Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
আইনজীবী

পোস্তায় ৭০ লক্ষ লুটের মাস্টারমাইন্ড আইনজীবী, মুম্বইতে ফূর্তি করে ফিরে জালে দুই সঙ্গী

আনিস রহমান নামে হাওড়া আদালতের ওই আইনজীবীকে খুঁজছে পোস্তা থানার পুলিশ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৯, ০৯:১৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৯, ০৯:১৫

options
link
পোস্তায় ৭০ লক্ষ লুটের মাস্টারমাইন্ড আইনজীবী, মুম্বইতে ফূর্তি করে ফিরে জালে দুই সঙ্গী zoom
Advertisement

অর্ণব আইচ: সুবিচার চেয়ে আইনের আঙিনায় সওয়াল করা যাঁর পেশা, তিনিই পোস্তার গদি থেকে উধাও করলেন ৭০ লাখ টাকা। এবার চুরিতে সরাসরি জড়াল এক আইনজীবীর নাম। আনিস রহমান নামে হাওড়া আদালতের ওই আইনজীবীকে খুঁজছে পোস্তা থানার পুলিশ। পোস্তার গদি থেকে এই টাকা চুরি করে উধাও হয়ে যায় ওই আইনজীবীর দুই সঙ্গীও। প্রচুর টাকা হাতে পেয়ে রীতিমতো বিমানে করে মুম্বই। সেখানে বিলাসবহুল হোটেলে রাত কাটিয়ে হাতের টাকা শেষ। তাই তারা ফিরে আসে কলকাতায়। আশ্রয় নেয় হাওড়ার একটি গোপন আস্তানায়। সেখান থেকে দীপক শর্মা আর ভিকি নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দীপক শর্মা নিজেই ওই গদির কর্মচারী ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত পোস্তা থানা এলাকার শিবঠাকুর লেনে। এখানেই এক ব্যবসায়ীর সোনা ও কাপড়ের গদি। এই গদিতে কাজ করত দীপক শর্মা। সে বড়বাজারের বাসিন্দা। তারই প্রতিবেশী ও ছোটবেলার বন্ধু ভিকি গত কয়েক বছর আগে বড়বাজার থেকে হাওড়ার পিলখানায় গিয়ে থাকতে শুরু করে। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় হাওড়া কোর্টের আইনজীবী রহমানের সঙ্গে। ভিকি রহমানের সঙ্গে দীপকের পরিচয় করিয়ে দেয়। দীপকের মুখ থেকেই রহমান জানতে পারে যে, মাঝেমধ্যেই ওই গদিতে প্রচুর টাকা আসে। দু’একদিন সিন্দুকে রেখেও দেওয়া হয়।

Advertisement

অভিযোগ উঠেছে, ওই আইনজীবী নিজেই গদি থেকে লুঠপাটের ছক কষেন। দীপককে বলেন, তাঁকেই সিন্দুক খুলতে হবে। প্রথমে দীপক রাজি হয়নি। আইনজীবী তাকে বোঝান, যদি তারা চুরি করতে গিয়ে ধরাও পড়ে যায়, তবে তিনিই তাদের হয়ে আদালতে দাঁড়িয়ে জামিন করিয়ে নেবেন। আইনজীবীর ফাঁদে পা দেয় দীপক। ছিল ভিকিরও মদত।

কিছুদিন আগেই ৭০ লাখ টাকা আসে ওই গদিতে। দীপক সেই খবর দেয় আইনজীবীকে। সকালে গদির দরজা খুলত দীপকই। সে জানতে সিন্দুকের চাবি কোথায় লুকানো থাকে। সকালেই হাওড়া থেকে ভিকিকে নিয়ে চলে আসেন আইনজীবী। দীপক সিন্দুক খুলে ৭০ লাখ টাকা লুট করে। আইনজীবীর হাতে তুলে দেয়। সেই টাকা নিয়ে তিনজন বেরিয়ে পড়ে। গদির মালিক এসে দেখেন, সিন্দুক থেকে টাকা উধাও। তার সঙ্গে দীপকও। পোস্তা থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গদি থেকে টাকা নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ওই আইনজীবী। দীপক ও ভিকিকেও বের হতে দেখা যায়।

জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে তারা দু’জনই বিমানে করে উড়ে যায় মুম্বই। সেখানে দিনকতক আনন্দেই কাটায় তারা। কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় টাকা। দীপক আর বড়বাজারে ফেরেনি। সে ভিকির সঙ্গে হাওড়ার পিলখানায় আশ্রয় নেয়। সেই খবর পুলিশের কাছে আসে। তল্লাশি চালিয়ে দীপক ও ভিকিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা চুরির বিষয়টি স্বীকার করে। যদিও তাদের কাছ থেকে টাকা পাওয়া যায়নি। তাদের সূত্র ধরে আইনজীবীকে ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.