রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে চার লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতেছে বিজেপি। আর তারপর থেকেই রাজ্য সরকার পুলিশ দিয়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। দার্জিলিং পুরসভাতেও এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি। বিজেপিতে যোগ দেওয়া কাউন্সিলরদের উপরেও পুলিশ অত্যাচার চালাচ্ছে। রাজ্যপালের কাছে এমনই অভিযোগ জানিয়ে এলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। মুকুল রায়, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ দলের নেতৃত্ব শুক্রবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে দেখা করেন। দার্জিলিংয়ের পরিস্থিতি রাজ্যপালকে বিস্তারিত জানিয়ে আসেন বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন দার্জিলিং নিয়ে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।
[ আরও পড়ুন: ‘উনি শুধু তৃণমূলের নন, গোটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী,’ মমতাকে তোপ অগ্নিমিত্রার]
লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করার পরে এবার পাহাড়েও আধিপত্য বিস্তারের কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। গত শনিবার দিল্লিতে দার্জিলিং পুরসভার ১৭ জন কাউন্সিলর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, দলের সর্বভারতীয় সাধারান সম্পাদক তথা রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং রাজ্য বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে দিল্লিতে ওই কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগ দেন। দার্জিলিং পুরসভা বিজেপির দখলে আসা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। দার্জিলিং পুরসভায় ৩২টি আসন রয়েছে। একজন কাউন্সিলর মারা গিয়েছেন এবং আর একজন পদত্যাগ করেছেন। পুরসভার কাউন্সিলর ৩০ আসন। ১৭ কাউন্সিলর গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ায় পুরসভায় এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি।
শুক্রবার রাজ্যপালের কাছে বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, পাহাড়ে পুলিশ দিয়ে অত্যাচার চলছে। বিজেপিতে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের উপর অত্যাচার চলছে। মুকুল রায় এদিন অভিযোগ করেন, ৮০ বছরের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলকে জেলে রেখে মারধর করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুকুল। বলেছেন, “মনে রাখবেন আপনার চাকরি অনেকদিন আছে। এটাই শেষ নয়। সবকিছু কড়ায় গণ্ডায় আপনার কাছে ফেরত আসবে।” পুলিশি অত্যাচার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তও দাবি করেছে বিজেপি। এদিকে, পাহাড়ে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে চলতি মাসেই দার্জিলিং যেতে পারেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা।