সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রশাসক নয়, কলকাতা পুরবোর্ডেরই (KMC) মেয়াদ অন্তত ছ’মাস বৃদ্ধির জন্য আইন দপ্তর ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চাইল রাজ্য সরকার। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মেয়র ও মেয়র পারিষদের পাশাপাশি ১৪৪ জন কাউন্সিলরেরই প্রশাসনিক ক্ষমতার মেয়াদও বাড়বে। সমান সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তৃণমূল, বাম, কংগ্রেস ও বিজেপির নির্বাচিত বর্তমান কাউন্সিলররাও।
পুরসভায় প্রশাসক বসলে করোনা মোকাবিলায় প্রতিটি ওয়ার্ডে এখন কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে যে মাইক্রোপ্ল্যানিং টিম কাজ করছে, তা পুরোপুরি ভেঙে যাবে। পুর-প্রশাসনে ওয়ার্ডভিত্তিক জনপ্রতিনিধির নিয়ন্ত্রণ না থাকলে করোনা ভাইরাসে শহরে মুহূর্তে মহামারির আকার নেওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকছে। বস্তুত এই কারণেই মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে আইনি দিকটি সরকারেরই ‘আইন দপ্তর’এ জানতে চেয়েছে রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।
[আরও পড়ুন: একটানা লকডাউনের জের, জুনে শুরু হবে উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখা]
আগামী ৭ মে কলকাতার চলতি পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন কলকাতা ও হাওড়ায় গত ১৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছিল। করোনার জেরে ভোট পিছোতেই কার্যত কলকাতা পুরসভায় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংকট হওয়াতেই মেয়াদ বৃদ্ধির ভাবনা। COVID-19 ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে পুরভোট না হওয়ার জন্যই কলকাতার পুরবোর্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির ভাবনার কথা রবিবার স্বীকার করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। পুর আইনের নানা ধারা ও উপধারার উল্লেখ করে ফিরহাদ বলেন, “নগরপালিকা আইন চালুর পর রাজ্যের অন্য পুরসভায় প্রশাসক বসা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ ও আইন আছে।কিন্তু কলকাতা কর্পোরেশনে প্রশাসক বসানো নিয়ে তেমন কোনও সুস্পষ্ট গাইডলাইন পাওয়া যাচ্ছে না। তাই করোনা মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে বোর্ডেরই মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্য সরকারের আইন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চেয়েছি।”
যদি শেষপর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি হয় তবে আগামী ৭ মে রাতের মধ্যেই রাজ্যকে রাজ্যপালের সম্মতি নিয়েই অর্ডিন্যান্স জারি করতে হবে। কারণ, পরদিন থেকে বর্তমান পুরবোর্ড আর কার্যকর থাকবে না। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। আপাতত কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বা প্রশাসকমণ্ডলী বসানো নিয়ে কোনও প্রস্তাব নবান্ন পাঠানো হয়নি বলে স্পষ্ট জানান পুরমন্ত্রী। ফিরহাদ জানিয়েছেন, “নির্দিষ্ট দিনেই রাজ্যের অন্য সমস্ত পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ শেষ হতেই প্রশাসক বসবেন। সেক্ষেত্রে কোনও আইনগত সমস্যা নেই, উন্নয়নও থামবে না।” অধিকাংশ পুরসভার বোর্ডগুলির মে ও জুন মাসের প্রথমার্ধ্বে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নির্বাচন আপাতত পুজোর পর নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে হতে পারে ধরেই প্রশাসক বসানো হবে। যদি পুরবোর্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি না করার আইনি পথ না পাওয়া যায় তবে ১৪৪টি ওয়ার্ডেই দলমত নির্বিশেষে বর্তমান কাউন্সিলরদেরই সরকারি প্রতিনিধি করার সুপারিশ করতে পারেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
[আরও পড়ুন: নজিরবিহীন উদ্যোগ কলকাতা প্রেস ক্লাবের, সাংবাদিকদের করোনা পরীক্ষা হবে ট্রপিক্যালে]
করোনা নিয়ে রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে সেই প্রেক্ষাপটে মেয়াদ বৃদ্ধির আইনি পথ পাওয়া গেলে রাজ্যপাল কি আদৌ অর্ডিন্যান্সে স্বাক্ষর দেবেন? প্রশ্ন মহাকরণের পুর দপ্তর থেকে মন্ত্রী মলয় ঘটকের আইন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের। অবশ্য পুর আধিকারিকদের একাংশের মত, করোনার মতো একটা ভয়ংকর প্রেক্ষাপটে যদি আইনি যুক্তি দিয়ে রাজ্যপালকে বোঝানো যায় তবে তিনি বোর্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির অর্ডিন্যান্সে স্বাক্ষর দিতেও পারেন। কারণ, প্রস্তাবে তৃণমূল, বিজেপি ও বাম, সমস্ত দলেরই কাউন্সিলরদের মেয়াদ ও ক্ষমতা সমানভাবে বাড়িয়ে দেওয়া যাবে।
উলটোদিকে প্রতিটি ওয়ার্ডে সমস্ত দলের কাউন্সিলররাই স্বেচ্ছাসেবী ও বুথ কর্মীদের নিয়ে করোনা মোকাবিলায় যে টিম তৈরি করেছেন তা ভেঙে গেলে যে মহামারী সৃষ্টি হতে পারে তার দায় কি রাজভবন নেবে? যদিও রাজভবনের সেই সম্মতির নেপথ্যে রাজ্য বিজেপির মতামত যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে বলে স্থির বিশ্বাস পুরকর্তাদের। কিন্তু সেখানেও পরবর্তীতে নির্বাচনী ইস্যু হতেই পারে করোনা সংক্রমণ এবং মোকাবিলায় তৃণমূল ও বিজেপির ভূমিকা। নির্দিষ্ট সময়ে কলকাতার পুরভোট না হওয়ার পর পুরমন্ত্রী ফিরহাদের এই পুরবোর্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি আসলে একটা মাস্টার স্ট্রোক। কারণ, একদিকে মেয়াদ বাড়লে করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ ও নজরদারি কর্মসূচি দিয়ে মানুষের আরও কাছে পৌঁছবে তৃণমূল। ভয়ংকর দুর্যোগে যখন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় নেমে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তখন বিজেপি নেতারা ঘরে বসে শুধুই ‘রাজনৈতিক তোপ’ দাগছেন। অন্যদিকে, আইনি সুযোগ পাওয়ার পরেও বিজেপি ও রাজ্যপাল যদি অর্ডিন্যান্সে সম্মতি না দেন আর করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না যায় তবে তার পুরো দায় গেরুয়া শিবিরের ঘাড়ে পড়বে।
সর্বশেষ খবর
-
পুলিশ হেফাজতেই সোমনাথের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার! ফের হাজতে নির্মল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা
-
‘ট্রিপল ইঞ্জিনেও বিপর্যয়’, দিল্লিতে বাড়ি ভাঙার ঘটনায় ‘দায়বদ্ধতা’ নিয়ে প্রশ্ন রাহুলের
-
মুসলিম হয়েও দোকানের নামে হিন্দুত্বের ছোঁয়া! মালিকের ধর্ম পরিচয় লেখার ‘নিদান’ সনাতন জাগরণ মঞ্চর
-
স্বার্থ সংঘাত বিতর্ক যাচ্ছে আদালতে, ‘ভুল’ ধরিয়ে পালটা দিলেন সৌরাশিসও, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাপে সিএবি!
-
মিরিকে অবরুদ্ধ রংভং নদী থেকে জল বার করার কাজ শুরু, সিকিমে স্বাভাবিকের পথে তিস্তা