Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
কলকাতায় আমফান সতর্কতা

রুদ্রমূর্তি ধারণ করছে আমফান, তুমুল ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা শহর কলকাতার

ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে কলকাতার দিকে ধাবমান সুপার সাইক্লোন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২০, ১২:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২০, ১২:৩৭

options
link
রুদ্রমূর্তি ধারণ করছে আমফান, তুমুল ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা শহর কলকাতার zoom

কৃষ্ণকুমার দাস: প্রকৃতি যে কোনও সময় রুদ্ররূপ ধারণ করে তাণ্ডবলীলা চালাতে পারে। সকাল থেকেই ঘরে থাকুন। ভুলক্রমেও বাইরে বেরবেন না। বাজারহাট না করাই ভালো – কলকাতা ও লাগোয়া শহরতলির বাসিন্দার জন্য এমনই বার্তা আবহাওয়া দপ্তরের। রাজ্য সরকারের প্রতিও তাদের পরামর্শ, আজ কলকাতার বাজার বন্ধ রাখা হোকষ পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস। নাগরিকদের কলকাতা পুলিশের তরফে অনুরোধ, বুধবার সকাল থেকে প্রত্যেকে বাড়িতে থাকুন। কারণ, সুপার সাইক্লোন আমফান তিলোত্তমার উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় আছড়ে পড়তে পারে। লন্ডভন্ড হতে পারে মহানগর। ভেঙে পড়তে পারে শহরের পুরোনা জরাজীর্ণ বাড়ি ও নির্মাণ। উপড়ে যেতে পারে অসংখ্য বড় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। এমনকী ছোট গাড়ি, ফুটপাতের দোকান, রাস্তার হোর্ডিং, ডাস্টবিনও উড়ে যেতে পারে বলে কলকাতা পুরসভার আশঙ্কা।

দুর্যোগ ও বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুরসভা ও লালবাজার অতিরিক্ত কন্ট্রোল রুম খুলেছে। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নিজে দুপুর থেকে রাতভর কন্ট্রোলরুমে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। নবান্ন থেকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী পুরসভার প্রস্তুতি নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে ফিরহাদের সঙ্গে কথা বলেন। কলকাতা নিয়ে কিছু নির্দেশও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমফান পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাকেও মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ পরামর্শ ও নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement

[আরও পড়ুন: কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলী নিয়োগ মামলা এবার গেল সুপ্রিম কোর্টে]

লকডাউনের  রশি একটু আলগা হতেই নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় দু’দিন পথে নেমেছিলেন মানুষ।  কিন্তু ফের ভয়ংকর দুর্যোগের সতর্কবার্তা। এবার আবহাওয়ার সুপার লকডাউন ঘোষণা করেছে জনপদে। মূলত বাংলার উপকূলবর্তী তিন জেলায় সুপার সাইক্লোন আমফানের ছোবলের অশনি সংকেত, কিন্তু রেহাই নেই কলকাতারও। আজ সারাদিনই দুরন্ত বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে অঝোরে চলবে ভারী বৃষ্টি, জানিয়েছেন আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস। তাঁর কথায়, “সকালের দিকে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৫ থেকে ৮৫ কিলোমিটার হলেও দুপুরের পর গতিবেগ ১১০-১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। পূর্ব কলকাতায় ঝড়ের বেশি প্রভাব পড়তে পারে।” ঝড়ের সময় বিএসএফ-এর তিনটি ভাসমান বর্ডার আউটপোস্ট ও ৪৫টি জলযান ইছামতী ও সুন্দরবনে উদ্ধারকাজে প্রস্তুত থাকছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে পুলিশ ও পুরসভা যৌথভাবে এদিন শহরে অভিযান চালিয়েছে। পুরভবনে এদিন ফের আমফান নিয়ে বৈঠকে শেষে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, “৫৯টি বিপজ্জনক বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে আনা হচ্ছে। অনেকে পুরোনো বাড়ি হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে আসতে চাইছেন না। কিন্তু তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।” বিপজ্জনক বাড়ি থেকে এনে কমিউনিটি হল ও স্কুলে যাদের রাখা হয়েছে তাদের খাবার পুরসভাই দিচ্ছে।  টালা ট্যাঙ্কের উপর ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিদেশি ক্রেন রয়েছে। ভেঙে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে তাই ঝড়ের গতিপথের সঙ্গে তাল মেলাতে সেটিকে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে মুখ্য প্রশাসক জানান। প্রতিটি বরোতে একজন প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে পে-লোডার ও গাছ কাটার সরঞ্জাম। ৭৪টি নিকাশি পাম্পিং স্টেশনকে ভারী বৃষ্টিতেও সচল রাখার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের এদিন থেকেই নিয়োগ করা হয়েছে।  
 
কলকাতা পুলিশের প্রত্যেক কর্তা ও থানার ওসিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করে পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা নির্দেশ দিয়েছেন, প্রত্যেক থানার ওসিকে চটজলদি নিজেদের এলাকায় পুরনো ভঙ্গুর বাড়ি শনাক্ত করতে হবে। যে বাড়িগুলো বেশি ভঙ্গুর, সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে অন্য শেল্টারে। সাইক্লোনে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকে, তাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে পর্যাপ্ত টর্চ। লকডাউনের কারণে প্রত্যেকদিন যেমন দুঃস্থ মানুষকে খাবার সরবরাহ করা হয়, তা-ও চালিয়ে যেতে হবে। নির্মীয়মান বহুতলের ক্রেন সরিয়ে নিতে হবে। আমফানের ধাক্কায় ক্রেন পড়ে গিয়েও বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকতে পারে।

[আরও পড়ুন: ছদ্মবেশি করোনা-বাহকের সন্ধানে কলকাতায় হবে ‘র‍্যান্ডম টেস্ট’]

কলকাতা পুলিশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের (ডিএমজি)-র পক্ষে ৯টি টিম প্রস্তুত। টিমগুলি শহরের নটি ডিভিশনে থাকছে। কোথাও গাছ পড়ে গেলে তাড়াতাড়ি রাস্তা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করবে ডিএমজি। লকডাউনের ফলে গঙ্গায় জলযান চলাচল বন্ধ। তবু বহু মানুষ গঙ্গায় সাঁতার কাটেন। ঘাট যাতে একেবারে ফাঁকা থাকে, সেই ব্যাপারে পুলিশ কড়া নজরদারি রাখা শুরু করেছে। তবু তৈরি কলকাতা পুলিশের ডুবুরিদের টিম।  আমফানের মোকাবিলায় ভাইজ্যাক থেকে ডুবুরিদের বিশেষ টিম উদ্ধারের সরঞ্জাম নিয়ে কলকাতায় এসেছে। সেই টিমকে পাঠানো হয়েছে ডায়মন্ডহারবারে। উদ্ধারকাজে রাজ্য সরকারকে এই ডুবুরি টিম সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে নৌসেনা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.