Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ৮ জুলাই ২০২৬
বঙ্গে পালাবদল
Congress

তৃণমূলের শোচনীয় হারে ফাঁকা মাঠ! এবার শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালনের ঘোষণা কংগ্রেসের

রাজ্যে পালাবদলে তৃণমূল কংগ্রেস ধরাশায়ী। খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'ঘরবন্দি'। 'সেনাপতি' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সামনে পাওয়া যাচ্ছে না! আগামী ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন কর্মসূচি কীভাবে হবে? সেই প্রশ্ন উঠেছিল। 'মাঠ ফাঁকা' হতেই প্রদেশ কংগ্রেসের বড় ঘোষণা।

Advertisement
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মে ২৩, ২০২৬, ১৩:৪২

link
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মে ২৩, ২০২৬, ১৩:৪২

options
link
তৃণমূলের শোচনীয় হারে ফাঁকা মাঠ! এবার শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালনের ঘোষণা কংগ্রেসের zoom
এবার শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালনের ঘোষণা কংগ্রেসের।

রাজ্যে পালাবদলে তৃণমূল কংগ্রেস ধরাশায়ী। খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঘরবন্দি’। ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সামনে পাওয়া যাচ্ছে না! আগামী ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন কর্মসূচি কীভাবে হবে? সেই প্রশ্ন উঠেছিল। ‘মাঠ ফাঁকা’ হতেই প্রদেশ কংগ্রেসের বড় ঘোষণা। এবার ২১ জুলাই কংগ্রেসের তরফে পালন করা হবে ধর্মতলায় শহিদ মিনার চত্বরে। আজ, শনিবার পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ঘোষণা করেন। গত শতকের ন’য়ের দশকে কংগ্রেস ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যান্যদের নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দল তৈরি করেছিলেন। তৃণমূলই ২১ জুলাই কার্যত কংগ্রেসের থেকে ‘হাইজ্যাক’ করে পালন করত বলে কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ। কংগ্রেস কার্যালয় বিধান ভবনেই দলের তরফে এই শহিদ দিবস পালন হয়েছে এত কাল। তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় হারের পরে এবার শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালনের ডাক দেওয়া হল। বঙ্গের রাজনীতিতে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের জমায়েত হয়েছিল ধর্মতলা। অভিযোগ, বাম সরকারের পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী নিহত হয়েছিলেন। মৃত কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কংগ্রেসের তরফে ওই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গত শতকের নয়ের দশকে কংগ্রেসের তরফে মনিন্দর সিং বিট্টা কংগ্রেসের যুব সভাপতি ছিলেন। সেসময় প্রকাশ্যে কংগ্রেসের তরফে শহিদ দিবস পালন করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরপর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন। সেই বছর যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন পরেশ পাল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী। সেবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে ২১ জুলাই পালন হয়েছিল।  

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অভিযোগ, তৃণমূলের তরফে এরপর শহিদ দিবস পালন করা শুরু হয়। কার্যত তৃণমূল নেত্রী সেই শহিদ দিবস হাইজ্যাক করেছিলেন! কংগ্রেসকে বিভিন্ন বছর শহিদ দিবস পালন করতে বাধা দেওয়া হয়! বাম আমল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালন শুরু করে।

অভিযোগ, তৃণমূলের তরফে এরপর শহিদ দিবস পালন করা শুরু হয়। কার্যত তৃণমূল নেত্রী সেই শহিদ দিবস হাইজ্যাক করেছিলেন! কংগ্রেসকে বিভিন্ন বছর শহিদ দিবস পালন করতে বাধা দেওয়া হয়! বাম আমল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালন শুরু করে। ২০১১ সালের বামেদের হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতা আসে। সেইসময় থেকে ২১ জুলাই আড়ে-বহরে বাড়তে থাকে। কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ, শাসক দল ও প্রশাসক তাঁদের শহিদ দিবস প্রকাশ্যে পালন করতে দিত না। প্রশাসনের তরফে অনুমতি মিলত না! বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কলকাতার মৌলালির কংগ্রেসের কার্যালয় বিধান ভবনের ভিতর শামিয়ানার নীচে সেই শহিদ দিবস তাঁদের মতো করে পালন করেছেন কংগ্রেস নেতারা! 

১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের জমায়েতের সময় বাম সরকারের মুখ্যসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত। তাঁর নির্দেশেই গুলি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরবর্তীকালে তৃণমূল সেই মণীশ গুপ্তকেই টিকিট দিয়েছিল। যাদবপুর কেন্দ্রে ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে হারিয়ে বিধায়ক হন মণীশ।

১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের জমায়েতের সময় বাম সরকারের মুখ্যসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত। তাঁর নির্দেশেই গুলি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরবর্তীকালে তৃণমূল সেই মণীশ গুপ্তকেই টিকিট দিয়েছিল। যাদবপুর কেন্দ্রে ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে হারিয়ে বিধায়ক হন মণীশ। যার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল, তাঁকেই কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেন? সেই প্রশ্ন উঠেছিল। এবারই বিজেপির কাছে হেরে ধরাশায়ী তৃণমূল। ৪ মে ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা কার্যত গা ঢাকা দিয়েছেন! মমতা ও অভিষেকও প্রকাশ্যে কোনও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না। দল কোন পথে চলবে? তাই নিয়েও ডামাডোল চলছে বলে তৃণমূলের অন্দরের খবর। এই অবস্থায় তৃণমূল কি ২১ জুলাই পালন করতে পারবে? প্রশাসনের তরফে কি ২১ জুলাই পালনের জন্য তৃণমূলকে অনুমতি দেওয়া হবে? সেই প্রশ্ন থাকছে। সেই আবহে এবার কংগ্রেস মাঠে নেমে পড়েছে। শহিদ দিবস প্রায় তিন দশক পর প্রকাশ্যে পালনের ডাক দিয়েছেন নেতৃত্ব। শহিদ মিনার চত্বরে সেই কর্মসূচির ঘোষণা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। 

তৃণমূল কি ২১ জুলাই পালন করতে পারবে? প্রশাসনের তরফে কি ২১ জুলাই পালনের জন্য তৃণমূলকে অনুমতি দেওয়া হবে? সেই প্রশ্ন থাকছে। সেই আবহে এবার কংগ্রেস মাঠে নেমে পড়েছে। শহিদ দিবস প্রায় তিন দশক পর প্রকাশ্যে পালনের ডাক দিয়েছেন নেতৃত্ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল শহিদ দিবস একসময় হাইজ্যাক করেছিল। এবার ফের কংগ্রেস প্রকাশ্যে শহিদ দিবস পালন করবে। কংগ্রেস কর্মীরাও এই ঘোষণায় চনমনে হয়েছেন। তৃণমূলের হারে বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেস অক্সিজেন পেতে শুরু করেছে। এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের। শহিদ দিবস প্রকাশ্যে পালন করলে ফের নতুন করে কংগ্রেস অক্সিজেন পাবে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.