Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাথমিক নিয়োগের চক্র ফাঁস, সিআইডির জালে পাণ্ডা

চাকরি দেওয়া নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৭, ২০১৮, ০৯:০৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৭, ২০১৮, ০৯:০৯

options
link
প্রাথমিক নিয়োগের চক্র ফাঁস, সিআইডির জালে পাণ্ডা zoom
Advertisement

অর্ণব আইচ: নিউ মার্কেটে গাড়িটি আটকানোর পরও তাতে ‘পুলিশ’ স্টিকার দেখে একটু থমকে গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। ভিতরে যে রাশভারী ব্যক্তিটি বসেছিলেন, তিনি সত্যিই কোনও পুলিশকর্তা কি না, তা নিয়ে তাঁরা একটু সংশয়েই পড়ে গিয়েছিলেন। যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যে কেটে যায় সেই সংশয়। ‘পুলিশ’ স্টিকার লাগানো গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে এসে যাঁকে ধরা হয়, তিনি কোনও পুলিশ অফিসারই নন। কলকাতার এক নামী প্রোমোটার। কলকাতাকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের নামে কোটি টাকার জালিয়াতিতে অভিযুক্ত। উত্তরবঙ্গে হওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এই চক্রের জাল গোটাল সিআইডি।

[বাসের রেষারেষিতে প্রাণ গেল দুই নাবালক স্কুটার আরোহীর, আহত ১]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট থেকে কলকাতার ওই প্রোমোটারকে গ্রেপ্তার করলেন সিআইডি আধিকারিকরা। সিআইডির অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের বাসিন্দা ধৃত প্রোমোটার ও ব্যবসায়ী সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এই চক্রের এক মাথা। তাঁকে জেরা করলেই সন্ধান মিলবে চক্রের অন্য মাথাদের। ধৃত প্রোমোটারের কাছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ প্রাইমারি এডুকেশন’ লেখা একটি লেটার প্যাডও উদ্ধার করা হয়। ওই প্যাডটি আসল না কি জাল, তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ধরা পড়ার সময় ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ৫০ হাজার টাকা। আটক করা হয়েছে ‘পুলিশ’ স্টিকার লাগানো গাড়িটিও। সোমবার রাতে তাঁকে ভবনে নিয়ে যায় সিআইডি। মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয় তাঁকে।

পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা মহাদেব মণ্ডল গত ৩০ মে বংশীহারি থানায় এই জালিয়াতির বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। মহাদেববাবুর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর পরিচিত গঙ্গারামপুর ও ধূপগুড়ির দুই বাসিন্দা বলে, হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ‘অর্গানাইজার টিচার’-এর পদে বেশ কিছু লোক নিয়োগ করা হবে। তারা দাবি করে, সল্টলেকের বিকাশ ভবনের কয়েকজন আধিকারিকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। প্রার্থীপিছু আড়াই লক্ষ টাকা দিলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের চাকরি পাওয়া যাবে বলে জানায় তারা। প্রথমে দশ হাজার টাকা করে আগাম দিতে হবে ও চাকরি পাওয়ার পর দিতে হবে আড়াই লক্ষ টাকা করে। অভিযোগকারী, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও আত্মীয়রা তাদের বিশ্বাস করে ফেলেন। কিছুদিনের মধ্যেই নিজের বাড়িতে তাদের ডেকে অভিযোগকারী এক লক্ষ টাকা দেন। এর পর কলকাতায় এসে একটি হোটেলের ঘরে তাদের সঙ্গে দেখা করে আরও চার লক্ষ টাকা দেন বংশীহারির ওই বাসিন্দা।

[কলেজের কমনরুমে বসেই মাদক সেবন! সাসপেন্ড ২ পড়ুয়া]

তাঁর ও পরিবারের অন্য চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস বাড়াতে জালিয়াতি চক্রের উত্তরবঙ্গের ওই দুই এজেন্ট ও কলকাতার আরও দুই মাথা তাঁদের সল্টলেকের বিকাশভবনে নিয়ে যান। সিআইডির কাছে ওই ব্যক্তির অভিযোগ, তাদের মধ্যে ধৃত সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন। তিনি নিজেকে প্রভাবশালী বলে পরিচয় দেন। তাঁদের বিকাশ ভবনের ভিতর এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি নিজেকে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। তাঁর কাছে জালিয়াতি চক্রের মাথারা হাই কোর্টের অর্ডার ও প্রার্থীদের নাম জমা দেয়। সেদিনই তাঁদের কাছ থেকে আরও ৫১ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। এর প্রায় মাসতিনেক পর তাঁদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করে অভিযোগকারীকে বলেন, নিয়োগপত্রে সমস্যা রয়েছে। তাই যেন তাঁরা এখনই যোগ না দেন।

[বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় আদালতে হাজিরা দিলেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়]

২০১৫ সালের মে মাসে সঞ্জীব ফের ফোন করে তাঁকে ও অন্য চাকরিপ্রার্থীদের সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে ডাকেন। তাঁদের বলা হয়, ‘অর্গানাইজার টিচার’-এর চাকরি পেতে সময় লাগবে। তাই যাঁরা ২০১২ সালে টেট পরীক্ষা দিয়েছেন, তাঁরা ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে দিলেই চাকরি পেয়ে যাবেন। তাঁরা তাতেও রাজি হয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, এর পর বিভিন্ন সময় নগদ ও ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সঞ্জীববাবুকে মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর পর বিকাশ ভবনের ভিতরে তাঁদের ‘ইন্টারভিউ’য়ের নাম করে বহু প্রশ্নও করা হয়। তার পরও তাঁদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়। অভিযোগ, দফায় দফায় মোট ২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরও চাকরি পাননি তাঁরা। যদিও এর পরও তাঁদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়। বংশীহারি থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। চক্রের বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[সল্টলেকের অভিজাত রেস্তরাঁর খাবারে ‘বিষ’, নমুনায় মিলল জীবাণু]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.