২ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ঐত্রীর পরিবারকে শাসানি, আমরির ইউনিট হেড জয়ন্তীকে আজই থানায় তলবের সম্ভাবনা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 18, 2018 5:51 am|    Updated: January 18, 2018 5:51 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আমরি কাণ্ডে নয়া মোড়। মুকুন্দপুরের বেসরকারি হাসপাতালটির ইউনিট হেড জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়কে বৃহস্পতিবারই থানায় ডেকে পাঠাতে পারে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি, মারধর ও শাসানি দেওয়ার অভিযোগে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে পূর্ব যাদবপুর থানায়। ৩২৩, ৩৪১ ও ৫০৬ ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। বুধবার আমরি হাসপাতালে ভুল ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগে আড়াই বছরের শিশুকন্যা ঐত্রী দের মৃত্যুর ঘটনায় আজই জয়ন্তীকে জেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আজই তাঁকে তলবের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সূত্রের খবর। পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ আজই আমরি হাসপাতালে জয়ন্তীর চেম্বারের সিসিটিভি খতিয়ে দেখতে পারে বলে সূত্রের খবর। আজই জয়ন্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারী অফিসাররা। এদিকে, আজই কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছেছেন ঐত্রীর বাবা ও মা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে অপেক্ষা করছেন। ‘দিদির কাছে আমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাইতে এসেছি, প্রতিক্রিয়া ঐত্রীর মা শম্পা দে-র।

[শাসানির অভিযোগ আমরির বিরুদ্ধে, কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঐত্রীর পরিবার]

সূত্রের খবর, আমরি হাসপাতালে জয়ন্তীই নাকি শেষ কথা বলতেন! তাঁকে সমীহ করে চলতেন ডাক্তার-নার্সরা। সকলেই তাঁকে ভয় পেতেন। জয়ন্তীর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে বিস্তর। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস নেই হাসপাতালে কারও। কারণ? কারণ তিনি হাসপাতাল কর্তাদের ‘কাছের লোক’। নিন্দুকরা বলেন, মুকুন্দপুর আমির হাসপাতালের সর্বময় কর্ত্রী জয়ন্তী। ঐত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার যখন শোকার্ত, সেই সময় সকলের সামনে, শয়ে শয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে তাঁর হুমকি, ‘আমার থেকে বড় মস্তান কেউ নেই।’ তাঁর বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্মীদের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জয়ন্তী। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ছুটিতে পাঠিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রের খবর, ফ্রন্ট ডেস্কের কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেন জয়ন্তী। পরে প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার পদে ছিলেন। তারপর অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট হন আর এখন মুকুন্দপুর আমরির ইউনিট হেড তথা ভাইস প্রেসিডেন্ট। এই জয়ন্তীর বিরুদ্ধেই গতকাল রাতে একটি পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে। তার আগে ঐত্রীর পরিবার আরও দুটি লিখিত এফআইআর করে যার মধ্যে একটিতে জয়ন্তীর নাম রয়েছে। আজই জয়ন্তীকে ডেকে গোটা ঘটনা জানতে চাইতে পারেন তদন্তকারী অফিসাররা।

AMRI-hos-web

[ছেলের পৈতে কে দেবেন? মামলায় ধন্দে স্বয়ং বিচারপতিও]

গোটা ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। ঐত্রী দে নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয় মুকুন্দপুর আমরিতে। গত রবিবার রাতে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাচ্চাটিকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। গতকাল ভোরে অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, তারপরই মেয়ের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। শুরু হয় খিঁচুনি। শ্বাসকষ্ট বাড়লে অক্সিজেন দেওয়ার দরকার পড়ে। কিন্তু, ‘মাস্ক’ খুঁজে না পাওয়ায় তা সময়মতো দেওয়া যায়নি। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হার্ট ফেল করে শিশুটির মৃত্যু হয়। বিচিত্রভানু দাশগুপ্ত নামে আমরির একজন ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ সিপিআর দিয়ে ঐত্রীর হার্ট সচল করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঐত্রীর বাবা ও মা। শিশুটির বাড়ি সোনারপুর থানার কামালগাজিতে। খবর পেয়ে বহু আত্মীয় পরিজন হাসপাতালে চলে আসেন। শুরু হয় বিক্ষোভ। ঐত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ভুল ইনজেকশন দেওয়াতেই এই মৃত্যু। যদিও হাসপাতালের তরফে গ্রুপ সিইও রূপক বড়ুয়া চিকিৎসায় গাফিলতির কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, “শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য সব রকম চেষ্টা করা হয়েছে।” শিশুটির ময়নাতদন্তের সুপারিশ করেন আমরির ডাক্তাররা। বিচিত্রভানুর বক্তব্য, “অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশনের প্রভাবে হার্ট ফেল হওয়াটা অসম্ভব। সম্ভবত শিশুটির হৃদযন্ত্রে কোনও ত্রুটি বা শরীরে অন্য কোনও অসুস্থতা ছিল। ময়নাতদন্ত হলেই তা পরিষ্কার হবে।”

[অভিযুক্তর পাশে দাঁড়িয়ে ঐত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধেই থানায় আমরি কর্তৃপক্ষ]

যদিও মৃত ঐত্রীর মা ওই দাবি উড়িয়ে বলেন, ‘ঘুমের ঘোরে নার্স আমার মেয়েকে ভুল ইনজেকশন দিয়েছে। ভোর সাড়ে পাঁচটায় আমার মেয়ে বমি করতে চাইছিল। আমি চিৎকার করে বলি একটা পাত্র দিতে, সিস্টার দিল না। আমি ডাক্তার ডাক্তার করে চিৎকার করছি। কিন্তু ডাক্তার ঘুমোচ্ছে। আমার মেয়ে স্বাস নিতে পারছিল না। আমি নার্সকে বললাম, অক্সিজেন দিন। কিন্তু ওরা কী অক্সিজেন দেবে, স্যাচুরেশন মেশিনই তো নষ্ট। আমার সামনে ডাক্তার এ কথা বলল নার্সকে। আমার মেয়েটা ঠিক সময় অক্সিজেন পেলে বেঁচে যেত।’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঐত্রীর মা-বাবা তার হার্টের অসুখ লুকিয়ে হাসপাতালে ভরতি করেছিল। কিন্তু ঐত্রীর বাবা আজ মেডিকা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের ১২ জুলাই, ২০১৬-র একটি রিপোর্ট দেখিয়ে দাবি করেন, তাঁদের শিশুকন্যার কোনও জটিল হার্টের অসুখ ছিল না। গোটা ঘটনায় যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যাচ্ছেন মৃতার মা-বাবা। ‘আর কোনও মায়ের কোল যেন খালি না হয়, দিদিকে শুধু এটুকুই বলব।’

[আমার চেয়ে বড় মস্তান আর নেই, আমরি কর্তার শাসানি মৃতার মাকে]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement