সুব্রত বিশ্বাস: প্রাতরাশে ওমলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন ২৪ জন রেলযাত্রী। ঘটনাস্থল হাওড়াগামী পুরী-শতাব্দী এক্সপ্রেস। ভোর ৫.৪৫ মিনিটে পুরী থেকে হাওড়ার উদ্দেশে রওনা হয় শতাব্দী এক্সপ্রেস। ট্রেনের মধ্যেই যাত্রীদের প্রাতরাশ দেওয়া হয়। প্রাতরাশে কাটলেটের পাশাপাশি ওমলেটও ছিল। ওমলেট খাওয়ার পরেই যাত্রীরা অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। প্রথমেই শিশুদের বমি শুরু হয়। একে একে প্রত্যেকেরই। যাঁরাই প্রাতরাশ নিয়েছেন সকলেই বমি করতে শুরু করেন। ভুবনেশ্বর ছাড়ার পর পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। খড়গপুরে ট্রেন পৌঁছালে অসুস্থ যাত্রীদের নামিয়ে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়। ২৪জন যাত্রীর মধ্যে ১৪ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় খড়গপুর হাপাতালে ভরতি করা হয়। বাকি ১০ জন যাত্রীকে দেখভাল করেন রেলের চিকিৎসকরাই। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁদের ফের শতাব্দীতে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। হাওড়াতে ট্রেন পৌঁছানোর আগেই ১০ জনের একজন ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন।
[স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পর অনেকটাই সুস্থ দিলচাঁদ]
এদিকে হাওড়া স্টেশনে নামার পর রেলের কর্তাদের সামনেই বমি করতে থাকেন এক যাত্রী। তিনি বরাহনগরের বাসিন্দা। বমির পর একটু সুস্থ বোধ করলে বলেন, প্রাতরাশ সম্পূর্ণ করার পরে পরেই ডিহাইড্রেশন শুরু হয়ে যায়। তার একটু পর থেকেই লাগাতার বমি। যাত্রীদের অসুস্থতার খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন আইআরসিটিসি-র পূর্বাঞ্চলের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার দেবাশিস চন্দ্র। যাত্রীদের সঙ্গে তিনি কথাও বলেন। তারপর জানান, একটি ঠিকাসংস্থা রেলের খাবার খাবার সরবরাহ করে। প্রাতরাশে কোনওরকম গরমিল ছিল কি না তা জানতে সংস্থার মালিকের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। কাটলেট না ওমলেট, কোনটি আগে তৈরি হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাতরাশ তৈরির উপকরণের সময়সীমা অতিক্রান্ত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী থেকে বিষক্রিয়া হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তে যদি ঠিকাদার সংস্থার কোনওরকম গাফিলতি ধরা পড়ে তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বাতিলও করা হতে পারে।
[মল্লিকবাজারে বহুতলে আগুন, আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা]
মূলত, হাওড়াগামী পুরী-শতাব্দী এক্সপ্রেসের সি-২ ও সি-৩ কামরার যাত্রীরাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে ট্রেনের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা একেবারে নতুন কিছু নয়। এর আগেও শিয়ালদহ-রাজধানীতে পচা খাবার পরিবেশনের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পর বাতিল করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট ঠিকা সংস্থাকে। নানা সময়ে ট্রেনের খাবারে পোকা, আরশোলা, টিকটিকি পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তদন্ত হলেও পরিস্থিতি যে বদলায়নি তার প্রমাণ বুধবারের ঘটনা। দূরপাল্লার বেশকিছু ট্রেনে রেল নিজে খাবার দেয়। কিছু ট্রেনে আইআরসিটিসি। ঠিকা সংস্থাগুলি কতটা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার তৈরি করে তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যদিও আইআরসিটিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খাবারের মান ঠিক রাখার চেষ্টা সর্বতোভাবে করা হয়। ঠিকাদার সংস্থা গুলিকে তাজা খাবার পরিবেশনের নির্দেশিকাও দেওয়া রয়েছে। এছাড়া মাঝেমধ্যেই সারপ্রাইজ চেকিং চলে। অভিযোগ পেলে তদন্তও হয়। এদিনের ঘটনাওরও পূর্ণাঙ্গ তদন্তে হবে। তদন্ত করে দেখবে আইআরসিটিসি।
সর্বশেষ খবর
-
বৃদ্ধের খাবারে ঘুমের ওষুধের কড়া ডোজ, আলমারি ‘সাফ’ করে গায়েব পরিচারিকা!
-
পরিবর্তনের দুর্গোৎসবে শুধু ‘বড়’ নয়, ‘ছোট’দের পুজোর উদ্বোধনেও মুখ্যমন্ত্রী, তৈরি হচ্ছে তালিকা
-
কলকাতায় বিশ্বকাপারদের হ্যাটট্রিক! ব্রাজিল-উরুগুয়ের পর ফের বিদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত
-
কলকাতার বধূকে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশে পাচার! অবশেষে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরলেন মধুমিতা
-
৪ নেতাকে সাসপেন্ড, এক্তিয়ার মনে করিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সভানেত্রীকে শোকজ করল বিজেপি!