BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ওপার বাংলা থেকে জাল টাকা পাচার, এনআইএ-র জালে মূলচক্রী

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 19, 2016 3:31 pm|    Updated: June 19, 2016 3:31 pm

An Images

অর্ণব আইচ: বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া লাখ লাখ টাকার জাল নোট এই রাজ্য ও বিহার হয়ে ফের পাচার হচ্ছিল নেপালে৷ নেপালের সীমান্তে থাকা জাল নোট সিন্ডিকেটের মাথারাই সেই জাল নোট ফের পাচার করত সমগ্র উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে৷ এমনকী, নেপালের বিভিন্ন শহরে যেখানে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা বেশি, সেখানেও জাল নোট চালাত নেপালের সিন্ডিকেটের এজেন্টরা৷

এই চক্রের চুনোপুঁটিরাই ধরা পড়ছিল গোয়েন্দাদের হাতে৷ কিন্তু বারবার জাল কেটে বার বার পালাচ্ছিল এক রাঘব বোয়াল৷ আন্তঃরাজ্য জাল নোট চক্রের সন্ধান করতে গিয়েই এনআইএ কর্তারা জানতে পারেন যে, মালদহের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর শেখ ওরফে রাজুই হচ্ছে এই রাজ্যের জাল নোট পাচারচক্রের এক মাথা৷ মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে মালদহের কালিয়াচকে লাখ লাখ টাকার জাল নোট পাচারের কায়দা রপ্ত করে ফেলেছে সে৷ তার পাচার করা জাল নোটের একটি অংশ এজেন্টের মাধ্যমে এসেছে কলকাতায়ও৷ টানা দু’মাস ধরে গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল রাজু৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দাদের পাতা ফাঁদেই ধুরন্ধর রাজু পা দিল৷ এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার হয় রাজু৷ তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে তিন লাখ টাকার জাল নোট৷ সে যে এই রাজ্যের জাল নোট পাচারের পান্ডাদের মধ্যে অন্যতম, সেই বিষয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত৷ তাই তাকে জেরা করে এই রাজ্যের বাকি জাল নোট পাচারের মাথা ও এজেন্টদের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে ধারণা এনআইএ আধিকারিকদের৷

বিহারের পূর্ব চম্পারনের মোতিহারিতে তল্লাশি চালিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিআরআই ৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছিল৷ তখনই মোতিহারির রামগাড়োয়া অঞ্চল থেকে গ্রেফতার হয়েছিল আফরোজ আনসারি নামে এক জাল নোট পাচারকারী৷ জেরার মুখে সে গোয়েন্দাদের জানিয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিহার হয়ে উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানায় জাল নোট পাচারের কারবার চালাচ্ছে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের জাল নোট পাচারচক্রের দুই মাথা৷ সেই সূত্র ধরে বিহারের নওয়াদার বাসিন্দা সানি কুমার ওরফে কবীর খান ও মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা ইসরাফুল আলম৷ এনআইএ এই জাল নোট পাচারের তদন্ত করতে শুরু করে৷ এনআইএ আধিকারিকদের হতে ধরা পড়ে সানি কুমার ও ইসরাফুল৷ তাদের জেরা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে৷ জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে রাজু-ই একসঙ্গে লাখ লাখ টাকার জাল নোট পাচারের ব্যবস্থা করে৷ ওই জাল নোট মালদহ হয়ে চলে আসে বিহারে৷ ইসরাফুল ওই জাল নোট নিয়ে তুলে দেয় সানি কুমারের হাতে৷ সানিকে পুরো জাল নোট পাচারের দায়িত্ব বর্তায় রাজুর উপরই৷ আবার সানি সরাসরি এজেন্টদের হাতে ওই জাল নোট তুলে না দিয়ে তা বিহারের রক্সৌল হয়ে পাচার করে নেপাল সীমান্তে৷ নেপালের সিন্ডিকেট আবার চড়া দামে ওই জাল নোট বিক্রি করে উত্তর ভারতের এজেন্টদের৷ কাঠমান্ডু-সহ নেপালের বিভিন্ন শহরে সমাগম হয় ভারতীয় পর্যটকদের৷ ওই শহরগুলিতেও ছড়ানো হয় পাকিস্তানে তৈরি হওয়া পাঁচশো ও হাজার টাকার জাল নোট৷

ওই পাচারচক্রের মাথা রাজুকে ধরতে জাল নোট পাচারকারী সেজেই ফাঁদ পাতেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷ তাঁদের ৩০০টি হাজার টাকার জাল নোট বিক্রি করতে এসেই বিহারের বেতিয়ায় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় রাজু৷ জেরার মুখে রাজু স্বীকার করেছে যে, বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জের মোনাকাসা, খাসেরহাট ও কারসাট অঞ্চলের সিন্ডিকেটের মাথাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই জাল নোট পাচারের ব্যবস্থা করত সে৷ আপাতত সে পাটনার জেলে থাকলেও তাকে জেরা করে অন্য মাথাদের বিষয়ে আরও তথ্য জানা হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement