২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কোভিড যোদ্ধা চিকিৎসককে বাড়িতে ঢুকতে বাধা, বাইরে বেরতেই দাদাকে ব্যাপক মারধর

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: July 21, 2020 10:12 pm|    Updated: July 21, 2020 10:12 pm

An Images

অর্ণব আইচ: করোনা যোদ্ধা এক চিকিৎসককে বাড়িতে ঢুকতে বাধা। তাঁর পরিবারের লোকেরা কেন বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন, সেই প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার ওই স্বাস্থ্য অফিসারের দাদাকে রাস্তার উপরেই প্রচণ্ড মারধর করে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। সরশুনা থানা এলাকার বসন্ত পার্কে ঘটেছে এই ঘটনাটি। মাথা ও ঘাড়ে চোট লাগে তাঁর। অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডা. সৈকত বসু নামে ওই চিকিৎসক দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বিএমওএইচ। তার বাড়ি সরশুনায়। গত কয়েক মাস ধরেই করোনার যোদ্ধা হিসেবে তিনি লড়াই করছেন। একাধিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন। এখন বিষ্ণুপুরে একটি ‘সেফ হোমে’র দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। উপসর্গ নেই অথবা কম অসুস্থ এমন করোনা রোগীদের চিকিৎসা করছেন তিনি। চিকিৎসকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাস দেড়েক ধরেই তাকে ও তাঁর বাড়ির লোকেদের হুমকি দিচ্ছিল এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। কেন তিনি বাড়িতে ঢুকছেন, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলতে থাকে। তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করে তারা।

[আরও পড়ুন: মাত্র ৩,৫০০ টাকায় চোদ্দো দিন পরিষেবা, স্বল্পমূল্যে ‘সেফ হোম’ চিকিৎসা মিলছে কলকাতায়]

ওই স্বাস্থ্য অফিসার অনেক রাতে বাড়ি ফেরেন। রাতে নিজের আলাদা ঘরেই থাকেন। সাধারণভাবে বাড়ির লোকেদের সঙ্গে সংস্পর্শে আসেন না। রাতটুকু বাড়িতে থেকে সকালেই বেরিয়ে যান। তা বলার পরও চলতে থাকে পাড়ার লোকেদের হুমকি। অভিযোগ, অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলতে থাকে, চিকিৎসকের বাড়িতে থাকা চলবে না। তাঁর পরিবারের কারও বাড়ির বাইরে বের হওয়া চলবে না। তাঁদের সবাইকেই কোয়ারানটাইনে থাকতে হবে। তাদের দাবি, চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের লোকেদের থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়বে পুরো পাড়ায়। যদিও ওই এলাকার কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি বলে জানা গিয়েছে।

এদিন চিকিৎসকের দাদা সুদীপ্ত বসু বাড়ির বাইরে বেরিয়ে ছিলেন। হঠাৎই পাড়ার কয়েকজন তাঁর উপর চড়াও হয়। কেন তিনি বাইরে বেরিয়েছেন, সেই প্রশ্ন তোলে তারা। সুদীপ্তবাবু বিশেষ কাজে বেরিয়েছেন বলার পরেও তারা কোনও কথা শোনেনি। অভিযোগ, রাস্তার উপরে তাঁকে মারতে শুরু করে পাড়ার কয়েকজন। তাঁর মাথা ফেটে যায়। আঘাত লাগে ঘাড়ে। এমনকী তাঁর চেন ছিনতাই করা হয় বলে অভিযোগ। বিকেলে সরশুনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সন্ধ্যার মধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

[আরও পড়ুন: করোনার থাবা মন্ত্রীদের পরিবারেও, আক্রান্ত ফিরহাদ হাকিমের জামাই ইয়াসির হায়দার]

এদিকে, এলাকার কিছু বাসিন্দা চিকিৎসকের পরিবারের লোকেদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। তারও তদন্ত চলছে। চিকিৎসক বা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement