রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকানো বুমেরাং হচ্ছে না তো? এবার এই প্রশ্ন উঠেছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরেই। ১০০দিনের কাজের টাকা, আবাস যোজনার অর্থ আটকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই দুই প্রকল্পে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে টাকা আটকানোর দাবিতে দিল্লিতে দরবার করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদাররা। কিন্তু শুধুমাত্র তৃণমূলকে শায়েস্তা করার জন্য সাধারণ মানুষের টাকা আটকাতে যে কৌশল নিয়েছে বিজেপি সেটা বুমেরাং হবে বলেই মত গেরুয়া শিবিরের একাংশের।
দলের আদি নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে লড়াই হোক। সেজন্য সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা হোক। কিন্তু এরাজ্যে রাজনৈতিক লড়াইয়ে এঁটে উঠতে না পেরে হাতে না মেরে ভাতে মারার কৌশল ঠিক হচ্ছে না বলেই মনে করছেন তাঁরা। কোথাও দুর্নীতি হলে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধ করে বহু গরিব মানুষকে বঞ্চিত করা ঠিক নয় বলেই মনে করছে দলের একাংশ। এবিষয়ে বিজেপি বাঁচাও মঞ্চের আহ্বায়ক তথা দলের সংখ্যালঘু মোর্চার প্রাক্তন রাজ্য সহ-সভাপতি সামসুর রহমান ইমেল করেছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাকে। যারা দোষী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু সকলের টাকা বন্ধ করে দিলে গ্রামের মানুষরা না খেতে পেয়ে মারা যাবে বলে চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজেপির এই আদি নেতা।
[আরও পড়ুন: সিকিমে বেড়াতে গিয়ে ‘নিখোঁজ’ বীরভূমের একই পরিবারের ৮ জন, দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে পরিজনদের]
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের গরিব মানুষের কাছে বিজেপি সম্পর্কে একটা ভুল বার্তা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে। বিজেপি সূত্রে খবর, একুশের বিধানসভা ভোটে পর্যদূস্ত হওয়ার পর, রাজ্যের একের পর এক নির্বাচনে ভরাডুবি হচ্ছে বিজেপির। ফলে লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই অথর্নৈতিক অবরোধের কৌশল তারা নিয়েছে। তাই ১০০দিন ও আবাস যোজনাতে বাংলার প্রাপ্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গরিব কল্যাণে নেওয়া প্রকল্পগুলিকে আর্থিক প্রতিবন্ধকতার মুখে ফেলার কৌশল নেওয়া হয়েছে। বিজেপির এই কৌশল নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে তাদের দলের মধ্যে থেকেই। বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায়, পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কি লাভ হয়েছে। পঞ্চায়েতে তো মানুষ তৃণমূলের উপরই আস্থা রেখেছে। ফলে দলের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এভাবে টাকা আটকে রাখা বিজেপির ক্ষেত্রে বুমেরাং হচ্ছে না তো?
প্রসঙ্গত, বাংলার গরিব মানুষের টাকা আদায়ের দাবিতে দিল্লিতে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের আন্দোলন এবং রাজভবন অভিযান কর্মসূচিতে বিজেপি যে কার্যত চাপে সেটাও আবার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
[আরও পড়ুন: রথীন ঘোষের বাড়িতে সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশি ইডির, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে’, দাবি মন্ত্রীর]
সর্বশেষ খবর
-
বিক্ষোভকারীদের উপর ফের গুলিবৃষ্টি, পাক সেনার বর্বরতায় লাশ গুনছে অধিকৃত কাশ্মীর
-
কেন ভিনির বদলে পেনাল্টি নিলেন ব্রুনো? সমালোচনার মাঝে মুখ খুললেন ব্রাজিল কোচ
-
১২৫ ফুট মূর্তির শিলান্যাস-সহ একাধিক কর্মসূচি, শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী পালনে শহরে শাহ
-
‘শুধু আমেরিকা কেন, ভারতও আমাদের ভালো বন্ধু’, ভ্যান্সের দাবি উড়িয়ে বার্তা নেতানিয়াহুর
-
বাংলা ছবিতে হাতেখড়ি ‘ব্রাউন’-এর চিত্রনাট্যকার ময়ূখের, টলি সেলেবেই রাখছেন ভরসা