১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মহিলা আইপিএসের নেতৃত্বে গার্ড অফ অনার, ‘দিন বদলের গান’ শোনাল নবান্ন

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 28, 2016 10:35 am|    Updated: May 28, 2016 10:35 am

An Images

নবান্নে পুলিশের গার্ড অফ অনার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ ছবি: অমিত ঘোষ৷

তরুণকান্তি দাস: দুই নারী৷ একজনের হাতে তরবারি৷ অন্য নারীর হাতে রাজ্যপাট৷ দু’জন মুখোমুখি৷ তবে সম্মুখ সমরে নয়৷ বরং সম্মান প্রদর্শনের মঞ্চ৷ শুক্রবার যার সাক্ষী রইল নবান্ন৷

সেখানেই তো তরবারি হাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গার্ড অফ অনার দিল কলকাতা আর্মড পুলিশের টিম৷ যার নেতৃত্বে তরবারি হাতে আইপিএস অফিসার স্বাতী ভাঙ্গালিয়া৷ ২০১৩-র আইপিএস৷ এখন বারাকপুরে পোস্টিং৷

শুক্রবার দুপুর৷ ঠিক দুটো বেজে একত্রিশ৷ মুখ্যমন্ত্রী যখন নবান্নে ঢোকার মূল ফটকের অদূরে গাড়ি থেকে নেমে নিজস্ব দৃপ্ত ভঙ্গিতে সোজা হাঁটা শুরু করলেন তখন বেজে উঠল বিউগল৷ আগেই সানাইয়ের মূর্ছনায় ভাসছিল দ্বিতীয় হুগলি সেতু লাগোয়া নীল সাদা ১৪ তলা বাড়িটি৷ যার প্রতিটি তলে কর্মীদের উৎসুক মুখ৷ চারদিকে রাস্তায় জনস্রোত৷ ‘জয় হো’ স্লোগান৷ তিনি হাসি মুখে গার্ড অফ অনার নিয়ে হাত নাড়লেন৷ সটান ঢুকে গেলেন লিফ্টে৷ যেন কিছুদিনের বিরতির পর নিজের ঘরে ফেরা৷ সেই প্রত্যাবর্তনের শুভ মুহূর্তে স্বাগত জানানোর অন্যতম অনুষ্ঠানের মুখ আইপিএস স্বাতী ভাঙ্গালিয়া ভাঙা বাংলায় বিনয়ী হন, “আমি গর্বিত৷ এমন মহিলা প্রশাসককে গার্ড অফ অনার দিতে পারা তো গর্বের৷”

এই ভবনের সাততলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে নবান্নের কর্মীরা কয়েক ঝুড়ি ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে৷ সবাই আবেগের জোয়ারে ভাসছেন৷ সকলেই প্রস্তুত তাঁদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রীর উপর পুষ্পবৃষ্টি করতে৷ কিন্তু পুলিশের অনুরোধে তা করা গেল না৷ তাতে কী? নিয়ম, আইন কবে কোথায় মানুষের আবেগের জোয়ারকে ভাটার টানের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পেরেছে? এদিনও পারা গেল না৷ হাজার মনের উচ্ছ্বাস, হাজার মনের উল্লাস প্রায় ঢেউ হয়ে উঠল৷ পিছনের শিবপুর সরসীবালা গার্লস হাইস্কুলের রাস্তা শরৎ চ্যাটার্জি রোডে যা ভিড় তাতে কে বলবে ছুটি চলছে? রাস্তা জুড়ে মহিলারা৷ কেউ বসে, কেউ ঠায় দাঁড়িয়ে৷ বলছেন, “একবার দিদিকে দেখতে চাই৷ বসে আছি৷ ঢোকার সময় এক ঝলক দেখলাম৷ হাত নাড়লেন আমাদের দিকে৷ আমাদের সরকার৷ আমাদের নেত্রী৷ বেরিয়ে যাওয়ার সময় আরও কাছ থেকে যদি একঝলক..”৷ কেউ বলছেন, “উদ্বেগের দিনরাত্রি শেষ৷ আমরা নিশ্চিন্তে ছিলাম, থাকব৷”

সত্যিই তাই৷ এদিন রেড রোডে শপথ গ্রহনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার তিনি যখন নবান্নে ঢুকছেন, তার একটু আগেই নিজস্ব আলাপচারিতায় মেতেছিলেন মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে তথ্য দফতরের সচিব অত্রি ভট্টাচার্য-সহ আইএএসরা৷ পাশেই গোল হয়ে হাল্কা কথা চালাচালি পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের সঙ্গে ডিজি জিএমপি রেড্ডি, আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা, আইপিএস সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ বোঝাই যাচ্ছে বেশ ‘কুল’ রয়েছেন আমলাকুল৷ সবার হাসি মুখ৷ নিশ্চিন্তিভাব৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি দেখেই এগিয়ে গেলেন মুখ্যসচিব৷ বিরাট পুষ্পস্তবক দিলেন৷ স্বাগত জানালেন৷ সঙ্গী অন্যরাও৷ হাসলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেই হাসিতে ছিল আস্থার বাঙ্ময় প্রতিফলন৷ এরই মধ্যে বেজে উঠল ভেরি৷ মহিলা আইপিএস স্বাতীর তরবারি খাপ থেকে বাইরে৷ মোট ২৫ জনের টিমে স্বাতী ছাড়া ত্রিদীপ ভট্টাচার্যর হাতেও তলোয়ার৷ অন্যদের হাতে এসএলআর৷ গঙ্গাপাড়ে তোপধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে সূচনা হল আর এক অধ্যায়ের৷ যে ছবি এ রাজ্য আগে দেখেনি৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই পুলিশকর্মী থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরাও ব্যস্ত হয়ে ধরে রাখতে চাইলেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ভিডিও৷ যাঁরা পারলেন না, তাঁরা অন্যদের কাছ থেকে আকুতি জানিয়ে মোবাইলে ট্রান্সফার নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন৷ একটু পরেই একে একে মন্ত্রীরা এসে পড়লেন৷ প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক৷ সেই বৈঠকে মন্ত্রীদের দায়িত্ব, আগামিদিনের কর্তব্য বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম দিন যখন তিনি তাঁর দফতর থেকে বেরোলেন তখন সন্ধ্যা নেমেছে৷ লিফটে বেজে চলছে কিংবদন্তি নাগরিক গায়ক ভূপেন হাজারিকার সেই গান৷ নতুন দিনের ডাক….৷

আর গঙ্গার জলে চিকচিক করছে শহরের হ্যালোজেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement