অর্ণব আইচ: শহরের প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বাড়তি নজর কলকাতা পুলিশের৷ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মার নির্দেশ, একা বসবাসকারী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের বাড়ি আনতে হবে সিসিটিভি নজরদারির আওতায়৷ বৃহস্পতিবার তাঁরই নির্দেশে নিউ আলিপুরের ওসি নেতাজিনগর এলাকার এক বৃদ্ধার বাড়িতে যান৷ ওসির তত্ত্বাবধানে লাগানো হয় সিসিটিভি৷ স্থানীয় থানা থেকে ওই সিসিটিভিগুলিতে নজরদারি চালানো হবে৷ এছাড়াও ওই বৃদ্ধার ঘরের দেওয়ালে জরুরিকালীন, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নম্বর লিখে টাঙিয়ে দেওয়া হয়৷ কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে খুশি ওই বৃদ্ধা৷
[আরও পড়ুন: শহরে ফের মেট্রো বিভ্রাট, নেতাজি স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হল যাত্রীদের]
সোমবার রাতে নেতাজিনগরে খুন হয়েছেন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা। তার কিছুদিন আগে বেহালায় বৃদ্ধা খুন হয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরেও নৃশংসভাবে খুন করা হয় বৃদ্ধ দম্পতিকে। পরপর এই ঘটনার জেরে এবার এসওপি তৈরি করল লালবাজার।
বুধবার কলকাতা পুলিশের প্রত্যেক পদস্থ কর্তা এবং মূলত দক্ষিণ কলকাতার থানার আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। লালবাজারের এক কর্তা জানান, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের প্রকল্প ‘প্রণাম’ রয়েছে। এবার এসওপি বা বিশেষ নির্দেশিকা তৈরি করে প্রত্যেক ডিভিশনের ডিসি এবং থানার ওসিদের তা পাঠানো হচ্ছে। প্রবীণদের জন্য একটি হেল্পলাইন রয়েছে। সেই নম্বর – ৯৮৩০০৮৮৮৮৪। তাতে কেউ ফোন করলেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নম্বরটি ১০০ ডায়ালের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে।
[আরও পড়ুন: রামমোহন মিউজিয়ামে রহস্যজনক চুরি, তদন্তে গোয়েন্দারা]
পুলিশ কমিশনারের দেওয়া নির্দেশিকা:
১. যে বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা মূলত একা থাকেন, অথবা যে বৃদ্ধ দম্পতির সন্তান কাছে থাকেন না, তাঁদের উপর মূলত গুরুত্ব দিতে হবে।
২. তৈরি করতে হবে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ডেটাবেস, যাতে তাঁদের সম্পূর্ণ পরিচয়, আয়া বা নার্স, যাঁরা প্রত্যেকদিন বাড়িতে আসেন, দুধওয়ালা বা কাগজওয়ালাদের পরিচয় জানা হবে।
৩. বাড়িতে কোনও মিস্ত্রি কাজ করলে তা যেন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধারা পুলিশকে জানান। কোন ঠিকাদারের আওতায় কোন মিস্ত্রিরা কাজ করছে, তা জানতে হবে পুলিশকে।
৪. এখন কলকাতা পুলিশের প্রণাম প্রকল্প ১৪ হাজার সদস্য-সদস্যা রয়েছেন। প্রত্যেকেই যাতে ‘প্রণাম’ প্রকল্পের আওতায় আসেন, তা দেখতে হবে।
৫. প্রত্যেক থানার ওসি তাঁর পুলিশকর্মীদের নিয়ে বিট মিটিং করতে হবে৷ একেকটি থানায় আট থেকে দশটি বিট রয়েছে। প্রত্যেক বিটের কনস্টেবলরা সপ্তাহে একবার করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের খবর নেবেন। ১৫ দিন অন্তর তাঁদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলবেন।
৬. সিকিউরিটি অডিট করা হবে। বাড়িতে লোহার গেট-গ্রিল, ডোর বেল, বেয়ে ওঠার মতো দেওয়াল, বিতর্কিত ভাড়াটে, সিসিটিভি কী অবস্থায় আছে, খতিয়ে দেখে ফাইল তৈরি করা হবে।
৭. প্রত্যেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধার বাড়িতে অ্যালার্ম বেল থাকবে। কোনও সমস্যা দেখলেই তিনি সেই অ্যালার্ম বাজিয়ে বাইরের লোককেও সতর্ক করতে পারবেন।
এই নির্দেশিকাগুলি মানা হচ্ছে কি না, তা অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনারদের খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চালু হচ্ছে ‘নেবারহুড পোলিসিং’, অর্থাৎ প্রতিবেশীদের অনুরোধ করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা প্রবীণদের বাড়িতে কোনও অস্বাভাবিক কিছু দেখলেই যেন পুলিশকে জানান।
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক