Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
Anandapur Fire

নতুন করে উদ্ধার ৫ দেহাংশ, আনন্দপুর ‘মৃত্যুপুরী’তে মৃত বেড়ে ১৬! থানায় জমছে নিখোঁজ ডায়েরি

আনন্দপুরে 'মৃত্যুপুরী' কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, আর্তি। প্রিয়জনদের খোঁজ পাচ্ছেন না অনেকেই। গতকাল, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল। সেই সংখ্যা আরও বাড়ল বলে খবর।

দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:৫৮

link
দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:৫৮

options
link
নতুন করে উদ্ধার ৫ দেহাংশ, আনন্দপুর ‘মৃত্যুপুরী’তে মৃত বেড়ে ১৬! থানায় জমছে নিখোঁজ ডায়েরি zoom
আনন্দপুরের অভিশপ্ত কারখানা। ফাইল ছবি।
Advertisement

আনন্দপুরে ‘মৃত্যুপুরী’ কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, আর্তি। প্রিয়জনদের খোঁজ পাচ্ছেন না অনেকেই। গতকাল, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল। সেই সংখ্যা আরও বাড়ল বলে খবর। নতুন করে পাঁচটি পোড়া দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আপাতত ১৬ হল। সেই কথাই জানা গিয়েছে। তবে সরকারি মতে এখনও সেই কথা জানানো হয়নি বলে খবর।

থানায় প্রিয়জনদের নিখোঁজদের বিষয় নিয়ে ভিড় করছেন পরিজনরা। নিখোঁজের ডায়েরি এদিন বেলা পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে ২৩টি। ভয়াবহ আগুনে মোমো কারখানা, গোডাউন সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। গোটা এলাকা এই মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপ! আগুনের তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, লোহার কাঠামো বহু জাওয়াতেই কার্যত গলে গিয়েছে। পুড়ে যাওয়া কাঠামো ভাঙা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। ধ্বংসসূপের মধ্যে কেউ আটকে আছেন, কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
Death toll in Anandapur rises to 16, Missing diaries are piling up at the police station
কারখানার ভিতরের অবস্থা। নিজস্ব চিত্র

এদিন কলকাতা পুরসভার বেশ কিছু কর্মী গ্যাস কাটার নিয়ে আনন্দপুরের ওই ‘জতুগৃহে’ উপস্থিত হয়েছেন। টিনের শেড কাটার কাজ শুরু হবে বলে খবর। রাতেও ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন জায়গায় ধিকিধিকি আগুন দেখা গিয়েছে বলে খবর। ছোটখাটো পকেটফায়ার এখন দেখা যেতে পারে, সেই আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছেন দমকল কর্মীরা। নিরলসভাবে দমকল কর্মীরা রবিবার রাত থেকে কাজ করে চলেছেন। দেহাংশগুলি ঝলসে পুড়ে যাওয়ায় কোনওভাবেই তাঁদের পরিচয় জানা সম্ভব হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ পেলে দেহাংশগুলির ডিএনএ টেস্ট হবে। সেই কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে বিশাল সংখ্যায় পুলিশ।

পুলিশ ও দমকলের তরফ থেকেই অভিযোগ উঠেছে যে, নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার নাজিরাবাদে নামি ব্রান্ডের মোমো কারখানা বেআইনিভাবে চলছিল। ছিল না দমকলের ছাড়পত্র। কীভাবে এতদিন ধরে এত বড় একটা মোমো কারখানা চলছে, তা নিয়ে উঠেছ প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ হাজার স্কোয়ার ফুট জায়গা জুড়ে এই কারখানা। এখানে কঁাচা মোমো তৈরির পর তা মজুত করা হত অনলাইন খাবার কোম্পানিগুলিতে। এখান থেকে এই ডেলিভারি হত বিভিন্ন স্টলগুলোতে। কারখানার মধ্যে দিন ও রাত্রে কাজ চলত। মোমো তৈরির কাজে ব‌্যবহার করা হত প্রচুর পরিমাণ পাম অয়েল। এই দাহ‌্য পাম অয়েল বেআইনিভাবে মজুত করে রাখার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গোডাউন তথা কারখানায়। এ ছাড়াও মূল গেটের সামনে ডাঁই করে সাজানো ছিল বিভিন্ন কোম্পানির ঠান্ডা পানীয়, এনার্জি ড্রিঙ্ক থেকে শুরু করে চাউমিনের প্যাকেট। কাঁচের বোতল থেকে শুরু করে নানা সামগ্রী। বিশাল পরিমানে দাহ্য বস্তু মজুত থাকার কারণেই এত বড় অগ্নিকাণ্ড, এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.