স্টাফ রিপোর্টার: বিধানসভায় বিজেপি পরিষদীয় দলের ঘরে বৃহস্পতিবার আচমকাই হাজির হলেন দলের সংগঠনের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সতীশ ধনদ (Satish Dhond)। বাংলার দায়িত্বে আসা রাজ্য বিজেপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে থাকা অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ সতীশ ধনদ এদিন বিধানসভায় এসে দলীয় বিধায়কদের অনেকের সঙ্গেই বৈঠক করেন। বিধানসভায় বিজেপির এই শীর্ষ নেতার সঙ্গে দলীয় বিধায়কদের এদিনের বৈঠক ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবিরে। তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্নও।
এক, বিধানসভায় বিজেপি পরিষদীয় দলের ঘরে পার্টির সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিন রাজ্যের কোনও নেতা এর আগে কখনও আসেননি। কেন তিনি হঠাৎ করে এলেন? দুই, রাজ্য সফরে এসে গত শনিবার কলকাতায় দলের কোর কমিটির বৈঠকে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে উঠে এসেছিল সদ্য পদ্ম শিবির ছেড়ে তৃণমূলে (TMC) যোগ দেওয়া আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের প্রসঙ্গ। নাড্ডা রাজ্য নেতাদের বলেন, কেন বিধায়করা চলে যাচ্ছেন? তাদের সঙ্গে কি দলের কি কোনও সমন্বয়ের অভাব থাকছে? বিধায়কদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কথা বলার জন্য রাজ্য নেতৃত্বকে বার্তা দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। আর নাড্ডার এই বার্তার পরই কি শাহ ঘনিষ্ঠ সতীশ ধনদ এদিন বিধানসভায় এসেছিলেন? দলের একাধিক বিধায়ক তৃণমূলে চলে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় ভুগছে গোটা গেরুয়া শিবির। আর সেটা বুঝেই কি এদিন দলের বিধায়কদের সঙ্গে কথা বললেন সতীশ ধনদ?
[আরও পড়ুন: ইজরায়েল থেকে প্রভাবিত হচ্ছে ভারতের নির্বাচন! আন্তর্জাতিক রিপোর্ট হাতিয়ার করে তোপ কংগ্রেসের]
তিন, এই প্রশ্নটিও ঘোরাফেরা করছে যে, সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিজেপি পার্টির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বে চলা বিজেপি পরিষদীয় দলের মধ্যে একটা দূরত্ব প্রায়শই প্রকট হচ্ছে। দলের একাংশের কথায়, পার্টির সঙ্গে আড়াআড়িভাবে পরিষদীয় দল চলছে। বিধায়কদের সঙ্গে সংগঠনের নেতাদের মনোমালিন্য ও দূরত্ব প্রায়শই সামনে আসছে। তাই পার্টি ও পরিষদীয় দলের মধ্যে সমন্বয় রাখতেই কি সতীশ ধনদের আগমন বিধানসভায়? নাকি শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন পরিষদীয় দলে পার্টির নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে চাইছেন শীর্ষ নেতৃত্ব? এরকম একাধিক বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
[আরও পড়ুন:‘সুবিচার না পেলে সেনায় ফিরব না’, প্রতিজ্ঞা DMK নেতার হাতে ‘খুন’ জওয়ানের ভাইয়ের ]
আবার সতীশ ধনদ যেদিন বিধানসভায় এলেন সেদিন আবার অনুপস্থিত রইলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাজেট পেশের পরদিন বৃহস্পতিবার শুভেন্দুর আসার কথা ছিল। বাজেটের উপর তাঁর ভাষণ দেওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু তিনি এদিন আসেননি। এদিন ধনদ বিধানসভায় এসে দলীয় বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, অম্বিকা রায়, বঙ্কিম ঘোষ, বিশ্বনাথ কারক-সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। ঘন্টা দু’য়েক বিধানসভায় কাটালেও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি ধনদ।
সর্বশেষ খবর
-
অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প! কথা হবে চুক্তি নিয়ে, এবার যুদ্ধ থামবে?
-
ভারতকে চাপ দিলে বিশ্বজুড়ে অশান্তি! মার্কিন শুল্কবাণের মধ্যেই মোদির ‘ঢাল’ পুতিন
-
আচমকা ‘প্রসন্ন’ শরিকরা, বাড়তি দুই রাজ্যসভা আসন প্রাপ্তি কংগ্রেসের! প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপিও
-
লোকসভাতেও ‘আসল তৃণমূল’, দলনেতা হচ্ছেন কাকলি! জল্পনার মাঝে বিস্ফোরক পোস্ট সাংসদের
-
‘সিএবি কর্তা হয়েও সংস্থার গঠনতন্ত্র জানেন না’, কোষাধ্যক্ষকে পাল্টা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার