Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাড়ির মধ্যেই নৃশংসভাবে খুন সিভিক ভলানটিয়ার, স্বামীকে আটক করল পুলিশ

মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভারী বস্তু দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয় মুখ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০১৮, ১৫:০২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০১৮, ১৫:০২

options
link
বাড়ির মধ্যেই নৃশংসভাবে খুন সিভিক ভলানটিয়ার, স্বামীকে আটক করল পুলিশ zoom
Advertisement

কলহার মুখোপাধ্যায়: বাড়ির মধ্যেই নৃশংসভাবে খুন সিভিক ভলানটিয়ার। মৃতের নাম শম্পা দাস। পেশায় সিভিক পুলিশ শম্পাদেবী নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অধীনে ইকোপার্কে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাস্থল কৈখালির চিড়িয়াবাজার এলাকা। বাড়িতেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় শুক্রবার রাতে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান শম্পাদেবীকে খুনের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে শিলনোড়া জাতীয় কোনও ভারী বস্তু দিয়ে উপর্যুপরি মুখে আঘাত করা হয়েছে। যার ফলে তাঁর মুখ পুরো বিকৃত হয়ে গিয়েছে। শরীরে অন্য কোথাও আঘাতের কোনও চিহ্নই নেই। মৃতের স্বামী সুপ্রতীম দাসের দাবি স্ত্রী অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পরই তিন চারজনের একটি দল বাড়িতে ঢুকে পড়ে, প্রায় জোর করেই। অভিযোগ, তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। শম্পাদেবী এই ঘটনায় বাধা দিতে আসলে দুষ্কৃতীরা তাঁর উপরে চড়াও হয়। বেধড়ক মারধর শুরু করে। ওরাই তাঁকে মেরে ফেলেছে। তবে দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকায় এর বেশি কিছুই জানেন না তিনি।

[গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারে মৃত্যু পড়ুয়ার, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের]

এদিকে সুপ্রতিম দাসের যুক্তি পুলিশের ধোপে টেকেনি। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। শম্পাদেবীর মৃত্যুতে স্বামী সুপ্রতিম দাসের বক্তব্য নিয়ে ধন্দে পুলিশ। সন্দেহের তির শাশুড়ি মীরা দাসের দিকেও। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না। ১৩ বছরের নাতি তরমুজ খাওয়ার বায়না করছিল। তাই তাকে নিয়ে ফল কিনতে যান। তবে কৈখালি বা এয়ারপোর্ট চত্বরে নয়, তিনি গিয়েছিলেন বাগুইআটিতে। মীরাদেবীর এহেন বক্তব্যে পুলিশের মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। কেননা রমজান উপলক্ষে মুসলিম অধ্যুষিত কৈখালিতে ফলের বাজার তৈরি হয়েছে। তাই সেই বাজার ছেড়ে মীরাদেবী রাতে কেন বাগুইআটিতে যাবেন তা স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। এই প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক জবাবও দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে সুপ্রতিম দাসের বক্তব্য নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। খুনের খবর পেয়ে রাতে পুলিশ যখন দাস বাড়িতে পৌঁছাল, তখন দোতলার ঘরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় ছিলেন সুপ্রতিমবাবু। তবে গায়ের সঙ্গে লম্বালম্বিভাবে দড়ি থাকলেও চেয়ারের সঙ্গে তাঁকে বাঁধা হয়নি। গলায় গামছা পেচানো থাকলেও তা ফাঁসের আকারে ছিল না। তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা লুটপাটের জন্য এসেছিল। তাতে বাধা দেওয়াতেই খুন হয়েছেন স্ত্রী শম্পা দাস। কিন্তু পাশের ঘরের যাবতীয় জিনিসপত্র অগোছালো থাকলেও মূল্যবান গয়না থেকে শুরু করে টাকাপয়সার কোনওকিছুই খোয়া যায়নি। এমনকী, সুপ্রিতমবাবুর দু’হাতের আট আঙুলে ছুরিতে কাটার দাগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যেকটা দাগ একই মাপের। দুষ্কৃতীরা এমন হিসেব মাফিক কাটবে, মানতে পারছে না পুলিশ। তাই  স্ত্রী খুনের পিছনে স্বামী সুপ্রতিম দাসের হাত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে সন্দেহের বাইরে নেই শাশুড়ি মীরা দাসও।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[বন্ধুকে খুনের অভিযোগে শহরের বহুতল থেকে ধৃত গুয়াহাটির হোটেল ব্যবসায়ী]

জানা গিয়েছে, বাড়ির প্রবেশপথে ভারী কিছু টেনে নিয়ে যাওয়ার দাগ রয়েছে। সেই দাগ রক্তের। দোতলার সিড়ির ল্যান্ডিংয়ে আধশোয়া অবস্থায় ছিল শম্পাদেবীর দেহ। মুখে বালিশ চাপা দেওয়া। বালিশ সরাতেই বীভৎসতা নজরে আসে। স্থানীয়দের বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সুপ্রতিম দাস বাড়িতেই থাকতেন। সংসারে শম্পাদেবীই একমাত্র উপার্জনকারী। তবে তাঁর সঙ্গে অনেকেরই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। সুপ্রতিমবাবুর কানেও সেসব পৌঁছায়। এনিয়ে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। এর জেরেই এই খুন কিনা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু করেছে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.