BREAKING NEWS

২৮ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

‘ব্রেন ডেথ’ রোগীর দু’টি কিডনি দুই শরীরে প্রতিস্থাপন

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 28, 2016 9:06 am|    Updated: June 28, 2016 9:07 am

An Images

কৃষ্ণকুমার দাস: একজন ৭০ বছর বৃদ্ধার মৃত্যু নতুন জীবন দিল চার স্বল্পবয়সীকে৷ ‘ব্রেন ডেথ’ হওয়া রোগীর দু’টি কিডনিতে প্রাণ ফিরে পেল তরতাজা দু’টি জীবন৷ অন্ধকারকে ফেলে ‘ব্রেন ডেথ’ হওয়া রোগীর রেটিনায় আলোর পথযাত্রী আরও দুই রোগী৷

ভারতের একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই সাফল্যের কথা শোনা গেলেও পূর্ব ভারতের কলকাতায় এই প্রথম৷ ‘ব্রেন ডেথ’ হওয়া রোগীর দু’টি কিডনি প্রতিস্থাপিত হল দুই পৃথক শরীরে৷ বেলভিউ হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীম সেনগুপ্ত ও পিজি হাসপাতালের চিকিৎসক দীপঙ্কর সরকারের উদ্যোগে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের নয়া ইতিহাস গড়ল কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গ৷ নজিরবিহীন এই ঘটনার নেপথ্যে ‘মানুষের পাশে রাজ্য সরকার’ স্লোগান বলে স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা৷

‘ব্রেন ডেথ’ হওয়া রোগীর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা নিয়ে আইনি জটিলতা এবং মানবিকতার দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক-বিতর্ক আজও চলছে৷ কিন্তু যাদবপুরের ৭০ বছর এক বৃদ্ধার ‘ব্রেন ডেথ’-এর পর অঙ্গদানের ঘটনায় কলকাতাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সামনের সারিতে নিয়ে এল৷ যার মূল কারিগর ডাঃ দীপঙ্কর সরকার ও ডাঃ প্রতীম সেনগুপ্ত৷ গত ২০ জুন শোভনা সরকার (৭০) মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হন পিয়ারলেস হাসপাতালে৷ পরে চিকিৎসকরা জানান শোভনাদেবীর ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে৷ তাঁর পরিবারের লোকজনরা তখনই সিদ্ধান্ত নেন, মায়ের ইচ্ছামতোই কিডনি, চোখ, হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপিত করা হবে অন্যের শরীরে৷

সোমবার শোভনাদেবীর ছেলে প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, “মা সকলকে নিয়ে চলতে ভালবাসতেন৷ সেই কারণেই মায়ের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অন্য রোগীকে দান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ মাকে আর ফিরে পাব না৷ কিন্তু দু’টি কিডনি ও দু’টি চোখের রেটিনা দিয়ে মা অন্যের মধ্যে পুনর্জীবন পেলেন৷  ৮৪ বছরের বৃদ্ধ বাবাও এই সিদ্ধান্তে আমাদের পাশে আছেন৷”

শোভনাদেবীর ‘ব্রেন ডেথ’ হওয়ার পর পিজি হাসপাতালের ডাঃ সরকার ও বেলভিউ হাসপাতালের ডাঃ সেনগুপ্ত বিশেষ উদ্যোগ নেন কিডনি প্রতিস্থাপনে৷ পিয়ারলেস হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনের কোনও পরিকাঠামো ছিল না৷ সোমবার সকালে ‘ব্রেন ডেথ’ হওয়া অবস্থাতেই আইসিইউ পরিষেবাযুক্ত অ্যাম্বুল্যান্সে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় শোভনাদেবীকে বেলভিউয়ে নিয়ে আসা হয়৷ সেখানে রোগীর রক্ত পরীক্ষা হয়৷ শোভনাদেবীর ও যার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন হচ্ছে তার ব্লাড গ্রুপ ‘ম্যাচিং’ হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

অঙ্গ প্রতিস্থাপনজনিত সরকারি বিধিনিষেধ ও আইনি জটিলতা কাটাতে তৎপর হন দুই ডাক্তারই৷ পরে সন্ধে সাতটা নাগাদ বেলভিউ  হাসপাতালে শুরু হয় অপারেশন৷ গড়িয়ার বাসিন্দা বছর তিরিশের কেয়া রায়ের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়৷ আরও একটি কিডনি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পিজি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়৷ সেখানেই শোভনাদেবীর কিডনিতে নতুন জীবন ফিরে পান আরও এক যুবক৷

ডাঃ দীপঙ্কর সরকার ও  ডাঃ প্রতীম সেনগুপ্ত দু’জনেই জানিয়েছেন, সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে৷ কিডনি প্রতিস্থাপিত হওয়া রোগীর শরীর থেকে মুত্র নিঃসরণ হচ্ছে৷ সফল অস্ত্রোপচারের পর কেয়ার বাবা জানান, তিন বছর ধরে মেয়ের কিডনির জন্য কত কষ্ট করেছি৷ কিন্তু আজ প্রত্যক্ষ করলাম ভগবান হঠাৎই দেখা দেন৷ শোভনাদেবীই সেই ভগবান৷

আগামী দিনে শোভনাদেবীর পরিবারের মতো আরও অনেকে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন বেলভিউ, পিজি হাসপাতালের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা৷ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান শোভনাদেবীর ছেলেরও৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement