যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধী’ ও ‘আপত্তিকর’ দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি মুছে ফেলতে পদক্ষেপ করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল চত্বরে এই ধরনের দেওয়াল লিখনের ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই ক্যাম্পাসে ‘সাফাই অভিযান’ চালানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকে এই অভিযান শুরু হতে পারে। এই অভিযানে ক্যাম্পাস চত্বরে থাকা ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও গ্রাফিতি মুছে ফেলা হবে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল বলেন, “এটি বিতর্কিত বিষয়। এখনই কিছু মন্তব্য করব না।” অন্যদিকে জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চাপানউতোরের মাঝে রাখীবন্ধন উৎসব উপলক্ষে যাদবপুরে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “যাদবপুরে কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “বেশ কয়েকজন ছাত্র সিএমওতে আর্টস হস্টেলের বেশ কিছু ভিডিও পাঠিয়েছেন। তা ভিসিকে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষা করুন, এই সব মেনে নেওয়া হবে না।” সাংবাদিক বৈঠকের পরেই এক্স হ্যান্ডল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা সেই সব ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতির ভিডিও পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ‘সাফাই অভিযান’ চালানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ক্যাম্পাসের দেওয়ালে একাধিক স্লোগান ও গ্রাফিতি করা আছে। যেমন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ব্রেক ফ্যাসিস্ট উইথ রেড’, ‘নক্সালবাড়ি’, ‘ফ্যাসিস্ট ডু নট ডিসার্ভ ডেমোক্রেসি, দে ডিসার্ভ আ বুলেট ইন দ্য হেড’ অর্থাৎ ফ্যাসিস্টরা মাথায় গুলি খাওয়ার যোগ্য। এই সব বিতর্কিত দেওয়াল লিখন নিয়ে আপত্তি উঠতেই দফায় দফায় বৈঠক করে কর্তৃপক্ষ। সেখানেই প্রাথমিক পর্যায়ে আপত্তিকর গ্রাফিতি ও লিখন মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ফেটসুর জিবি মিটিং হওয়াকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সোমবার যাদবপুরে শান্তি ফেরাতে সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে জাতীয়তাবাদী সংগঠন এনএসএফ ও রাষ্ট্রীয় সয়ংসেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সদস্যরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও হস্টেল চত্বরে অনেক ‘দেশবিরোধী’ ও ‘আপত্তিকর’ স্লোগান রয়েছে। সেগুলি অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে। এরপর রাতে মুখ্যমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, প্রাথমিক স্তরে আলাপ আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান মুছে ফেলা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বর্তমানে অসুস্থ হয়ে বিশ্রামে রয়েছেন। তিনি ফিরলে ক্যাম্পাসে ‘সাফাই অভিযান’ শুরু হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
উর্বশীর তেরঙ্গা গাউনে বিতর্ক, জাতীয় পতাকার অপমান! ‘দেশের আবেগই…’, পালটা নায়িকার
-
অবসরের পর পেনশন পাবেন তো? মানতেই হবে এই নিয়ম, সতর্ক করছে ইপিএফও
-
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে কড়াকড়ি, গর্ভগৃহে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, আর কী সিদ্ধান্ত মন্দির কমিটির?
-
পাকিস্তানের পরমাণু কেন্দ্রে আছড়ে পড়ল ভারতীয় ড্রোন! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
-
পুজো মিটতেই পুরভোট, নির্বাচনে বিজেপির কলকাতার ইনচার্জ সুকান্ত, টিমে আর কারা?