Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১৬ জুন ২০২৬
CBSE Result

১৪-তে স্ট্রোক, হারায় কথা বলার শক্তি! সিবিএসইতে ৮৬ শতাংশ পেয়ে তাক লাগাল সেই বঙ্গকন্যা

মাত্র ১৪-তে ইসকেমিক স্ট্রোক! পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল শরীরের ডানদিক। উঠে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, সামান্য কলম ধরার শক্তি ছিল না ডানকুনির অভিশী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখান থেকে শুরু লড়াই। ইসকেমিক স্ট্রোকের আঘাতে কথা বলতে পারত না অভিশী। চামচ তুলতে গেলে পড়ে যেত।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১৭:৪৩

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১৭:৪৩

options
link
১৪-তে স্ট্রোক, হারায় কথা বলার শক্তি! সিবিএসইতে ৮৬ শতাংশ পেয়ে তাক লাগাল সেই বঙ্গকন্যা zoom
সিবিএসইতে ৮৬ শতাংশ পেয়ে তাক লাগাল সেই বঙ্গকন্যা।

মাত্র ১৪-তে ইসকেমিক স্ট্রোক! পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল শরীরের ডানদিক। উঠে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, সামান্য কলম ধরার শক্তি ছিল না ডানকুনির অভিশী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখান থেকে শুরু লড়াই। ইসকেমিক স্ট্রোকের আঘাতে কথা বলতে পারত না অভিশী। চামচ তুলতে গেলে পড়ে যেত। নিবিড় ‘স্ট্রোক রিহ্যাব’ তাকেই আস্তে আস্তে দাঁড় করিয়েছে। এখনও চলছে ‘ফলোআপ’ চিকিৎসা।

সম্প্রতি বেরিয়েছে সিবিএসই-র ফলাফল। ৮৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছে অভিশী! তার চিকিৎসক ডা. সুপর্ণ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সংকল্প দৃঢ় হলে পেরিয়ে যাওয়া যায় সমস্ত বাধা। আড়াই বছর আগের কথা। অভিশীর মা দীপান্বিতার কথায়, “স্কুল থেকে এসে বলেছিল মাথাব্যথা করছে। আমরা ভেবেছিলাম সাধারণ মাথা ব্যথা। বাথরুমে গিয়ে ও পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাই হাসপাতালে।” জানা যায় আশঙ্কাই সত্যি। স্ট্রোক হয়েছে তার। অনেকেই ভাবেন স্ট্রোক শুধু বয়স্কদেরই হয়। ডা. সুপর্ণ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মান্ধাতার আমলের সেই ধারণা ভুল। স্ট্রোক হতে পারে পাঁচ বছরের শিশুরও। এমনকী, মায়ের গর্ভেও শিশুর স্ট্রোক হয়। তা থেকেই সেরিব্রাল পালসির মতো সমস্যা দেখা যায়। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শরীরের ডানদিক অসাড় হয়ে গিয়েছিল অভিশীর। মস্তিষ্কের বাঁ দিক নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের ডানদিক। অভিশীর মস্তিষ্কের বাঁ দিকে রক্তনালিতে রক্তজমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মরে যেতে শুরু করে। নাড়তে পারত না হাতের আঙুলও।

ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসে ডা. জয়ন্ত রায়ের অধীনে ভর্তি হয়েছিল অভিশী। ডিজিটাল সাবট্রাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করা হয় তার। এতেই ধরা পড়ে মস্তিষ্কের কোথায় রক্ত জমাট হয়ে আছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ছোট বাচ্চাদের মাথাব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন গ্যাসের কারণে মাথাব্যথা। কিন্তু নিয়মিতভাবে যদি মাথাব্যথা হয়, হাল্কাভাবে নেবেন না। স্ট্রোকের কারণ, মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্তজমাট বেঁধে যাওয়া। তার থেকেও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। অভিভাবকদের প্রতি চিকিৎসকদের নির্দেশ, আগে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে আকস্মিক স্ট্রোক এড়িয়ে যাওয়া যাবে। ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে প্রথমে স্থিতিশীল করা হয় অভিশীকে। এরপর শুরু হয় অন্য যুদ্ধ।

নিউরো রিহ্যাব। সেখানে ব্যবহার করা হয় রোবটও। ডা. সুপর্ণ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্ট্রোকের পর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিউরো রিহ্যাব। শরীরের ডানদিক অসাড় হয়ে গিয়েছিল অভিশীর। মস্তিষ্কের বাঁ দিক নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের ডানদিক। অভিশীর মস্তিষ্কের বাঁ দিকে রক্তনালিতে রক্তজমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মরে যেতে শুরু করে। নাড়তে পারত না হাতের আঙুলও। চলে অকুপেশনাল থেরাপি। পাশাপাশি ‘লোয়ার লিম্ব’ রোবট-এর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় থেরাপি। আস্তে আস্তে আস্তে আঙুলে গতি আসে। ধরতে পারে পেন। ফের নতুন করে এ বি সি ডি লেখা। আর আজ? সিবিএসই তে অভীশা ইংরেজিতে ৯১, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে ৯৫!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.