৩০ আষাঢ়  ১৪২৬  সোমবার ১৫ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

অর্ণব আইচ: সন্তানরা চাকুরিরতা৷ বৃ্দ্ধা মাকে নার্সের ভরসায় বাড়িতে রেখে যেতেন৷ কিন্তু যিনি রক্ষক, তিনিই ভক্ষক হয়ে উঠলেন পাটুলির ঘোষপাড়া লেনের বাসিন্দা সুকুমারী সাহার ক্ষেত্রে৷ বয়স্ক অসুস্থ রোগীকে শুশ্রূষার বদলে প্রায়শয়ই মারধর করতেন অভিযুক্ত নার্স সংযুক্তা পাইক৷ অভিযোগ পেয়ে তাঁকে আটক করে পুলিশ৷

[আরও পড়ুন: ভোররাতে বঙ্কিম সেতুতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন, চাঞ্চল্য হাওড়ায়]

পাটুলির ঘোষপাড়া লেনের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বছর পচাশির সুকুমারী সাহা৷ ছেলে, মেয়ে দুজনেই চাকরি করেন৷ দিনভর বাড়িতে থাকতে পারেন না৷ এদিকে মায়েরও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থতা বাড়ছে৷ তাই সারাদিন মায়ের খেয়াল রাখতে একজন প্রশিক্ষিত নার্সকে নিয়োগ করেন সুকুমারী দেবীর ছেলেমেয়ে৷ সংযুক্তা পাইক নামে ওই নার্স মাস চারেক ধরে সুকুমারী দেবীর দেখভালের দায়িত্বে বহাল৷ সারাদিন তাঁরই তত্বাবধানে থাকতেন বৃদ্ধা মা, সন্ধের পর মেয়ে ফিরে মায়ের সেবার দায়িত্ব নিতেন৷ এভাবেই চলছিল৷

আচমকা একদিন সুকুমারী দেবীর মেয়ের চোখে পড়ে, মায়ের হাতের বিভিন্ন জায়গায় কালশিটে৷ তাহলে কি মা কোথাও পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছেন? নাকি অন্য কোনওভাবে লেগেছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কিছুটা খটকা লাগে মেয়ের৷ অসুস্থ মায়ের সঙ্গে কথা বলে আভাস পান, তাঁর সেবার দায়িত্বে থাকা নার্সের ভূমিকা মোটেই সন্তোষজনক নয়৷ বরং বেশ সন্দেহজনক৷ সন্দেহ নিরসনে ছেলেমেয়ে মিলে সুকুমারী দেবীর ঘরে সিসিটিভি বসান৷ নার্সের উপর নজরদারি শুরু হয়৷ আর তাতেই সত্যিটা জলের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়৷ সিসিটিভি ফুটেজে জ্বলজ্বল করছে দৃশ্য – নার্স সংযুক্তা বৃদ্ধার সেবার পরিবর্তে তাঁকে মারধর করছেন, কখনও জোর করে পাশ ফিরিয়ে দিচ্ছেন৷ সবমিলিয়ে, তাঁর কাজে সেবার চেয়ে বিরক্তি, নির্মমতার ছাপই বেশি৷ সিসিটিভিতে এমনও দেখা যাচ্ছে, কাজে কিছুটা ফাঁকি দিয়ে নার্স ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ অসুস্থ সুকুমারী দেবীকে ঠিকমত খাওয়াচ্ছেন না৷

[আরও পড়ুন: ‘হেলমেট পরুন’, বেপরোয়া বাইকচালকদের সতর্ক করতে বাড়ি বাড়ি যাবে পুলিশ]

এসব দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি সুকুমারী সাহার মেয়ে৷ পাটুলি থানায় সংযুক্তা পাইকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের হাতে ধৃত সংযুক্তা৷ আইন মেনে তাঁর উপযুক্ত শাস্তিও হবে৷ কিন্তু এই ঘটনা আরও একবার বুঝিয়ে দিল, আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে সত্যিই কতটা অসহায় বার্ধক্যজীবন৷ কর্মরত সন্তানরা অভিভাবকের সেবাযত্নের ভার ছেড়ে দেন প্রশিক্ষিত সেবাকর্মীর উপর৷ কিন্তু তাঁদেরও চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায় না৷ সেবার নামে এমন নির্মমতা ওই পেশাটিকেই ক্রমশ সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তুলছে৷  

দেখুন ভিডিও:

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং