BREAKING NEWS

১৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

ডানদিকে হার্নিয়া, অস্ত্রোপচার হল বাঁ-দিকে! যন্ত্রণা নিয়ে স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ রোগী

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: September 15, 2020 12:30 pm|    Updated: September 15, 2020 12:57 pm

An Images

অভিরূপ দাস: ডানদিকের তলপেটে ব্যথা ছিল। পরীক্ষা করে চিকিৎসক দেখেন, হার্নিয়া (Hernia) হয়েছে। সময়মতো অস্ত্রোপচারও হল। কিন্তু বাঁ-দিকে!
অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা কমা তো দূরঅস্ত। উলটে ব্যথায় নড়াচড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গোটা ঘটনায় কাঠগড়ায় সল্টলেকের আনন্দলোক হাসপাতাল (Anandalok Hospital, Salt Lake)। রোগীর অভিযোগ পেয়ে কড়া ব্যবস্থা নিল স্বাস্থ্য কমিশন।

শ্যামনগরের বাসিন্দা (Resident at Shyamnagar) বছর বাহান্নর সমীর দেবনাথ। ২০১৯ মাঝামাঝি থেকেই তলপেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায় ইনটেস্টিনাল হার্নিয়া। অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালের দুর্বল জায়গায় আটকে গিয়েছে। ব্যথা ছিল সাংঘাতিক। চিকিৎসক পরামর্শ দেন অস্ত্রোপচারের। সল্টলেকের আনন্দলোক হাসপাতালে ২০১৯ এর ডিসেম্বরে অস্ত্রোপচার হয়। দিন তিনেক হাসপাতালে থাকার পর বাড়ি ফিরে যান রোগী। তারপরেই বাঁধে গন্ডগোল। ডানদিকে হার্নিয়া হওয়ার কারণে তলপেটের ডানদিকে কুঁচকির অংশে ফোলা ছিল। বাড়ি ফিরে সমীরবাবু দেখেন, সেই জায়গা একই রকম রয়েছে। ব্যথায় টনটন করছে। ভালো করে দেখতে গিয়েই তাজ্জব বনে যান সমীরবাবু। সেলাইয়ের দাগ রয়েছে বাঁ-দিকে! বুঝতে বাকি থাকে না যে উলটোদিকে অস্ত্রোপচার (Operation on wrong side)) করেছে হাসপাতাল।

[আরও পড়ুন: মেট্রোর দোসর অটো, কলকাতার অন্তত ৭০ টি রুটে ফের গড়াল তিনচাকা]

সাধারণত হার্নিয়া নির্ণয় করতে উন্নতমানের কোনও পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। রোগীর কাশি দেখেই চিকিৎসক বুঝতে পারেন, কোন দিকে হার্নিয়া রয়েছে। সেখানে আনন্দলোক হাসপাতালের চিকিৎসক কীভাবে সামান্য একটা অস্ত্রোপচার ভুল দিকে করলেন, তা ভেবে পাচ্ছে না স্বাস্থ্য কমিশন (Health Commission)। অস্ত্রোপচার না হলে হার্নিয়া ক্রমশ তা বড় হতে থাকে। বড় হার্নিয়া চার পাশের টিস্যুর ওপর চাপ তৈরি করে। নানা শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। সমীরবাবুর ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। আপাতত তিনি ব্যথায় শয্যাশায়ী।

[আরও পড়ুন: ভাল চিকিৎসার বিনিময়ে ঘুষ চাইলেন কলকাতার নার্সিংহোমের ডাক্তার! রোগীর অভিযোগে শোরগোল]

এদিকে নিম্নমধ্যবিত্ত সমীরবাবুর পক্ষে এই মুহূর্তে আবার অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়। তিনি স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। চেয়ারম্যান অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ”ওই ব্যক্তির আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। আমরা ওনাকে প্রস্তাব দিয়েছি, উনি চাইলে আমরা সরকারি কোনও হাসপাতালে নিখরচায় এই অস্ত্রোপচার করিয়ে দেব।” স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনে এই অভিযোগ জমা পড়লেও, চিকিৎসায় গাফিলতির বিচার করে মেডিক্যাল কাউন্সিল (Medical Council of India)। স্বাস্থ্য কমিশনের তরফে অবিলম্বে আনন্দলোকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ কাউন্সিলে জমা দিতে বলা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement