রমেন দাস: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বিহারে গেরুয়া ঝড়! এখনও পর্যন্ত দেড়শোর বেশি আসনে এগিয়ে এনডিএ, অনেকটা পিছিয়ে মহাগটবন্ধন। ফলাফলের ট্রেন্ডেই স্পষ্ট, বিহারে ফের ক্ষমতায় আসছে এনডিএ জোট। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত পদ্মশিবির। বিহারের ফল কার্যত স্পষ্ট হতেই বাংলা দখলের হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন তিনি। আত্মবিশ্বাসের সুরে বললেন, “বিহারের পর এবার বাংলার পালা।” যদিও এসবকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তৃণমূল। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের কথায়, “বাংলায় শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা।”
বাংলা দখলে গত কয়েকবছর ধরে মরিয়া লড়াই করছে বিজেপি। ২০২১-এর বিধানসভায় বাংলায় দু’শোর বেশি আসন জিতবে বলে আত্মবিশ্বাসী ছিল পদ্মশিবির। ভোট প্রচারে মোদি-শাহের মুখে বারবার শোনা গিয়েছিল সে কথাই। যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দু’শো তো দূর-অস্ত, বাংলায় একশো আসনের কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেনি গেরুয়া শিবির। ছাব্বিশে শাসকদলকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও রাজি নয় বঙ্গ বিজেপি। তবে বিজেপির পক্ষে আদৌ বাংলায় আধিপত্য স্থাপন সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয়ে দলের নেতারাও। এসবের মাঝেই বিহারের এই ট্রেন্ড যে বঙ্গ বিজেপিকে অক্সিজেন দিচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুক্রবার বিহারের ফলাফল স্পষ্ট হতেই বাংলা দখলের ডাক দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাতেও জিতব। ওখানকার বর্তমান সরকার বাইরের শক্তির মদতে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এবার সত্যটা বুঝতে পারবেন।”
কার্যত একই সুর বঙ্গ বিজেপির নেতাদের গলায়। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “বিহারে এসআইআর না হলেও বিজেপি সাফল্যের সঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে আগে। এর কারণ, উন্নয়ন, ভয়মুক্ত বিহার ও ভোটার লিস্ট শুদ্ধিকরণ। তৃণমূল বলছে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সেটা কী করে সম্ভব? আসলে ওদের চিন্তা বাংলাদেশি, রোহিঙ্গাদের নিয়ে। ওরা জানে এদের নাম বাদ গেলে ওরা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে।” বিহারের ফলাফল কী হতে চলেছে, তা মোটামুটিভাবে স্পষ্ট হতেই এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নীতীশ কুমারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। “চাকরি চোর, নারী আক্রমণকারীদের হারাব”, বলেন শুভেন্দু। অর্থাৎ বিহারের ফল যে বাংলায় লড়াইয়ের বাড়তি শক্তি জোগাবে, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।
Historic Landslide Victory for NDA in Bihar
What an electrifying moment for Democracy and Development. The People of Bihar have spoken with resounding clarity, delivering a historic & unprecedented thumping mandate to the National Democratic Alliance.
A special salute to our… pic.twitter.com/dmCmebGhwR
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) November 14, 2025
যদিও গিরিরাজ সিং (Giriraj Singh) -সহ বিজেপি নেতাদের এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ পালটা দিয়ে বলেন, “ওটা বিহারের সমীকরণ। বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই। বাংলায় প্রভাব পড়বে না। বাংলায় উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মান ফ্যাক্টর। ২৫০+ আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দিয়ে বিজেপির যে নেতারা বিবৃতি দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন, তাঁরা অকারণ সময় নষ্ট করছেন। বাংলার মানুষের অধিকার, আত্মসম্মানকে আঘাত করে, শুধু অন্য রাজ্য দেখিয়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। এখানে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা। বিহার-সহ বহু রাজ্য তাঁর উন্নয়নের মডেল ফলোও করছেন। বাংলার মানুষ সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থন করেন এবং করবেন।” তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, “ওদের রুখতে যা পরিকাঠামো প্রয়োজন, কংগ্রেস তা তৈরি করতে পারেনি। ওদের হারাতে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সফল। তা ওরা বারবার প্রমাণ করেছে। ভোটচুরিটা আটকাতে হয় ভোটের সময়। যেটা তৃণমূল পেরেছে। কংগ্রেস সেটা পারেনি, ওদের সেই পরিকাঠামো নেই। বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে দেশে একমাত্র ভরসাযোগ্য মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
বিহার। এখনও পর্যন্ত।
1) ওটা বিহারের সমীকরণ। বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই। বাংলায় প্রভাব পড়বে না। বাংলায় উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মান ফ্যাক্টর। 250+ আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মুখ্যমন্ত্রী।
2) কংগ্রেস যে বিজেপিবিরোধিতায় ব্যর্থ, সেটা আবার প্রমাণিত এবং…— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) November 14, 2025
এনডিএ ঝড় নিয়ে সিপিআইএম (এল)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, “বিহারে এসআইআরের পর অনেক প্রশ্ন আছে, কমিশন তার জবাব দেয়নি। এসআইআরের পর ৭ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটার ছিল। কিন্তু কমিশনের প্রেস নোটে দেখা যাচ্ছে ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ ভোটার ভোট দিয়েছে। তাই অনেক প্রশ্ন। কিন্তু সন্তোষজনক কোনও উত্তর নেই। আর রেজাল্ট এখনও অনেক কিছু হতে পারে। এটা একদমই প্রাথমিক ফল। তাই কিছু বলব না।” মহাগটবন্ধনে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়া প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্র কেতন জয়সওয়াল বললেন, “যদি এটাই ফাইনাল ফল হয়ে থাকে, তাহলে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে। আর এসআইআরের বিরোধিতা আমরা কোনওদিন করিনি। তবে কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে এসআইআরের বিরোধিতা করছি।” তৃণমূলকেও নিশানা করলেন তিনি। বললেন, “ভুয়ো ভোটার বাদ যাক, বৈধরা যেন বাদ না যায়।”
সর্বশেষ খবর
-
মা ‘আম গাছ’, বাবা ‘শাল’! পরিবারের মৃত সদস্যদের নাম বৃক্ষরোপণ করে জনজাতি সমাজ
-
চন্দ্রনাথ রথ খুনে নয়া মোড়, আত্মসমর্পণ উত্তরপ্রদেশের ‘গ্যাংস্টার’ মনুর
-
স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই কোণঠাসা শ্রীলেখা! গ্রেপ্তারির পরই ফাঁস টেকনিশিয়ান স্টুডিওর অন্দরের কাহিনি
-
কেরলে ঢুকেছে বর্ষা, শুক্রে বাংলার আকাশও মেঘের দখলে, ভ্যাপসা গরম থেকে এবার রেহাই?
-
ফের পদ্মায় পড়ে গেল যাত্রীবাহী বাস! দুর্ঘটনা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে