Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
বিফ

ভোট চাইতে ঘরে ঢুকবেন না, বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে গৃহস্থের দরজায় নোটিস

কী কারণে বাড়ি বাড়ি সিপিএম প্রার্থীর প্রবেশ নিষেধ?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৯, ২০১৯, ১৭:১২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৯, ২০১৯, ১৭:১২

options
link
ভোট চাইতে ঘরে ঢুকবেন না, বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে গৃহস্থের দরজায় নোটিস zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনী মরশুমে প্রার্থীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করবেন, এটাই স্বাভাবিক দৃশ্য৷ শহর হোক বা শহরতলি কিংবা গাঁ-গঞ্জ, সর্বত্রই এই ছবি এখন পরিচিত৷ কিন্তু যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের কিছু কিছু অংশে ধরা দিচ্ছে অন্য একটি ছবি৷বহু বাড়ির সামনে দেখা যাচ্ছে একটি পোস্টার৷ তাতে এই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ছবি৷ তাঁকে সম্বোধন করা হয়েছে ‘কুখাদ্যভোজী সিপিআই (এম) প্রার্থী৷’ সঙ্গে স্পষ্ট হুঁশিয়ারির সুর – ‘আমার বাড়িতে গৃহদেবতার পূজা হয়৷ তাই ভোট চাইতে এসে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করবেন না৷ আপনারা না জানি কি অখাদ্য/কুখাদ্য খেয়ে থাকেন৷’ কিন্তু কেন? সিপিএম প্রার্থী বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে কেন ভোট চাইতে পারবেন না? কীভাবে অপবিত্র হবে বাড়ি?

                                         [ আরও পড়ুন :  মাদ্রাসায় নিয়োগের দাবি, মেয়ো রোড থেকে অনশনকারীদের তুলে দিল পুলিশ

উত্তর খুঁজতে গিয়ে ফিরে যেতে হল বেশ খানিকটা আগে, প্রায় বছর তিনেক আগে৷ উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে মহম্মদ আখলাকের ফ্রিজে গোমাংস রাখা আছে, এই সন্দেহে তাঁকে গণপ্রহারে খুন করা হয়েছিল৷ পরবর্তী সময়ে রাজস্থান, হরিয়ানাতেও গো-পাচারকারী সন্দেহে একই ঘটনা ঘটেছিল৷ এনিয়ে সেসময় উত্তাল হয়েছিল জাতীয় রাজনীতি৷ শীর্ষ আদালতকে পর্যন্ত এবিষয়ে মাথা ঘামাতে হয়েছিল৷ তারপর বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার নিজেদের জায়গায় গোহত্যা, গোমাংস খাওয়া – এসব বন্ধের নির্দেশ দেয়৷ তা নিয়েও শুরু হয় শোরগোল৷

Advertisement

                                                   [ আরও পড়ুন : নদিয়ার দুই কেন্দ্রে বিবাদ ভুলে নেতাদের কাজ করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর]

এই পরিস্থিতিতে একদল বুদ্ধিজীবী নেমেছিলেন প্রতিবাদ করতে৷ খাওয়াদাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে৷ তাঁদের যুক্তি ছিল, খাদ্যাভ্যাসে কোনওরকম আইন করে বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ মানুষের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ৷ প্রতিবাদে শামিল হন কলকাতার কয়েকজন বুদ্ধিজাবীও৷ ধর্মতলার প্রকাশ্য রাস্তায় বিফ পার্টির আয়োজন করে বামপন্থী সংগঠন ভাষা ও চেতনা বিকাশ৷ সেই পার্টিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল সিপিএম ঘনিষ্ঠ নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তৃণমূলপন্থী কবি সুবোধ সরকারকে৷ সেই ছবি বেশ ভাইরাল হয়ে পড়েছিল৷ যা বেশ মনে রেখে দিয়েছেন যাদবপুরের মানুষজন৷ ধর্মীয় ভাবাবেগ থেকে সেদিনের ঘটনাকে মোটেই সমর্থন করেননি তাঁরা৷

 subodh-beef                                   

মাঝে কেটে গিয়েছে কয়েকটি বছর৷ সেদিন ধর্মতলার বিফ পার্টির অন্যতম মুখ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যই ২০১৯-এ যাদবপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী৷ তবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁর সেই গোমাংস খাওয়ার দৃশ্য ভোলেননি কেউ৷ বিকাশরঞ্জনের নাম শুনলেই এখানকার মানুষজনের চোখে ভেসে ওঠে সেদিনের সেই দৃশ্য৷ হিন্দু ধর্মকে তিনি আঘাত করেছেন মনে করে তাঁকে কোনওরকম জায়গা দিতেই প্রস্তুত নন এলাকাবাসী৷ তাই দরজায় দরজায় এরকম পোস্টার দিয়ে তাঁরা সমবেত প্রতিবাদ জানাচ্ছেন৷ যাতে স্পষ্টই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ‘কুখাদ্যভোজী’ বিকাশরঞ্জন যেন বাড়ির ভিতরে ভোট চাইতে না যান৷ তাহলে কি ময়দানে লড়াইয়ের আগেই কিছুটা হেরে বসলেন যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী? তা বোঝা যাবে ফলাফলেই৷    

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.