১০ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

পুলিশের জালে কিডনি পাচারচক্রের ‘কিংপিন’ রাজকুমার

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 8, 2016 2:46 pm|    Updated: June 8, 2016 2:46 pm

kidney racket Kingpin arrested in West Bengal

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: ভুয়া কাগজপত্রের সাহায্যে গ্রহীতার আত্মীয় সাজিয়ে কলকাতা থেকে দাতা বা ‘ডোনার’ নিয়ে যাওয়া হত৷ তারপর সেই কিডনি প্রতিস্থাপিত হত  দিল্লি ও কোয়েম্বাটোরের দু’টি হাসপাতালে৷ ডোনার খুঁজে পেতে বিরাট নেটওয়ার্ক সাজিয়েছিল টি রাজকুমার রাও৷ যার মধ্যে সরকারি কর্মচারী থেকে ডাক্তার অনেকেই রয়েছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কিডনি পাচার তদন্তের অফিসার৷

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজারহাট থেকে কিডনি পাচারচক্রের কিংপিন টি রাজকুমার রাওকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের একটি টিম৷ পুলিশ সূত্রের খবর, জেরার মুখে রাজকুমার নিজের অপরাধের কথা কবুল করেছে৷ কয়েকজন সহযোগীর নাম জানিয়েছে৷ এর মধ্যে দীপক কর নামে বাগুইআটির এক বাসিন্দাও রয়েছে৷ তার বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ৷ দীপক পলাতক৷ জানা গিয়েছে, একাধিক এজেণ্টের সহযোগিতাতেই কলকাতায় কিডনি পাচারচক্রের জাল বিস্তার করেছিল রাজকুমার৷

বছরখনেক আগে রাজ্য সরকার উত্তরপ্রদেশ সরকারের থেকে অভিযোগ পেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কলকাতার কিছু ডাক্তার ও বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতাল-কর্তার বিরু‌দ্ধে তদন্ত শুরু করে৷ আলিপুর আদালতে শুনানিও হয়৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর কয়েকজনের বিরু‌দ্ধে এফআইআরও দায়ের করে৷ তখনই বোঝা গিয়েছিল, কিডনি পাচারচক্রের ডালপালা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত৷ জানা গিয়েছিল, অঙ্গ-প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে যে সরকারি নিয়ম-কানুন মানা উচিত ডাক্তারদের, তা অনেকাংশেই লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ৷ অন্যায় হয়েছে জেনেও চুপ করে থাকার পুরস্কার অবশ্য মেলে৷ কিডনি প্রতিস্থাপন করার জন্য বাজারদরের দ্বিগুণ, কোথাও চারগুণ পারিশ্রমিক পান এই ডাক্তাররা৷ যদিও রাজকুমারের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু অন্যরকম৷ সস্তায় ডোনার জোগাড় করার জন্য কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল রাজকুমার৷ প্রতিস্থাপনের কাজ করতেন কোয়েম্বাটোরের ‘কেএমসিএইচ’ হাসপাতাল ও দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার৷ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল৷

জানা গিয়েছে, এই দু’টি হাসপাতাল কিডনি গ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিত রাজকুমারদের৷ গ্রহীতার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রথমে রাজকুমাররা কাগজে বিজ্ঞাপন দেয়৷ স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ব্যাঙ্ক, ডাকঘরের সামনে ‘কিডনি চাই’ বিজ্ঞাপন দিত৷ তারপর কেউ কিডনি দানে সম্মত হলে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট থেকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট যাবতীয় ভুয়া কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরু করত রাজকুমার ও তার টিম৷ প্রশ্ন হল, এই জলিয়াতির কাজ ডাক্তার ও সরকারি কর্মচারী ছাড়া করা কার্যত অসম্ভব৷ জানা গিয়েছে, রোগীর আত্মীয় সেজে ডোনারদের সঙ্গে এই গোটা ‘ডিল’-টা করে রাজকুমার বা তার ঠিক করে দেওয়া এজেণ্ট৷ পুলিশ সূত্রের খবর, এক-একটি কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়৷ বছরখানেক আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব চিঠি লিখে এ রাজ্যকে কিডনি-পাচার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানায়৷ তদন্ত শুরু করেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. বিশ্বরঞ্জন শতপথী৷ উঠে আসে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নাম, কয়েকজন ডাক্তার ও হাসপাতাল-কর্তার নাম৷ কিন্তু ওই পর্যন্তই৷ পরে ধামাচাপা পড়ে যায় গোটা বিষয়টি৷ রাজকুমার ধরা পড়ায় ফের সেই ঘটনা উঠে এসেছে তদন্তে৷ পুলিশ সূত্রে অন্তত এমনটাই দাবি করা হয়েছে৷

এদিকে, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ দিনের পর দিন পুলিশের নজর এড়িয়ে কলকাতায় কিডনি চক্র কী করে চালাত রাজকুমার ও তার টিম? জানা গিয়েছে, রাজকুমারের দু’টি বাড়ি রয়েছে৷ রাজারহাটের বাড়িটি প্রাসাদোপম৷ সেখানেই মঙ্গলবার রাতে এক অনুষ্ঠান চলছিল৷ স্থানীয় সূত্রে খবর, গৃহপ্রবেশ ও বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রাজকুমার৷ আড়াইশো প্রতিবেশী নিমন্ত্রিত ছিলেন৷ সেই অনুষ্ঠান চলাকলীনই বাড়ি থেকে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করে রাজকুমারকে৷  এদিন রাজকুমারকে বারাসত আদালতে তোলা হয়৷ ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে দিল্লি নিয়ে আসা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ ২০১৪ সালের অঙ্গ-প্রতিস্হাপন আইনের ১৮,১৯ ও ২০ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৩, ৪২০, ১২০বি, ৪৬৮, ৪৭১ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে রাজকুমারকে৷

কলকাতা ছাড়াও চেন্নাই ও হায়দরাবাদে পাচারচক্রের সদস্যদের খোঁজে পুলিশি অভিযান চলেছে৷ এখনও পর্যন্ত কিডনি পাচারচক্রের মোট ন’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ৷ দিল্লি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক এদিন জানিয়েছেন, ধৃত পাঁচজনকে জেরা করেই অপর তিনজনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে৷ তবে এদিন যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সকলেই কিডনিদাতা৷ এই তিনজনের মধ্যে দু’জনকে কানপুর, অপর একজনকে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ এই পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কয়েকজন কানপুর ও সংলগ্ন এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে৷ তাদের খুঁজে বের করতে সেখানে গিয়েছে পুলিশের একটি দল ৷

 

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে