ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: আসন সমঝোতা থেকে প্রচার। জোট নিয়ে আলোচনা যত গড়াচ্ছে, তত জট পাকছে সমঝোতার সম্ভাবনায়। সিপিএমের ছেড়ে দেওয়া ‘উচ্ছিষ্ট’ আসন কেন নেবে কংগ্রেস। দলে প্রথামাফিক আলোচনায় তা চূড়ান্ত করে কেন বামেদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হল না, এই নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। ক্ষোভের আঁচ বাড়ছে প্রদেশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।
গত কয়েকদিনে জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে মূলত সিপিএমের (CPM) রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে শুধুমাত্র প্রদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘দ্বিপাক্ষিক’ আলোচনা চলছে বলে প্রথম থেকেই ক্ষোভ বাড়ছিল। তার মধ্যে বামফ্রন্ট দক্ষিণবঙ্গে পরপর যতগুলো আসন কংগ্রেসকে ছেড়েছে তাকে তাদের ‘দাক্ষিণ্য’ বলে মনে করছেন দক্ষিণবঙ্গের জেলা নেতারা। প্রথমে তা নিয়ে অভিমান ছিল। হাইকমান্ডকে তা জানানোও হচ্ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে তা ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রথমে বারাকপুর, বসিরহাটের পাশাপাশি আরও একটি আসনের দাবি করেছিল নেতৃত্ব। সেসব শুরুতেই বাদ হয়ে যায়। জানানো হয় বারাকপুর বা অন্য কোনও একটি আসন দেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, বনগাঁ আসনটি সিপিএম কংগ্রেসের জন্য ছাড়তে পারে। এর পরই প্রবল ক্ষুব্ধ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এভাবে একের পর এক ‘আলোচনাহীন সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার কথা চিঠি লিখে হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে। এক নেতার কথায়, “সিপিএম কি আমাদের দল চালায়? তাদের ছেড়ে দেওয়া আসন আমরা কেন নেব?”
[আরও পড়ুন: বরানগর উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকাই, ভগবানগোলায় কে?]
এর মধ্যে শুক্রবার একটি ফেসবুক পোস্ট করে এই ইস্যুতেই প্রশ্ন তোলেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ। জানা যাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গে বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা (গ্রামীণ), উত্তর ২৪ পরগনা (শহর), দক্ষিণ ২৪পরগনা (গ্রামীণ), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (টাউন), দক্ষিণ কলকাতা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, দুই বর্ধমান-সহ মোট ১৬টি সাংগঠনিক জেলায় কংগ্রেসের প্রার্থী নেই। প্রদীপ লিখেছেন, ‘আরও ৩-৪টে আসনে হয়তো শিকে ছিঁড়বে। তিনটে উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে দেবে ভিক্ষের ঝুলিতে। তৈরি হও বীর সৈনিকরা।’ তাঁর ক্ষোভ, “কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা ৩০টি আসনে বামফ্রন্টকে ভোট দিয়ে ৬ শতাংশ ভোটকে ১২ শতাংশ করার দায়িত্ব নেবে। অন্য দলের সর্বভারতীয় তকমা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। আর কংগ্রেস কর্মীরা শুধু সারা বছর প্রয়াত নেতা-নেত্রীদের জন্মদিন আর মৃত্যুদিন পালন করে যাবে।” তাঁর কথায়, ২০০৯, ২০১১-র পর, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১-এর পর ২০২৪ আরও একটা ‘অভিশপ্ত সাল’ হতে চলেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কর্মীদের দাবিদাওয়াও যুক্তিযুক্ত বলে জানাচ্ছে নেতৃত্ব। জেলার গ্রামীণ সভাপতি জয়ন্ত দাসের কথায়, “দক্ষিণবঙ্গে আসন নিয়ে ভাবনাচিন্তা হলে এদিকের কর্মীদের মনোবল বাড়ত।” এই জেলা থেকে ডায়মন্ড হারবার আসন নিয়ে আলোচনা চলছে। সেখানে দলের মুখপাত্র সৌম্য আইচের নাম চর্চায়। অন্যদিকে, যাদবপুর আসনে আগেরবার বিকাশ ভট্টাচার্য জোট প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁকে সমর্থন দেয় কংগ্রেস। মিলিত ভোট শতাংশ হয় ২১%। সেখানে সিপিএম বিগত বিধানসভায় ৫.৬% ভোট পেয়েছিল, আর কংগ্রেস ৫%। সামান্য ফারাক ছিল। তার পরও কংগ্রেসের কর্মীদের কথা না ভেবে আসন ভাগ নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সিপিএমকে।
[আরও পড়ুন: কলকাতায় নতুন ছবির শুটিংয়ে কাজল, যাবেন বোলপুরেও]
এদিকে একাধিক জেলায় সিপিএম পার্টি অফিস থেকে কংগ্রেস কর্মীদের ফোন করে প্রচারে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। এ নিয়ে নেতৃত্বকে অবিলম্বে ধন্দ কাটানোর জন্য দাবি ওঠে। এই নিয়ে শুক্রবার প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে বৈঠকে বসেছিল প্রচার কমিটি। আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে সেই বৈঠকেও এই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রথমে একাধিক সাংগঠনিক নেতৃত্বের কাছে এ নিয়ে প্রশ্ন আসছিল জেলা ও রাজ্যের নানা প্রান্তের কর্মীদের। সেই প্রশ্নই তুলে ধরা হয় সাত্তারের কাছে। সূত্রের খবর, সাত্তার জানিয়েছেন, “বামফ্রন্টের সঙ্গে যৌথভাবে কংগ্রেস এই লোকসভা ভোটে লড়াই করছে। প্রচারও যৌথভাবেই হবে। রাজ্য হোক বা জেলা বামফ্রন্ট নেতৃত্ব এ নিয়ে সহযোগিতা চাইলে তাঁদের সঙ্গে যৌথ প্রচার হবে।”
সর্বশেষ খবর
-
ইয়ামালের গতি, পেদ্রির ম্যাজিকের সঙ্গে রক্ষণ-কাঁটাও! নতুন ‘তিকিতাকা’য় বিশ্বসেরা হবে স্পেন?
-
কোভিড থেকে আমফান, মহাসংকট মোকাবিলার খতিয়ান দিয়ে কোথায় আক্ষেপ রয়ে গেল প্রাক্তন মহানাগরিকের?
-
বিদেশি লিগে খেলতে অবসরের হিড়িক! এবার কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই
-
নাগপুরে ৬ লক্ষ টাকার কল চুরি! ‘প্রেমিকার জন্য আইফোন কিনব’, পুলিশ ধরতেই জানাল দুই যুবক
-
স্বপ্নে বারবার দেখা দিচ্ছেন শনিদেব? জানুন ভাগ্যের চাকা ঘুরবে নাকি বাড়বে বিপদ!