১১ ফাল্গুন  ১৪২৬  সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

শুভঙ্কর বসু: ভগবানের কি কোনও ঠিকানা আছে? অন্তত খাতায় কলমে? এ নিয়ে দ্বন্দ্ব বিস্তর। এমনকী, এর উপর ভিত্তি করে আস্ত একটা সিনেমার প্লট তৈরি হয়েছে। যেখানে ‘ভগবানের কর্ম’ উল্লেখ করে ইনসিওরেন্স কোম্পানি ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে অস্বীকার করায় খোদ ঈশ্বরের নামেই মামলা ঠুকে দেন ছবির নায়ক। যদিও ঈশ্বরের ঠিকানায় আইনি নোটিস পৌঁছতে গিয়ে বিস্তর তাঁকে বিলক্ষণ বেগ পেতে হয়েছিল। এ তো গেল রুপোলি পর্দার কথা। কিন্তু বাস্তবেও যে এমন ঘটনা চোখে পড়ছে! ইশ্বরের যে ঠিকানা দেশ, এমনকী বিদেশের মানুষও জানেন, সেখানে চিঠি পাঠালে পৌঁছচ্ছে না। ফেরত আসছে প্রেরকের কাছে। যে জন্য ঠিকানায় ‘পর্যাপ্ত তথ্য’ না থাকার যুক্তি খাড়া করেছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। যা শুনে তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছে আদালত।

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ, এই সব ছেঁদো যুক্তি পাশে সরিয়ে ডাক বিভাগ কাজের কাজ করুক। পোস্ট মাস্টার জেনারেলকে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রে বাংলার দুই জনপ্রিয় তীর্থক্ষেত্র কলকাতার কালীঘাট ও বীরভূমের তারাপীঠ। রাজ্য তো বটেই, দেশ এমন কী, বিদেশ থেকে নিত্য যেখানে লাখো পুণ্যার্থীর আনাগোনা। কিন্তু অভিযোগ, ইদানীং কালীঘাট, তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষকে জরুরি চিঠি বা আইনি নোটিস পাঠালে ফেরত আসছে। ডাক বিভাগের দাবি, দুই মন্দিরের ঠিকানা ‘অপর্যাপ্ত’ হওয়ায় চিঠি পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না।

[আরও পড়ুন: মিলল রেলের অনুমতি, শীঘ্রই তৈরি হবে টালা ব্রিজের বিকল্প লেভেল ক্রসিং]

ধর্মের নামে চলতে থাকা পাঁচশো বছরের পশুবলির রীতি বন্ধের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছেন জনৈক দয়ানন্দ স্বামীজি। তারই সূত্রে এই টানাপোড়েনের সূচনা। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিচার করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণণ ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ প্রস্তাব দেয়, রাজ্যের যে দুই মন্দিরে সবচেয়ে বেশি পশুবলি হয়, এ ব্যাপারে তাদের মতামত না নিলে বিচার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই ওই দুই মন্দিরকে মামলায় পক্ষ করা হোক। দয়ানন্দ স্বামীজির কৌঁসুলি মেঘনাদ দত্তকে আদালত নির্দেশ দেয়, কালীঘাট ও তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষকে মামলায় পক্ষ করে নোটিস পাঠাতে হবে। এখানেই বিপত্তির শুরু। নির্দেশমতো কালীঘাট ও তারাপীঠ মন্দিরের ঠিকানায় আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন মেঘনাদবাবু। আশ্চর্যজনকভাবে নোটিস ফেরত আসে। ডাক বিভাগ ‘ইনসাফিসিয়েন্ট অ্যাড্রেস’-এর যুক্তি দেয়। মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন মেঘনাদবাবু। “নির্দেশমতো ভারতীয় ডাক বিভাগের স্পিডপোস্ট মারফত কালীঘাট ও তারাপীঠ মন্দিরে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ‘ঠিকানা অপর্যাপ্ত’ লিখে ডাক বিভাগ তা ফেরত পাঠিয়েছে।”
শোনামাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়ে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “কালীঘাট ও তারাপীঠের মতো সুপরিচিত তীর্থস্থান যারা চিনতে পারে না, তারা ডাক বিভাগে কাজ করার যোগ্য কি না ভাবার সময় এসেছে।” ক্ষুব্ধ বেঞ্চের মন্তব্য, “পচে যাওয়া কাঠ ছেঁটে ফেলাই ভাল। তা না করতে পারলে গোটা গাছই মারা পড়তে পারে।” এর পরই পোস্টমাস্টার জেনারেলকে গোটা ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলে ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি তাদের নির্দেশ, কালীঘাট ও তারাপীঠ মন্দিরকে এবার হাই কোর্ট রেজিস্ট্রি মারফত আইনি নোটিস পাঠাতে হবে।

[আরও পড়ুন: রাতারাতি পদ্ম হল ঘাসফুল! বাবুলের উদ্বোধন করা কার্যালয়ে নতুন করে ফিতে কাটলেন জিতেন্দ্র]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং