দীপালি সেন: উচ্চমাধ্যমিকের (HS) উত্তরপত্রে চিহ্নিত রয়েছে সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নগুলির (এসএকিউ) উত্তর লেখার স্থান। গোটা উত্তরপত্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নয়, নির্ধারিত স্থানেই লিখতে পরীক্ষার্থীদের লিখতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলির উত্তর। কিন্তু, গণিত বিষয়ের পরীক্ষায় এসএকিউ-এর উত্তর লেখার জন্য সেই জায়গা কম পড়তে পারে। এমনই আশঙ্কা শিক্ষক মহলের একাংশের।
তাঁদের বক্তব্য, অন্যান্য বিষয়ে কয়েকটি শব্দে বা সর্বোচ্চ এক থেকে দু’টি বাক্যে এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া যায়। কিন্তু, গণিতে দুই নম্বর মানের এসএকিউগুলির উত্তরে অঙ্ক কষে দেখাতে হয়। সেক্ষেত্রে উত্তর লেখার স্থান সংকুলানের অভাব দেখা দিতে পারে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ”সবদিক চিন্তাভাবনা করেই এবছর প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আমরা জায়গা বুঝেই প্রশ্ন তৈরি করতে বলেছিলাম। আশা করা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের কোনও সমস্যা হবে না।”
[আরও পড়ুন: নিয়োগ দুর্নীতি: কফিশপে বসে চাকরির দরদাম কুন্তল-শান্তনুর! সিসিটিভি ফুটেজ চাইছে ED]
এবছর প্রথমবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় দু’টি ভাগের পরিবর্তে একটি প্রশ্নপত্র ও একটিই উত্তরপত্র করা হয়েছে। কিন্তু, পরীক্ষার্থীরা এমসিকিউ ও এসএকিউগুলির উত্তর গোটা উত্তরপত্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লিখলে মূল্যায়নের কাজটা জটিল হয়ে যেত। সে কথা মাথায় রেখে উত্তরপত্রে এই দু’ধরনের প্রশ্নের উত্তর লেখার স্থান চিহ্নিত করে দেয় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। উত্তরপত্রের টপ-শিটের পরের পাতাতেই এমসিকিউ ও তার পরের দু’টি পাতায় এসএকিউ লেখার জায়গা রয়েছে। সর্বোচ্চ ১৬টি এসএকিউ প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য ক্রমানুসারে দুই পাতাজুড়ে ১৬টি বক্স করা আছে। এক-একটি বক্সে একটি থেকে দু’টি লাইনের বেশি লেখা যাবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন সংসদ সভাপতি। উত্তর লিখতে বলেছিলেন অতি সংক্ষেপে। গণিতের ক্ষেত্রে তা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
ভীমপুর স্বামীজি বিদ্যাপীঠের গণিত বিষয়ের শিক্ষক নির্মল ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘অঙ্কের ক্ষেত্রে কষে দেখানোর ব্যাপার থাকে। কিছু অঙ্কে ক্যালকুলেশন একটু বেশি হলেই জায়গাটা পর্যাপ্ত হবে না। বিগত বছরের দুই নম্বর মানের প্রশ্নগুলি দেখে মনে হচ্ছে, সমস্যা হতে পারে।’’ কলেজিয়াম অফ অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘এক-দুই ধরনের অঙ্ক ছাড়া, যতই ছোট করে লিখুক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওই জায়গায় উত্তর লেখা মুশকিল। জায়গাটা খুবই অপর্যাপ্ত। এযাবৎকালে উচ্চমাধ্যমিকে আসা এসএকিউগুলি দেখে বলতে পারি, ওই জায়গায় উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না।’’ জানা গিয়েছে, বিগত বছরগুলিতে উচ্চমাধ্যমিকে আসা এসএকিউগুলির অধিকাংশেরই উত্তর লেখার জন্য প্রায় অর্ধেক পাতাজুড়ে অঙ্ক কষতে হয়। সংসদ সভাপতি বলেছেন, সবদিক মাথায় রেখেই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে। আগামী সোমবার গণিত পরীক্ষাতেই তা বোঝা যাবে বলে মত শিক্ষকদের।
[আরও পড়ুন: রাজ্যে টাটার প্রত্যাবর্তন! কারখানা খুলছে খড়গপুরে, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর]
সর্বশেষ খবর
-
একশোর বদলে পাঁচশোর নোটের টোপ! কমিশনের লোভে ব্যবসায়ী পেলেন সাদা কাগজের টুকরো
-
তৃণমূল জমানায় অবহেলা! দুর্যোগ-বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গকে স্বমহিমায় ফেরাতে আড়াইশো কোটি বরাদ্দ শুভেন্দুর
-
নিজের গড় রেজিনগরেই হারের ভয়! উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মহাজোট চাইছেন হুমায়ুন
-
আপত্তি শুধু ‘সেক্যুলার’ কংগ্রেসের! নিয়ম মেনে বন্দে মাতরম পুরোটা দাঁড়িয়ে সম্মান আবদুল্লাদের
-
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন