ও কলকাতার বিভিন্ন জায়গার বহু গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচার করার ক্ষেত্রে মূল মাথা ছিল ইজাজ৷ তাকে ধরেই গার্ডেনরিচের বাসিন্দা ইরশাদ হায়দার আনসারি (৫২), তার ছেলে আসফাক হায়দার আনসারি (২৩) ও শ্যালক মহম্মদ জাহাঙ্গির (৪৮)কে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স৷ ইজাজের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে সম্প্রতি তাকে নিয়ে গার্ডেনরিচে যান এসটিএফ আধিকারিকরা৷ গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সের কোন গেট দিয়ে সে একাধিকবার ভিতরে প্রবেশ করেছে, তা সে গোয়েন্দাদের দেখায়৷ তাকে জেরা করে গোয়েন্দারা জেনেছেন যে, ইরশাদ গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সের অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করত৷ সেই সূত্র ধরেই সে তার ছেলে আসফাক ও মূল এজেন্ট ইজাজকে ‘ভিজিটার্স স্লিপ’ দিয়ে ভিতরে জাহাজের কারখানা ঘোরানোর নাম করে ভিতরে নিয়ে যায়৷ ইজাজ ও আসফাক ছোট ক্যামেরা ও মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে নির্মীয়মাণ জাহাজ ও অন্যান্য জায়গার ছবি তোলার জন্য যেখানে যেখানে ঘুরে বেড়িয়েছিল, তা-ও সে দেখায়৷ গার্ডেনরিচের যেখানে ইজাজ থাকত, সেখানেও তাকে নিয়ে যান গোয়েন্দারা৷ পাকিস্তানের ইসলামাবাদের বাসিন্দা ইজাজ আইএসআই-এর কাছ থেকে ট্রেনিং নেওয়ার পর বাংলাদেশে যায়৷ ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কলকাতায় বসে সে নেটওয়ার্ক তৈরি করে৷ ইজাজের নির্দেশে আসফাক ও জাহাঙ্গির একাধিকবার ঢাকায় গিয়ে তথ্য তুলে দিয়েছে এজেন্টদের হাতে৷ ইতিমধ্যেই ইজাজের বিরুদ্ধে ইউএপিএ লাগু হয়েছে৷ তার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে৷ আইএসআই-এর পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি হ্যান্ডলারদের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement